ড. শফিক আশরাফ:
নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর, এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সমাজ নিরীক্ষক কথা সাহিত্যিক। তাঁর গল্প আর উপন্যাস সমাজ, সময় জীবন সংগ্রাম এবং মানবিক সংকট যেমন তুলে ধরে তেমনি আন্তর্জাতিক সংকটের ঐতিহাসিক পরপ্রেক্ষিতের উন্মোচন ঘটায়।
রোহিঙ্গা জীবনের সংকট নিয়ে লেখা লেখকের উদ্বাস্তু উপন্যাস এবং এর ইংরেজি A Tale of Rohingya যেমন সচেতন পাঠকের মনযোগ আকর্ষণ করেছে তেমনি বিলডাকিনি উপন্যাস তুলে ধরেছেন সমকালীন গ্রামীণ অন্ধকারের স্বরূপ, এর ধারাবাহিকতায় লিখেন দায় ভাগ, যাতে দেখান জন্মের দায় আসলে শিশুর নয়, সমাজের, যে প্রেক্ষিতেই জন্ম হোক, শিশুকে সমাজ পারে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।

আমরা এবার পেতে যাচ্ছি, আদমসুরত ত্রয়ী উপন্যাসের শেষভাগ। আদমসুরত বিল ডাকিনি উপন্যাসের সেই নির্যাতিত নারীর সন্তান যাকে দায়ভাগ উপন্যাসে লালন করে বড় করেন বারীন মাস্টার। আদমসুরত কেমন হয়েছে এর পাণ্ডুলিপি পাঠ করে লেখককে জানিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শফিক আশরাফ। করোনা কালে আমাদের লেখকরা কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন সেটা তুলে ধরতে পাঠকের জন্য আমরা আদমসুরত উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি পাঠ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরলাম। লেখককে অগ্রীম অভিনন্দন।
ড. শফিক আশরাফ লিখেছেন:
জাহাঙ্গাগীর ভাই,
শুভেচ্ছা।
আপনার আদমসুরত উপন্যাসটি পড়লাম। বলা যায় একবসায় শেষ করে উঠলাম। উপন্যাসটি যদি মূল্যায়ন করি তাহলে তা হবে এরকম:
১. ঔপন্যাসিকের পর্যব্ক্ষেণ ক্ষমতা অসাধারণ। চারপাশে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় আদমসুরতের চোখ দিয়ে তুলে এনেছেন, যা উপন্যাসটাকে বিশেষ করে তুলেছে।
২. প্রাথমিক পাঠে মনে হয়, এটি নিছক একটা প্রেম সংক্রান্ত উপন্যাস কিন্ত এই প্রেমের ভেতর সমসাময়িক মানুষের আত্মিক সংকট, একজন আত্মপরিচয়হীন মানুষের বেড়ে উঠার মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্রকাঠামো ও আদর্শহীনভাবে বেড়ে উঠা প্রজন্মের ইতিহাস বলা হয়েছে, ফলে এটা প্রেমের থেকেও বেশি হয়ে উঠেছে। তবে নিকিতার মতো মুক্তমনা মেয়ে অবশ্যই ব্যতিক্রম।

৩. সমাজের লাম্পট্য, দখলবাজি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও শিক্ষার বাস্তবিক অবস্থার পাশাপাশি বারীণ স্যারদের মতো মানুষরা আছে বলেই এই দেশটা এখনো চলছে, সেটা আপনার মতো আমিও বিশ্বাস করি। রাষ্টের চালক তৈরির পেছনে বারীণ স্যারদের মতো মানুষকে তুলে আনাটা যথার্থ হয়েছে বলে মনে করি।
শেষে উপন্যাসের গতি, কথোপকথন খুব পরিণত মনে হয়েছে।
আপনার জন্য শুভকামনা।
শফিক আশরাফ
রংপুর
লেখক: ড. শফিক আশরাফ, সহযোগী অধ্যাপক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।