এম.এ আজিজ রাসেল ও ফরিদ মোহাম্মদ:
দুপুরের পর থেকে কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে শহরের থানা সম্মুখ চত্বর। কক্সবাজার পৌরসভার সীমানা দেয়াল ঘেঁষে ছুটির দিনে বসে পাখি প্রেমীদের মিলনমেলা।
এই মিলনমেলায় যোগ দেয় খরগোশ, বাবুই, ময়না, শালিক, টিয়া, টুনটুনি, কবুতর, পায়রা, রাজ হাঁস, পেঁচা, বন মুরগী, চড়–ই ও মাছরাঙাসহ আরও নানান জাতের পাখি। ছোট-বড় রঙ-বেরঙের এসব পশু-পাখি দেখলেই নিমিষেই আদর করতে ইচ্ছে করে। প্রতি শুক্রবার এখানে বিক্রির জন্য আনা হয় তাদের।

দাম হাঁকা হয় ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। দীর্ঘদিন আদর-যতœ করে পাখিগুলোকে পালন করা হয়। অনেকেই এখান থেকে পাখি কিনে নিয়ে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেয়। এতে প্রশান্তি মেলে তাদের মনে।
চকরিয়া থেকে আসা মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ছোটকাল থেকে পাখিদের প্রতি তার আলাদা টান সৃষ্টি হয়। প্রতি সপ্তাহে এখানে ময়না, টিয়াসহ নানা জাতের কবুতর আনেন তিনি। ভাল দাম পেলে বিক্রি করা হয় শখের পাখি।
ঈদগাহ ইসলামাবাদ থেকে আসা ওমর ফারুক নামের বিক্রেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কবুতরের সাথে সখ্যতা। শুক্রবার আসলেই তিনি প্রাণের কবুতর রেংক, সিরাজ, কিং, গিরি বাজ, রেইচার খোমা নিয়ে আসেন। বিক্রির সময় অনেক খারাপ লাগে। তবুও বিদায় দিতে হয় তাদের।
পাহাড়তলীর মাহমুদ এখানে এসেছেন পছন্দের কবুতর কিনতে। দাম বেশি হলেও এক জোড়া ৭০০ টাকা ক্রয় করেন গিরি বাজ কবুতর। বাসায় নিয়ে গিয়ে তাদের বড় করে তুলবেন।
মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এখানে নান্দনিক চোখ জুড়ানো পাখি ও পশু মেলে। তাই প্রতি সপ্তাহে এখানে ছুঁটে আসা। অনেক পাখি তিনি কিনে নীল আকাশে অবমুক্ত করেছেন বলে জানান।
২০১১ সাল থেকে রিগ্যানের হাত ধরে থানা রাস্তার মাথায় পাখিপ্রেমীদের ভীড় বাড়তে শুরু হয়। দিন দিন বাড়ছে ভীড়ের পরিধি। তিনিই এটির যাবতীয় বিষয় দেখভাল করেন।
দীর্ঘদিন করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর নিয়মনীতি মেনে সীমিত আকারে প্রতি শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এখানে পাখি প্রেমীদের পদচারণায় সরব হয়ে উঠে এই স্থান।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক সাংবাদিক এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাণী জগতের বৈচিত্র্যের স্বরূপ তুলে ধরার প্রতি এমন ভালোবাসা কারো কারো একেবারে নেই বললেই চলে। কিন্তু এমনও কিছু মানুষ আছে দিবানিশিদিন প্রতিটি ক্ষণে পশু-পাখির পেছনে সময় কাটান। পশু পাখি প্রেমী সমাজে দৃষ্টান্তমূলক আদর্শ মানুষ।
পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, পশু-পাখির প্রতি মমত্ববোধ থাকাটা খুবই জরুরী। যারা ফুল-পাখি পশুর প্রতি ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের মানসিক বিকাশ সুন্দর হয়। আচরণে অনাবশ্যক রূঢ়তা প্রকাশ পায় না।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক জীবনে প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজের ছোঁয়া ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠছে। কাক ছাড়া অন্য কোন পাখি চোখে পড়ার মতো খোঁজে পাওয়া দুর্লভ। আসলে তারা দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসে। আর প্রকৃতির মাঝে উঠাবসা করতে গিয়ে পাখির প্রতি ভালোবাসা নিবিড় ভাবে জাগ্রত হয়।
বাংলাদেশ সময় ২৩২৬ ঘণ্টা, ২৪ জুলাই ২০২০
আআর/এফএম/আএন