• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

দেশের নারীরা কখন নির্দ্বিধায় চলাফেরা করতে সক্ষম হবে?

জান্নাতুল ফেরদৌস সায়মা / ৯২৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

বিশ্বের প্রতিটি ধর্মই নারীকে সম্মান করে এবং ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধকে ঘৃণ্য দৃষ্টিতে দেখে থাকে। যেমন ইসলাম ধর্মে ধর্ষণকে, “জিনা-বিল-ইকরাহ” হিসাবে অভিহিত করা হয়।

ধর্ষণ শুধু একটি আইনি অপরাধই নয় বরং মানবজীবনে এর বহু পরিণতি রয়েছে যা কেবল কোন শারীরিক ক্ষতি বা আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বরঞ্চ স্থায়ী মানসিক আঘাতেরও সৃষ্টি করে থাকে। সম্প্রতি দেশব্যাপী ধর্ষণ রোধে বাংলাদেশ সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। কিন্তু মনে প্রশ্ন থেকেই যায়, শুধু কঠোর শাস্তি দিয়ে এমন জঘন্য অপরাধ আদৌ রোধ করা সম্ভব হবে?

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ধর্ষণের স্বীকার হয় ৮১৮ জন নারী, ২০১৮ সালে হয় ৭৩২ জন এবং ২০১৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে গিয়ে হয় ১৭৩২ জন।

আর ২০২০ সালে দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার পরও ধর্ষণ তুলনামূলক হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে আশ্চর্যজনকভাবে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণ থেকে কোনো শ্রেণি, বয়স, ধর্মের নারীই বাদ যাচ্ছে না।

এবং এই অপরাধীদের বেশিরভাগই হল আত্মীয়, বন্ধু, পরিচিত, প্রতিবেশী যারা ভুক্তভোগীকে চেনেন, যার কারণে অধিকাংশ সময় এসব ঘটনার পর অভিযোগ করা হয়না। এমনকি নির্যাতিতের পিতা-মাতার মতো প্রিয়জনেরাও অভিযোগ দায়ের করতে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। অনেক ঘটনায় সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে মামলাগুলির প্রতিবেদন অস্বীকারের মত অবস্থাও সৃষ্টি হয়। তাদের ধারণা, মামলা করলে যা হয়েছে তা ঠিক করা সম্ভব না বরং সবাই জানতে পারলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নানা ঝামেলার স্বীকার হবে। এছাড়া আমাদের দেশের মামলার বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে সবাই ভালভাবেই অবগত থাকে।

বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো এখনো নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়নি। স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও আমরা এখনও এমন সমাজে বেড়ে উঠছি যেখানে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এখন আর ধর্ষণকারীর মনে কোনো ধরনের ভয় সৃষ্টি হতে দেখা যায়না আর, তারা অবাধে এ ধরনের অপরাধ করতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। দূর্বল সামাজিকীকরণের এ সমস্যার কারণে পরিবারও অনেকাংশে দায়ী। পিতামাতা তাদের মেয়েদের জীবন আচরণ নিয়ে যতটা সচেতন, ছেলেদের ক্ষেত্রে ততটা নয়। পিতামাতার উচিত মেয়েদের পাশাপাশি তাদের ছেলে সন্তানটি তার ব্যক্তিগত জীবনে কী করছে, সে তার সময় কোথায় ব্যয় করছে, কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখা। সন্তানদের সঠিক পারিবারিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ ধরনের প্রকট সামাজিক সমস্যা হ্রাস করা সম্ভব হবে।

ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনটি প্রতিটি সুশীল সমাজে শতাব্দী পর শতাব্দী পরিবর্তিত হয়ে আসছে, তবে এই আইনের সূত্রটির একটি অন্যতম মর্মার্থ হল, পুরুষদের তুলনায় নারীর নিকৃষ্টতা এবং অসহায়ত্ব। ধর্ষণ একটি সর্বাধিক অপ্রতিবেদিত অপরাধ বলে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই ধর্ষণের কারণে একজন নারী অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা, যৌন সংক্রমণজনিত রোগ, ঘুমের অনিয়ম, খাওয়ার ব্যাধি এবং অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতার মতো অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়।

এই জঘন্য অপরাধ নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি জনগণের দায়িত্ব হলো, তার আশপাশের পরিবেশকে নিরাপদ, সুদৃঢ় রাখা এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিবেষ্টিত করার মাধ্যমে এর প্রতিরোধ করা। বাংলাদেশ ও ভারতের মত অনেক দেশে এখনো ধর্ষিতা নারীকেই দিনের পর দিন নিজের ধর্ষণের শাস্তি ভোগ করতে হয়। তাই ধর্ষণ সংঘটিত হওয়ার পর ভুক্তভোগীকে সামাজিক কলঙ্ক হিসেবে অপবাদ দেয়া বন্ধ করার পাশাপাশি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। এবং অপরাধীর পাশাপাশি ভুক্তভোগীও যেন সমাজের প্রভাবে কখনো শাস্তির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধে আমাদের দেশের আইন যেমন কঠিন, তেমনি এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিতেও সকলের সোচ্চার হওয়া এখন শুধু সময়ের দাবি।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন