এম জাহেদ চৌধুরী :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী মেলায় চলা সোনালী র্যাফেল ড্রয়ের টিকিট বিক্রির ধুম পরেছে। বিশ টাকা মূল্যের লটারীর টিকিটে লোভনীয় পুরষ্কারের ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিনি ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সায় মাইকিং করে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিক্রি চলছে লটারীর টিকিট। প্রতি রাত সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠিত হয় ড্র। এতে প্রথম পুরষ্কার বিজয়ী পান একটি দামী মোটরসাইকেল। আর এতেই হুমড়ি খেয়ে লটারির টিকিট কিনছেন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে প্রায় সব শ্রেণী পেশার মানুষ। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ র্যাফেল ড্র চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো উপজেলায় টিকিটের ভ্রাম্যমাণ ২০ টি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। সবমিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টিকিট তাদের বিক্রি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে পেকুয়া কলেজ মাঠের সুবর্ণজয়ন্তী মেলায় স্টল বরাদ্দ নিয়ে তারা এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা সদরে চৌমুহনী স্টেশনের ব্যবসায়ী মো. ফোরকান বলেন, মোটরসাইকেল পাওয়ার আশায় গত পাঁচদিন ধরে তিনি লটারির টিকিট কিনেছেন। কিন্তু এখনো কোন পুরষ্কার পাননি। পেকুয়া উপজেলার সচেতন বাসিন্দা মোহাম্মদ জিয়াবুল বলেন, বিশ টাকা দিয়ে টিকিট কিনে লাখ টাকা দামের পণ্য পাওয়া জুয়া ছাড়া কিছু নয়। তাছাড়া ১০-১২ লাখ টাকার লটারির টিকিট বিক্রি করে ৩-৪ লাখ টাকার পুরষ্কার বিতরণ করা হচ্ছে। বাকি আট লাখ টাকা মেলা আয়োজক, সোনালী র্যাফেল ড্র সংশ্লিষ্টরা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাগবাটোয়ারা করছেন।
লটারির নামে ধান্ধাবাজি চলছে এসব। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী মেলা গত ২৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো এ মেলা চালু রেখে র্যাফেল ড্র চালিয়ে ও স্টল বাণিজ্য করে নিজেদের পকেট ভারী করছে সরকারী কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা। আর পকেট কাটছে পেকুয়ার সাধারণ মানুষজনের। সোনালী র্যাফের ড্রয়ের পরিচালক এস এম রিপন বলেন, মেলার যাবতীয় খরচ সামলানোর শর্তে লটারির টিকিট বিক্রি ও পুরষ্কার বিতরণের অনুমতি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আমাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। আমরা প্রতিদিনই ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরষ্কার দিচ্ছি।
মেলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম বলেন, মেলা পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শিল্পীদের সম্মানি, লাইটিং, মাইকসহ যাবতীয় ডেকোরেশন খরচ সামলানোর জন্য র্যাফেল ড্র চালানো হচ্ছে। এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা বলেন, পেকুয়াবাসীকে আনন্দ দিতে মেলায় র্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়েছে। র্যাফেল ড্র জুয়া নয়। মেলার যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির কাছে রয়েছে। এখানে আমার লাভের কিছুই নেই।