• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

মিছিলে নতুন মুখ ও তারুণ্যের দেমাগ

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫১৭ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

মনির ইউসুফ:

শাহবাগের মিছিল তবুও এদেশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। তবুও এদেশের কতিপয় তরুণ ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ে নেমেছে। সেই তারুণ্যের দেমাগ, সেই আবেগ যে কাউকে আন্দোলিত করবে।

মিছিলে নতুন মুখও যুক্ত হয়েছে। বয়সের কারণে তাদের বিপ্লবী দেমাগ দেখার মতো। জটবদ্ধ এই শাসন ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে একটি গতিশীল অপেক্ষাকৃত শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নে তরুণদের পবিত্র চেহারায় যে আলোর ঝলকানি তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বত্র।

আমিও ছিলাম সেই মিছিলে ‘রাজপথের’ পিচডালা কালো অক্ষরের তীব্র রোদে, মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান ধরে হাঁটা, পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি, আঘাত, রক্তাক্ত হওয়া, আবার তীব্র তেজে মিছিলে যোগ দেওয়া সে এক ঘোর লাগা বিস্ময়!এদেশের তীব্র কঠিন প্রতিবাদী তারুণ্যের মাঝে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। একটি দেশ তখনই তার স্বপ্ন নিয়ে জেগে ওঠে, যে দেশেরে বেশির ভাগ তরুণ যখন একসঙ্গে জেগে ওঠে। ক্যাপিটালিজমের এই যুগে কতিপয় তরুণ ক্যাপিটালিজম বুঝে মিছিলে যোগ দেন।

তারা কয়জন শুধু সচেতন থাকে। সকালে নাস্তা না করে দুপুরে খেয়ে না খেয়ে এসব তরুণ তার জিন্দেগির মূল্যবান সময় মানব মহত্বের জন্য ব্যয় বরে ফেলে। কেন করে! কারণ মহত্বের মহিমা দূর চেতনার রক্তাক্ত গোলাপ। সেই গোলাপের সংরাগ মাখতে চাই না কে? টকটকে রক্তাক্ত গোলাপ। মহত্বের গোলাপের সংরাগ রিলকের কবিতা করে তোলে তরুণদের। তরুণদের স্লোগানের ঠোঁট হয়ে ওঠে রিলকের সংবৃত গোলাপ। আহ! তখন এক একজন প্রতিবাদী তরুণ এক একটি গোলাপ, উষার গোলাপ।

এদেশের পুলিশ এদেশের শাসকশ্রেণি সেই গোলাপকে তছনছ করে দেয় মুহূর্তে। আজকেও আমরা দেখেছি , শাহবাগ থেকে মিছিল যখন হোটেল কন্টিনেন্টাল পার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছে, তখন রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনি বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। এতে অনেক প্রতিবাদী তরুণতরুণী আহত হয়। দেশে দেশে হরিলুট, নৈরাজ্য, অরাজকতা, পুলিশি অন্যায় চলছে।

এর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না, কেন কথা বলা যাবে না! সবাইকে জেগে উঠতে হবে। ক্যাপিটালিজমের এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে জাগতে হবে। ছাত্রদের এই মিছিল ছড়িয়ে দিতে হবে সারাদেশে। একটি মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলেও তা দরকার। শাসকশ্রেণি যতই বেপোরোয়া আচরণ করবে ততই তাদের বিপদ বাড়বে। সেই সুযোগটা নিতে হবে মিছিলকারী ছাত্রছাত্রীসহ যারা কল্যাণ রাষ্ট্র চাই তাদের।

উন্নয়নের নামে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কোনো নৈরাজ্য করতে দেওয়া যাবে না। না কোনো ধর্ষণ, না কোনো সহিংস উন্নয়ন। যে করুক তাকে থামিয়ে দিতে হবে। রাষ্ট্রকে তার সুবিাচারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে তারা জনগণের পক্ষে, কতিপয় সুবিধাবাদী কর্পোরেট শ্রেণি পক্ষে নয়। বিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য রাষ্ট্র সবসময় কতিপয় স্বার্থান্ধ শ্রেণির পাহারদার হিসেবে কাজ করেছে, করছে।

এই ক্যাপিটালিজমের যুগে সরকার নির্লজ্জভাবে কর্পোরেট, পুলিশি, সামরিক বাহিনির তাবেদার, তাদের পাহারাদার। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? উপায়- বিপ্লব। রক্তাক্ত বিপ্লব ছাড়া রাষ্ট্রকে আর কল্যাণের দিকে ফেরানো সম্ভব নয়। কারণ জটবদ্ধ এই স্বার্থচক্রের লোভ লালসাকে গুড়িয়ে দিতে হলে তাই একমাত্র সম্বল। তারুণ্য জেগে উঠুক। তারুণ্যের জয় হোক।

লেখক: কবি ও সম্পাদক, কবিতার রাজপথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন