সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। ভারতের গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে প্রথমে লিড আদায় করে নেপাল। তবে বিরতির আগে ঋতুপর্ণার অলিম্পিক গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ে গোল করে বাংলাদেশকে জয়ের আনন্দে এনে দেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।
ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশকে চাপে রাখে নেপালের মেয়েরা। গত দুই আসরের ফাইনাল হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তার ফল পাওয়া যায় ২২তম মিনিটে। দীপা শাহীর কর্নার কিক থেকে আসা বল হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তার। কিন্তু সেই পাঞ্চের পর বলটি ডি-বক্সের ভেতরেই ফাঁকায় থাকা গীতা রানার সামনে পড়ে। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি রানা।
পিছিয়ে পড়ার পরের মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কর্নার থেকে ঋতুপর্ণার চমৎকার শটে সুযোগ তৈরি হলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। ৩৫তম মিনিটে দূরপাল্লার একটি শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন মিলি। ডি-বক্সের খানিক দূর থেকে আসা বুলেট গতির শটটি লাফিয়ে উঠে মিলি হাত দিয়ে টিপ করেন এবং বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চেনা ছন্দে ফেরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। যার ফল মেলে ৪৫তম মিনিটে। ঋতুপর্ণা সরাসরি কর্নার থেকে নেয়া ‘অলিম্পিক গোলে’ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ১-১ স্কোরলাইনের স্বস্তি নিয়ে মারিয়া মান্ডার দল।
বিরতির পর ৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে সাগরিকা সেই সুযোগ হাত ছাড়া করেন। নেপাল অধিনায়ক গোলকিপার সুব্বা লাফিয়ে উঠে ঘুষি মেরে সাগরিকার শটটি ফিরিয়ে দেন। পরে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সামসুন্নাহার জুনিয়র ক্রস থেকে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। নিজে শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বল ক্রস করেন সামসুন্নাহার জুনিয়র।
এই জয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশের বাঘিনীরা। ২০২২ সালে প্রথমবার সাফের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালে ফের চ্যাম্পিয়ন হয়।