কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হিজলিয়া এলাকার আবদুর গফুরের মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসা থেকে আপত্তিকর অবস্থায় দুই এনজিও কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানার এএসআই মো. শাহ আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার রাতে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। স্থানীয়দের দাবি, আটকের সময় দুজনই মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার মাধবদিয়া গ্রামের মো. সিকান্দার মণ্ডলের ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ (৩৫)। তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)-এ রিফ্র্যাকশনিস্ট হিসেবে কর্মরত। অপরজন খুলনা জেলার আড়ংঘাটা উপজেলার জহিপোল ইউনিয়নের তেলিপাতী গ্রামের কাজী জালাল উদ্দিনের মেয়ে ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা ঋতু (২৮)। তিনি আরটিএম ইন্টারন্যাশনালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুজনই বিবাহিত। ফয়সাল আহম্মেদ দুই সন্তানের জনক বলে তার স্ত্রী দাবি করেছেন।
আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ম্যানেজার মোক্তাদির হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা ঋতু প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন তাকে এক মাসের নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা ঋতু একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে। ডা. ফাতেমার পিতাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ফয়সাল আহম্মেদের ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত ছিল তারা পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত। এ বিষয়ে তার স্ত্রী বিডিআরসিএস কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিডিআরসিএসের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নারী-সংক্রান্ত অনৈতিক আচরণ ও মাদকসংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিডিআরসিএসের ডিরেক্টর (হেড অব অপারেশন) আকরাম আলী খান রানা বলেন, বিষয়টি তিনি প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করেছেন। প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিনিয়র অ্যাডমিন ও এইচআর কর্মকর্তা তৌকির ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফয়সাল গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিডিআরসিএস-এ রিফ্র্যাকশনিস্ট হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যথাযথ পরিচয় যাচাই ছাড়াই ভাড়াটিয়া রাখা হচ্ছে। এতে মাদকসেবী, মাদক কারবারি, অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, রোহিঙ্গা এবং ভুয়া পরিচয়ধারীদের জন্য এসব বাসা নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে বলে তাদের দাবি। ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সূত্র-উখিয়া নিউজ