এম.এ আজিজ রাসেল:
করোনার কারণে লাটে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। দেউলিয়া হয়েছে শত শত ব্যবসায়ী। জেলার অর্থনীতির কাঠামো ভঙ্গুর প্রায়। এই মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পান চাষীরা।
করোনা জন্য চলতি মৌসুমের ব্যবসায় ধস নেমেছে। পানের দাম কমে যাওয়ায় অনেক চাষী পাড়ি জমিয়েছে অন্য পেশায়। বাকিরাও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছেন।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে ৫ হাজার কৃষক পান চাষের সাথে জড়িত। তার মধ্যে ৩০ হাজার কৃষক মহেশখালী উপজেলার। এসব চাষী দুই ধরণের পান চাষ করেন। বর্ষা মৌসুমে যেসব এলাকায় পানি উঠে তারা মৌসুমের ৬ মাস পান চাষ করেন। আর যেখানে পানি উঠে না তারা উঁচু স্থানে সারা বছর পান চাষ করেন। অক্টোবর থেকে পুরোনো বরজ ভেঙ্গে নতুনভাবে চাষ শুরু হয়। জানুয়ারী থেকে জুলাই বা আগষ্ট পর্যন্ত পানের মৌসুম।
ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে করোনার জন্য ব্যাহত পণ্য পরিবহন। যার কারণে আমদানি করা যায়নি আশানুরূপ পান। জেলার অন্যান্য স্থানেও পান বিক্রি করতে পারেননি চাষীরা।
এদিকে কড়া নাড়ছে আগামী মৌসুম। কিন্তু এখনও রয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ পান। এই অবস্থায় দিশাহীন হয়ে প্রহর গুনছেন অসংখ্য কৃষক। আগামী মৌসুমে পান চাষের জন্য পুঁজিও নেই তাদের। ফলে হুমকীর মুখে পড়েছে সম্ভবনাময় এই খাত।
মহেশখালীর পান চাষী ফরিদুল আলম বলেন, চাষ করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। করোনা জন্য চলতি মৌসুমের ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। পানির দামেও কেউ পান কিনছে না। লোকসান দিয়ে অনেক পানচাষী পথে বসেছে।
টেকনাফের কৃষক বদিউল আলম বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে দফায় দফায় লকডাউন দেয়া হয়। এ জন্য অভ্যন্তরীণ পান রপ্তানিতে বিঘœ ঘটে। বরজে পান পড়ে থাকায় ব্যাপক দরপতন হয়েছে।
উখিয়ার কৃষক হেলাল বলেন, এবার পান বিক্রিতে চরম লোকসান গুনেছে বিক্রেতারা। যার জন্য অনেক কৃষক পানের দিকে মনযোগ না দিয়ে আউশ ও সবজি চাষে নেমেছে।
চকরিয়ার কৃষক আলমগীর বলেন, বর্গা নিয়ে এখানকার অধিকাংশ কৃষক পান চাষ করেছিলেন। কিন্তু করোনা কষকদের স্বপ্ন মাটি করে দিয়েছে। ঋণ নিয়ে পুঁজি খাটানো কৃষকরা পথে বসেছে। বর্তমানে জমির মালিকসহ কিভাবে ব্যাংক ঋণ সুধ করবে এ নিয়ে হতাশা ডুবে রয়েছে সবাই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, করোনাকালীন কৃষকরা সঠিকভাবে পান বাজারে পৌছাতে পারেনি।
লকডাউনে পান পরিবহনে বাঁধা ছিলনা। কিন্তু তবুুও পদে পদে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে গাড়ি চালকেরা পান বহন করতে অপরাগতা জানায়। সব দিক দিয়ে পান চাষীদের জন্য তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। যার কারণে এবার পানের ব্যাপক দরপতন হয়।
তবে আশার কথা হলো, করোনা সংকটের কথা বিবেচনা করে সরকার সহজ শর্তে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে কৃষি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে ঋণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবারও নতুনভাবে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবেন কৃষকেরা।
বাংলাদেশ সময় ১৬০৭ ঘণ্টা, ১৭ জুলাই ২০২০
আআর/আএন