• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

সন্ত্রাসের জনপথ রুমালিয়ারছড়ায় ৬০ ইয়াবা কারবারি চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিদেক / ৩০১৯ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০
প্রতীকী ছবি

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার শহরের ৭নং ওয়ার্ড রুমালিয়ারছড়া এলাকা ইয়াবা ট্যাবলেটের ডিপোতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ঘরে এখন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অবস্থান এবং আনাগোনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, বাঁচা মিয়ার ঘোনা, সমিতি বাজার, সিকদার পাড়া ও টেকনাফের পাহাড় এলাকায় বিচরণ রয়েছে কারবারিদের। দিন দিন বাড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও। এরমধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুন।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসা অনেকেই পুঁজি হিসেবে হাতে নিয়েছে। পাহাড়ি এলাকা ও ঘনবসতি হওয়ায় নিরাপদে বেশ সফলভাবে চলছে তাদের ব্যবসা। পুলিশও বলছে, এসব এলাকায় ইয়াবা কারবারি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ঘরে ইয়াবা কারবারি। এরমধ্যে অনেকে চিহ্নিত। তাদেরকে আটকে নিয়মিত অভিযান চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭ নং ওয়ার্ড রুমালিয়ারছড়ার একটি বিশাল অংশ ইয়াবা কারবারে জড়িত। এরমধ্যে অধিকাংশ তরুণ। রয়েছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীও। এলাকার কিছু পাতি নেতা এদের আশ্রয় প্রশয়। তারা সুযোগ বুঝে জমি দখলেও অংশ নেয়। একজন ব্যক্তি নিজেকে কক্সবাজারের এক সাংসদের পিএস পরিচয় দিয়ে রুমালিয়ারছড়া এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ ও জমি দখলের মতোও অপরাধ করেছে বলে দাবী করছে স্থানীয় একটি সূত্র।

ভয়েসওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমের অনুসন্ধানে উঠে আসে রুমালিয়ারছড়া এলাকার প্রায় ৬০ জনের একটি ইয়াবা কারবারির তালিকা। যেখানে অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামী । রয়েছে পলাতক আসামীও। অনেকেই আত্মগোপনে থেকে ইয়াবা কারবার করে যাচ্ছে নিয়মিত।

তালিকা মতে, ইয়াবা কারবারে রুমালিয়াছড়ার টেকনাইফ্যা পাহাড় এলাকায় রয়েছে- নুরুল আলমের ছেলে নুর নবী, আবুল কালাম, ইউসুফের স্ত্রী হোসনে আরা, হাসান আলীর ছেলে জামাল, মুনর ছেলে হামিদুল্লাহ, নুর মোহাম্মদের ছেলে বাবু, কাজল, খুইল্যা মিয়ার ছেলে সালমান শাহ, আলী আহম্মদের ছেলে আবদুর রহিম ওরফে আব্দুইয়া, মনছুরের স্ত্রী হাসিনা আক্তার, আসাদুজ্জামানের স্ত্রী আছুনী, আশু জামাল, নুরু জামানের স্ত্রী বুলু, বাইল্যা মিস্ত্রির ছেলে শওকত আলম, বাইল্যা মিস্ত্রির ছেলে মো. আবদুল মালেক, বাদশা, মো. কালু ওরফে ঠেলা কালুর ছেলের নবী হোসেন ও হানিফের ছেলে হোসেন ওরফে লাল পুয়া হোসেন।

সমিতি বাজার ও সিকদার বাজার এলাকায় রয়েছে- অলি হোসেনের ছেলে মো. বেলাল, সিরাজ ড্রাইভারের ছেলে মো. সাগর, গফুরের ছেলে মো. ইলিয়াছ, ইউসুফের ছেলে ইসমাইল, হাশেম উল্লাহ ও মো. হারুনের ছেলে রাশেদ।

৭নং ওয়ার্ডের আবু বক্কর ছিদ্দিক স্কুল ও আলু পাহাড় এলাকায় রয়েছে- মো. খলিল ওরফে তোতা খলিলের ছেলে মো. জিশান, মো. খলিল ওরফে তোতা খলিল, মো. জাফর আলম, খুইল্যা মিয়া ওরফে কালুর ছেলে মো. ইলিয়াছ, রশিদের ছেলে মো. ফারুক, আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আবছার, মৃত রশিদ আহমদের ছেলে উাবুল ওরফে দাত ভাড়া বাবুল, মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে মো. শাহাব উদ্দিন ওরফে বাবু, মৃত রশিদ আহমদ মো. নুর পুতিয়া, বাবু ছৈয়দের ছেলে মো. শফি আলম, হাফেজ আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ ও তোতা খলিলের ছেলে আব্দুল্লাহ।

এছাড়া চেয়ারম্যান ঘাটা, আশুর ঘোনা ও বাচামিয়ার ঘোনা এলাকায় রয়েছে- মো. হাছনের ছেলে মঞ্জুর আলম ওরফে শাশুর মার্ডার মঞ্জুর, আকতার কামালের ছেলে রাসেল, মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে বদি আলম, শফিকুল ইসলামের ছেলে নুরুল আলম ওরফে নুরু, আবুল হাশেমের ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে আজি রহমান, খাইরুল ইসলাম ওরফে খাইরুর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃত আশরাফুল ইসলাম ওরফে আশুর ছেলে মো. মান্নান, মো. মাছন ওরফে পেতু মাছন, মাহাম্মদুল হকের ছেলে মো. আবদুস সালাম, ইসমাইল ওরফে মৌলভী ইসমাইল, আব্দুল খালেকের ছেলে মো. মুন্না, মাহামুদুল হকের ছেলে মো. হাসান, মোস্তফা ওরফে বাইট্টা মোস্তফা, মৌলভী ইসমাইলের ছেলে মো. ফারুক, মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে ভান্ডার হাসান ওরফ বার্মাইয়া, মো. লোকমানের ছেলে মো. আবুল বশর, মো. কালু ওরফে কালুইন্যা, মৃত মো. কালুর ছেলে হামিদ উল্লাহ, মৌলভী আবু সামার ছেলে মো. জুবাইর, মোহাম্মদ, মালেক হাজীর ছেলে মো. আইয়ুব, মৃত মো. কালু ওরফে ঠেলা কালুর ছেলে মো. ছৈয়দ ও মো. ইলিয়াছ মৌলভী ইসমাইলের ভাই।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসি অপারেশন মাসুন খান ভয়েসওয়ার্ল্ডকে বলেন, রুমালিয়ারছড়া কেন্দ্রিক অনেক ইয়াবা কারবারির তথ্য রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ইয়াবা কারবারে জড়িত। ইতিমধ্যে অনেকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে অনেকেই নজরদারীতে রয়েছে। যেকোনো সময় চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন ভয়েসওয়ার্ল্ডকে বলেন, রুমালিয়ারছড়া, সমিতি বাজার, বাচাঁ মিয়ার ঘোনা, সিকদার পাড়াসহ বিশাল একটি অংশে অনেক ইয়াবা কারবারি রয়েছে। ইতিমধ্যে গত দুই মাসে ইয়াবাসহ ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করে চালানও দেওয়া হয়েছে। এসব ইয়াবা কারবারিদের একটি তালিকাও করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া নুরুল আলম কোম্পানি ও জাফর আলম নামে দুইজন বড় ইয়াবা কারবারি রয়েছে। পুলিশ সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছে এসব কারবারিদের ধরতে।

এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির ভয়েসওয়ার্ল্ডকে বলেন, লক ডাউনের কারণে পুলিশের অভিযান কিছুটা শিথিল ছিল। এখন অভিযান জোরদার করা হবে। কোনো অপরাধীর রেহায় পাবে না। ধারাবাহিকভাবে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ সময় ১৭৪০ ঘণ্টা, ১২ জুলাই ২০২০

আএম/আএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন