• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

সব প্রতিকূলতা জয় করে নিজের জায়গা নিজেকেই করে নিতে হয়

নিজস্ব প্রতিদেক / ৪৯৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০
ড. নাজনীন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ড. নাজনীন আহমেদ বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ। কর্মরত রয়েছেন অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে। এছাড়া তিনি একাধিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সে উন্নয়ন অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছেন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নারী শ্রম, শ্রমিকের অধিকার ইত্যাদি বিষয়ের ওপর পিএইচডি সম্পন্ন করেন। খ্যাতিমান এ অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রীতা ভৌমিক

যুগান্তর: কেমন আছেন? নারীর জন্য এবারের বাজেটে কি ধরনের ঘাটতি আছে বলে আপনি মনে করেন?

ড. নাজনীন আহমেদ: ভালো আছি। মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে এ বছরের জাতীয় বাজেটে সবার জন্য স্বাস্থ্য এবং জীবিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারীর জন্য জাতীয় বাজেটে যে মনোযোগ থাকার দরকার ছিল তার কমতি রয়েছে। আসলে আমরা যখন স্বাস্থ্য ও জীবিকার কথা বলি, ভাবি, তখন মেয়েদের বিষয়টা চলে আসে। তাহলে আলাদা করে মেয়েদের বিষয়টা ভাবার দরকার কি?

জাতীয় বাজেটে এ বছরও মেয়েদের বিষয় আলাদাভাবে ভাবার দরকার ছিল। বরাদ্দ রাখার দরকার ছিল। বাজেটে নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। কি করা হয়েছে এসব উল্লেখ রয়েছে। এরপরও বাজেটে যদি স্বাস্থ্য ও জীবিকার কথা চিন্তা করি তাহলে জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়ার জন্য যা দরকার ছিল তার ঘাটতি রয়েছে।

যুগান্তর: বাজেটে দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় সব বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ভাতার আাওতায় আনা হবে? এটাকে কিভাবে দেখছেন আপনি?

ড. নাজনীন আহমেদ: নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাবদ ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে ৯৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় বিধ্বা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত নারীর জন্য ভাতা ও বয়স্কভাতাও রয়েছে। তবে এখানে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত নারী কথাটা না বলে অসহায় বলা যেতে পারে। অনেক স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে যান। তাদের ক্ষেত্রে স্ত্রী পরিত্যক্ত স্বামী বলা হয় না।

এছাড়া স্বামী পরিত্যক্ত নারী হলেই যে ওই নারী দুস্থ হবেন তা নাও হতে পারে। অবিবাহিত নারীও দুঃস্থ হতে পারেন। অর্থাৎ এমন একজন নারী যার নিজের সার্বিক খরচ চালানোর আর্থিক সক্ষমতা নেই তাকেও এই ভাতার আওতায় আনা দরকার বলে আমি মনে করি।

যুগান্তর: নারী করদাতাদের ক্ষেত্রে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর নেই। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যেসব নারী সম্পৃক্ত রয়েছেন তারা এর সুবিধা কতটুকু পাবেন বলে আপনি মনে করেন?

ড. নাজনীন আহমেদ: চার বছরে আয়করের পরিবর্তন হয়নি। নারী করদাতাদের ক্ষেত্রে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার করলে ভালো হয়। এ বছর মূল্যস্ফীতি হয়েছে। তবে করমুক্তের সুবিধা শুধু নারী উদ্যোক্তারাই নন, সব নারীরাই পাবেন।

যুগান্তর: ২০২০-২১ জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়নে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়নি- এ প্রসঙ্গে যদি কিছু বলেন?

ড. নাজনীন আহমেদ: এবারের অর্থবছরে নারীর জন্য জেন্ডার এবং সংবেদনশীল বাজেট আলাদা করে দেওয়া হয়নি। অন্য বছর যেমন নারীর জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট হয়, এ বছর তা হয়নি। নারীর জন্য বাজেট সব মন্ত্রণালয়েই রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বাজেট ধরা হয়েছে, যে কারণে প্রতিবছরের মতো এ বছর আলাদা করে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট দেয়া হয়নি। তবে নারীদের জন্য বাজেটে কি বরাদ্দ থাকছে, সেখানে আমরা দেখছি. বয়স্ক ভাতাতেও নারীরা আছেন। ৫০ লাখ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে সরকার ২৫০০ টাকা দিচ্ছে। এখানে যে খানা রয়েছে, সেখানে নারী প্রধান খানাও রয়েছে, তাদের কাছেও এই অর্থ যাবে।

আরেকটা জায়গা দেখতে পাই, প্রতিটি উপজেলায় ডে কেয়ার সেন্টার করার কথা বলা হয়েছে। যেহেতু নারী-পুরুষ উভয়ই শ্রম বাজারে অংশ নেন তাই ডে কেয়ারের সংখ্যা যত বাড়ানো যায় ততই ভালো। এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগে ডে কেয়ার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান এবং নীতিমালা দরকার।

অর্থনীতিতেও সরকারের প্রণোদনা নারীদের জন্য আলাদা করে দেয়া হচ্ছে। মহামারী কোভিড-১৯ এর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে। সরকার ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোক্তাদের এই অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিবে। তার মধ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের শতকরা ৫ ভাগ অর্থাৎ ১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হবে। এ ব্যাপারে আমাদের রাষ্ট্রপতিকেও বলতে শুনেছি, নারী উদ্যোক্তারা যেন এর সুফলটা পান।

যুগান্তর: জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করে বাজেট করা হয়েছে কিনা?

ড. নাজনীন আহমেদ: এই অর্থবছরে বাজেটে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট আলাদাভাবে না হওয়ায় মনিটরিং হয়েছে বলে মনে হয় না।

যুগান্তর: নারীর উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য দরকার বাজেটের গুণগত পরিবর্তন? এবারের বাজেটে কি তা লক্ষ্যণীয় বলে মনে করেন?

ড. নাজনীন আহমেদ: কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে বাল্য বিয়ে বেড়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা যারা লেখাপড়া করছে তাদের লেখাপড়ার খরচ রয়েছে। অনেক অভিভাবক মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে চাকরি হারিয়েছেন। ফলে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। ফলে মেয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়বে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে নারীরা সম্পৃক্ত নন তারা পিছিয়ে পড়ছেন। আমরা যখন নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা ভাবি, এই বিষয়গুলোর দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ তাদের ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য দরকার একটা সামাজিক আন্দোলন।

যুগান্তর: শিক্ষা জীবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সহপাঠীদের কাছে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। আপনি গানও গেয়ে থাকেন। বন্ধুমহলে গান গেয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন? এ প্রসঙ্গে যদি কিছু বলেন।

ড. নাজনীন আহমেদ: মেধা অনেকেরই আছে। আমারও ছিল। তাই বলে বলব না, অত্যন্ত মেধাবী আমি। ভাল শিক্ষার্থী হলেই মেধাবী হওয়া যায় না। আমার বেড়ে ওঠা খুলনায়। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি ভালো ফলাফল করার তাগিদ অনুভব করি। লেখাপড়ায় মনোযোগী হই। প্রাথমিক ও জুনিয়র উভয় বৃত্তিই পেয়েছি।

লেখাপড়ার পাশাপাশি গান-বাজনা, আবৃত্তি, বির্তক প্রতিযোগিতা, অভিনয়, নৃত্য, উপস্থাপনা- মূলকথা স্কুল জীবন থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার আগ পর্যন্ত মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেছি। এরপর নাচ ছেড়ে দিই। সারা বাংলাদেশে জেলা পর্যায়ে বির্তক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় এবং অভিনয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করি। খালাতো ভাইয়ের বিয়েতে গিয়েছি, আনন্দ করার পাশাপাশি সুযোগমতো নিজের পড়াটাও তৈরি করে নিয়েছি। শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠান করতে গিয়েছি, রিহার্সেলের ফাঁকে সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে। আমি ব্যাগ থেকে বই বের করে ক্লাশের পড়াটা তৈরি করে ফেলেছি। আমি মনে করি, আনন্দ করাও হল, স্কুলের পড়াটাও হল। সময়টাকে এভাবে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে অনেক কাজ করা সম্ভব। এসএসসিতে মানবিক বিভাগে উচ্চতর গণিত নিয়ে যশোর বোর্ডে ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রথম হই। ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী প্রথম হতে পারে সেই সময় এই ভাবনাটা কেউ ভাবতে পারতেন না। অনেকে আমাকে দু-তিনবার জিজ্ঞেস করেছেন, মেয়েদের মধ্যে প্রথম? আমাকে প্রতিবারই বলতে হয়েছে, ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রথম।

হলিক্রস কলেজে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে সর্বাধিক ভোটে ছাত্রী প্রতিনিধিও নির্বাচিত হয়েছিলাম। হলিক্রস কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব ছিল আমার উপর। এইচএসসিতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে হলিক্রস কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে উচ্চতর গণিত নিয়ে প্রথম হই।
আমি শিক্ষার্থীদের অনেককেই বলি, পরীক্ষার আগে খেয়ে না খেয়ে দু’মাস পড়ার চেয়ে বছর জুড়ে প্রতিদিন ঘণ্টাদুয়েক পড়াটা জীবনে অনেক কাজে লাগে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়েছি। এসব বইয়ের মধ্যে মার্কসবাদ, লেলিনবাদও ছিল। এই বইগুলো স্কুল জীবনেই পড়েছি। লেখাপড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, মজা করা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া সবই করেছি। মোট কথা সবকিছু করেও ভালো শিক্ষার্থী হওয়া সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটিতে আমার মেয়ে হয়। মেয়ের বয়স মাত্র ৫দিন। আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে এসে দেখলেন, আমি উপুড় হয়ে শুয়ে অংক করছি। কারণ ছুটি ফুরোলেই আমার পরীক্ষা। তারা আমাকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই আবার ক্লাশ করেছি। মেয়েকে অনেকক্ষণ ব্রেস্ট ফিডিং না করানোয় সমস্যা হতো আমার। সব সমস্যাকে জয় করে লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছি। মেয়ে অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। মেয়ের স্যালাইন চলছে। পরের দিন আমার ক্লাশ টার্ম পরীক্ষা। এক হাতে মেয়ের মাথা আরেক হাতে বই নিয়ে পড়ছি। হাসপাতাল থেকে ক্লাশ টার্ম পরীক্ষা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হলাম। আমাদের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ স্যার বিস্মিত হয়েছিলেন। যখন জানলেন, আমি হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। কষ্টকে জয় করেই আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছেছি। এভাবেই সব প্রতিকূলতা জয় করে নিজের জায়গাটা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।

একজন শিক্ষার্থীকে শুধু মেধাবী হলেই হবে না, তাকে মানুষের সঙ্গে কিভাবে জীবনযাপন করতে হবে তাও জানতে হবে। আমি আমার ছেলেমেয়েকে সব সময় বলি, তোমার একটা খোলা জানালা থাকতে হবে। বইপড়া, সিনেমা দেখা, খেলা করা, গান গাওয়া, গান শোনা ইত্যাদি বিষয় হতে পারে। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ রাখতে হবে। সমাজের গতি দেখে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই তুমি এগিয়ে যেতে পারবে।

যুগান্তর: কোন শিল্পীর গান আপনাকে বেশি আলোড়িত করে?
ড. নাজনীন আহমেদ: ভারতের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলাদেশের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফরিদা পারভীনের লালনগীতি, সুবীর নন্দী, মিতা হক, জলের গান এবং চিরকুট ব্র্যান্ডের গান আমার ভালো লাগে।

যুগান্তর: এ প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে আপনার সময়ের প্রজন্মের কি পার্থক্য খুঁজে পান?
ড. নাজনীন আহমেদ: এ প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী-তরুণ-তরুণীরা প্রযুক্তিগত পারিপার্শ্বিকতায় বেড়ে উঠছে। ওদের থেকে আমাদের জীবনের পার্থক্য রয়েছে। আমাদের সময় বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনকে চিঠি লিখতাম। চিঠির জন্য অপেক্ষা করতাম। কারণ সেসময় মোবাইল ফোনের চল ছিল না। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ঘুরেছি, আড্ডা দিয়েছি, বই পড়েছি। এখন মোবাইলের যুগে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে গেছে। ওরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। চিঠির মতো অপেক্ষা ওরা করে না। প্রযুক্তি না থাকায় বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছিলাম। ফেসবুকের কল্যাণে আবার তাদের কাউকে কাউকে খুঁজে পেয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তাদের বন্ধুদের হারিয়ে ফেলবে না।

তবে এ সময়ের কিশোর-কিশোরীরা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা না করে নিজেদের জগতে বিচরণ করে। শহরের কথা যদি বলি, আমাদের সময়ে পাড়া সংস্কৃতি ছিল। পাড়ায় মেয়েরা দল বেঁধে হেঁটে বেড়াতাম, আড্ডা দিতাম। এখনকার সময়ের মেয়েরা তা কল্পনাই করতে পারে না। সেই একই পাড়া, একই রাস্তা রয়েছে। কিন্তু পাড়া সংস্কৃতি, এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আরেক প্রতিবেশীর সম্পর্কের হৃƒদ্যতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

কিশোর-কিশোরীরা এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারে। আমাদের সময় সেই সুযোগটা ছিল না। বিদেশে পড়তে গিয়ে প্রথম প্রথম সবকিছু অজানা অচেনা মনে হয়েছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেট ঘেঁটে আগেই সেই জায়গা সম্পর্কে সব কিছু জেনে নেয়। আমাদের সময় বই পড়ে জানতাম। এ সময়ে তারা বই কম পড়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে সব জেনে নেয়। জ্ঞানের বিচরণ ক্ষেত্রটা প্রসারিত হয়েছে।

যুগান্তর: জীবন-নির্ভর চলচ্চিত্র সম্পর্কে যদি কিছু বলেন, যা আমাদের সমাজের মানুষের মানসিক-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে বলে আপনি মনে করেন?

ড. নাজনীন আহমেদ: ‘‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনোদনের খোরাকও পাওয়া যায়। ‘‘দীপু নাম্বার টু’, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাঙ্গর ‘নদী গ্রেনেড’, ‘‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘‘মেঘের অনেক রং’, ‘‘আলোর মিছিল’ ইত্যাদি, যা থেকে শেখা যায়, জ্ঞান অর্জন করা যায়।

আমি মনে করি, বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। যে বিনোদন থেকে সব সময় শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। যেটা দেখে আমি আমার বাস্তবতা থেকে আরেকটা বাস্তবতায় বিচরণ করতে পারি। চলচ্চিত্র ভ্রমণকাহিনী, নাচ-গান, মুভিও হতে পারে। যেমন চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের আবার হলমুখী করছে।

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. নাজনীন আহমেদ: যুগান্তর এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

সূত্র: যুগান্তর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন