• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

শীত ও শূন্যতার কবিতা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৭২৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

অন্তিক চক্রবর্তী

উৎসর্গ –
শ্রদ্ধাভাজনেষু
সমুদ্র সন্তান আরিফ উল মওলা
আমার প্রিয় আরিফ মামার জন্মদিনে শীত ও শূন্যতার কবিতা।

চেনা অচেনায় আরিফ মামার সাথে আমার পরিচয়ের সূত্রতা দীর্ঘকালের।
এই সমুদ্র শহরের জন্মদাগের বয়সের সাথে আমাদের দুটো পরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পর্ক।
দেশ, কাল, রাজনীতি, সময় সব পেরিয়ে মামা আজীবন চিরনবীন, প্রাণবান।
এখনো পথের ক্লান্তি, সময়ের বয়সী দাগ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছেন।

হাত থেকে হাত খসে যাওয়ার এই সময়ে বরং প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে কক্সবাজারের সবকটা প্রজন্মের প্রিয়মুখ।
সদালাপী, বন্ধু বাৎসল্যতা দিয়ে সমুদ্রের শামুক ঝিনুকের সাথে গড়েছেন সখ্যতা।
উনার পরবর্তী প্রজন্মের আস্থায় আপদে বিপদে নির্ভরতার একটি নাম “আরিফ বদ্দা”।
এই ডাকনামটি উচ্চারণ করা মানুষ গুলোর চোখে অগাধ শ্রদ্ধা আমাকে মুগ্ধ করেছে ।

একজন আরিফ উল মওলা আমার দেখা গরীবের রবিনহুড।

নিজের হাতে গড়া হাসপাতালটাই এখন এই শহরের অনেক মানুষের বিপদে এবং অসুখে নিরাপদ আশ্রয়।
এই করোনা ভাইরাসের দুঃসময়ে এই মানুষটির নির্ভীক মানবিক সংগ্রাম আমাকে স্বপ্ন দেখায় সুন্দর আগামীর।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষনহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেন।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন বলেই এখনো নিজের বাড়ির পাশের বৌদ্ধ মন্দির রক্ষায় বীরদর্পে মৌলবাদীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা
করে সাহসীর ভূমিকা রাখেন।
শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতায় উদার অংশগ্রহনে অনন্য এই মানুষটির প্রতি আমার শ্রদ্ধা।

আমার প্রিয় আরিফ মামার দীর্ঘায়ু কামনা করি। সাথে ধন্যবাদ জানাই প্রিয়জন সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নাগরিকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কান্ডারি সাংবাদিক নুরুল আজিম নিহাদ কে। যার কাছে আমার বিষন্নতা, প্রেম, অপ্রেম, দীর্ঘশ্বাসের অনুবাদ কবিতা হয়ে যায়।

| মায়াময়

শীতের বোতাম খুললেই ঝলমল করে ওঠে রাত। অলাতচক্রে সমস্ত ইচ্ছেরা জেগে ওঠে। বিস্ময়ের ব্রাশ ঘষে দেখি জীবন চুপচাপ দাঁড়িয়ে। চামড়ার নিচে আঘাত তোরঙ্গ ঢুকিয়ে কাঠবেড়ালি-বাঁচা নিয়ে হুটোপুটি করি মুক্ত ঘাসে। পা গলিয়ে দেই আনন্দচৌকাঠে। আশঙ্কার মোড় থেকে বাইপাস টার্ন নিয়ে ঢুকে যাই নীল তাঁবুতে। হাড়ের কন্দরে লাফিয়ে ওঠে বেড়াল। নাম দেই মায়া। মন ও মায়ায় মনে পড়া বারণ।

| ঘর কিংবা আলোঘর

একটি ঘর। বিপদজনক শূন্যতা। চারদিকে রক্তমাংসের দরজা খুলে যায়। লকলকে আগুন বেরিয়ে পড়ে স্মৃতির কোষে। বালিশের ওপারে অনিদ্রা অপেক্ষা করে। তীব্র চেষ্টায় শুকিয়ে আসার সময়ে কেবল ক্ষয়। শব্দের কোমরে বিষাদের চাবুক। তুষার চিতার পায়ের ছাপ থেকে কান্না ছিনে আনা দিনের হঠাৎ এক আলো। বরফের উপর উপুড় হয়ে জেগে ওঠে জোছনা। শব্দ খোঁজা সুরে বাজে এক মায়া। প্রার্থনার বোঁটায় চিকচিক করে জল। ভাসি। সাঁতরাই। হেলান দিয়ে বসি। দাঁড়াই। কাঁপি। বিস্মিত পা আরও একটু নামে। ঝনঝন করে সেই হঠাৎ আলো। রোমকুপ থেকে পাঁজরে পৌঁছায় এক একটি আলোর আদর।

| ফানুস

চুপচাপ বসে আছে ভাঁটার নৌকো। গাঙ-পালঙ পাহারা দিচ্ছে জেগে ওঠা হরিণীচিংড়ি। আবুল হোসেন জাল ঘেঁটে এগুতে থাকে কাঁদায়। গুনগুন বসন্তগান দূরের বিকেল হাওয়ায়। আবুল হোসেন এগোয়….

অঞ্জলির কোমরের হাড়ি ভরতে থাকে হরিণীচিংড়ির ছটফটানিতে। জলের ভেতর শরীর ডুবিয়ে ভাসে ওরা, নীল ফানুস।

| ঘড়ির অসুখ

টুপ করে ডুব দিলো সে। প্রতিবাহনে বেরিয়ে গেলো আলো! কেউ বলে দিন গড়িয়ে রাত নামে। কেউ তার নাম দেয় সকাল দুপুর সন্ধে। আমি বলি অসুখ। একটি ঘড়ির অসুখ।

| অভ্যস্ত অপেক্ষা

তোমার রাত জাগা পকেটে আমার ঘুম। আলগোছে অভ্যাসের জোনাকপোকারা, হেঁটে বেড়ায় মস্তিকের আনাচ-কানাচ।

তোমার হ্যাঙআউটের পীতরঙ্গা মখমল ফুলে, আরও একবার দেখি রিস্টওয়াচ।
শ্যাম পোকা সময় তখনও ঝুলে এক অভ্যস্ত অপেক্ষায়।

  • অন্তিক চক্রবর্তী
    ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন