ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নামেব এই দুই দল।
লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, স্ট্রাইকারদের ছন্দে ফেরা কিংবা সেমিফাইনালে শতভাগ জয়ের রেকর্ড- সব মিলিয়ে বেশ কিছু কারণে আজ জিততে পারে আর্জেন্টিনা।
ফর্মের তুঙ্গে থাকা লিওনেল মেসি
৩৬ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি আসরে তিনি আটটি গোল করে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন। শুধু গোল করাই নয়, গত ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ের ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার মূল দায়িত্বটাও সামলাচ্ছেন তিনি। মেসি যদি আজ তার স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ধূলিসাৎ হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
স্ট্রাইকারদের ছন্দে ফেরা
আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের আক্রমণভাগ এখন আর এককভাবে কারোর ওপর নির্ভরশীল নয়। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে হুলয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ দুজনের গোলই প্রমাণ করে যে দলের ব্যাক-আপ স্ট্রাইকাররা সঠিক সময়ে নিজেদের সেরা ফর্মে ফিরেছেন। এছাড়া দলের আরও সাতজন ভিন্ন খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে জালের দেখা পেয়েছেন, যা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এক বড় শক্তি।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শতভাগ জয়ের রেকর্ড
ইতিহাস সবসময় আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলে। এর আগে বিশ্বকাপে ৫ বার সেমিফাইনালে খেলেছে তারা এবং প্রতিবারই ফাইনালে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। সেমিফাইনালের মতো বড় চাপের ম্যাচগুলোতে স্নায়ু ধরে রাখার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের, যা আজ তাদের বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেবে।
প্রতিপক্ষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার দুর্বলতা
ইংল্যান্ড ফুটবল দল টমাস টুখেলের অধীনে দারুণ খেললেও তারা অতিরিক্ত মাত্রায় জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের করা ১৩টি গোলের মধ্যে ১২টি গোলই করেছেন এই দুজন। কেইন ও বেলিংহামের আক্রমণাত্মক খেলাকে যদি আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা বোতলবন্দী করে রাখতে পারেন, তবে ইংলিশদের গোল করার বিকল্প পথ বেশ সংকীর্ণ হয়ে পড়বে।
গভীর এবং লড়াকু মানসিকতা
গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই কঠিন সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে দুই গোল খাওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াকু ম্যাচে জয় প্রমাণ করে স্কালোনির শিষ্যরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।