• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

পেকুয়ার ভয়ঙ্কর ইউনুস : কখনও আ.লীগ, কখনো বিএনপি আবার কখনও জাতীয় পার্টি

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৫৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০২২
ইউনুস চৌধুরী।

পেকুয়া প্রতিনিধি:
ইউনুস চৌধুরী (৫২)। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ের এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। মগনামা সিকদার পাড়া সিকদার বংশের উত্তরসূরী সে। তার পিতা মরহুম জিল্লুর করিম চৌধুরী। রাজনীতি শুরু হয় ছাত্র রাজনীতি নিয়ে। কিছু সময় যুবলীগের দায়িত্বও পালন করেছেন। ছোট কাল থেকে বিচক্ষন ছিলেন। পড়া লেখা স্কুল গড়ায়নি। যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা অবস্থায় ছোট খাটো অপরাধ জগতে পা রাখেন তিনি। ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। উশৃঙ্খল যুবক নিয়ে গড়ে তোলেন এলাকায় অপরাধ জগতের সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেটে যোগ দেন ডাকাত,অস্ত্রধারীরা। মগনামা দুর্গম কাকপাড়ায় তার বসবাস হওয়ায় সহজেই অপরাধ কর্মকান্ড সেরে নিতে কষ্ট হতোনা তার। বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেষে কাকপাড়ার অবস্থান। জলদস্যুসেদের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন ইউনুস চৌধুরী। দস্যু সম্রাট কুতুবদিয়ার রমিজ, ডাকাত এবাদুল্লাহসহ সাগর পথে ডাকাতদের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেসুবাধে তিনি আস্তে আস্তে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। আন্ডার গ্রাউন্ডের রাজা খ্যাত হন তিনি। নানা অপরাধ কান্ডে জড়িত হওয়ায় ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রুজু হয়। এক সময় তিনি মগনামায় জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তবে ওই সময় তিনি কক্সবাজার কারাগারে ছিলেন। অপরাধ জগতে পা রাখলেও তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। তবে সময়ের সাথে তাল মিলাতে তিনি ছিলেন পারদর্শী। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে আগাতে থাকেন।

যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তী চার দলীয় জোট সরকারের সময় সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেন। এক সময় তিনি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদকের মতো গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্বও পালন করেন। তবে তিনি কুকর্ম বদলায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, ইউনুস চৌধুরী একজন বহুরুপী মানুষ। রুপ বদলাতে যেমন দেরি করেনি,তেমনি দল বদলাতেও সময় নেয়নি। একজন সুযোগ সন্ধানী বহুরপী লোক। ২০১৬ সালে তিনি জাতীয়পার্টিতে যোগদান করেন। সাবেক এমপি হাজ্বী মুহাম্নদ ইলিয়াছের হাত ধরে তিনি নতুন পার্টিতে সম্পৃক্ত হন। পেকুয়া উপজেলা জাতীয়পার্টির সহ সভাপতি পদে তাকে আসীন করা হয়। সে সময় তিনি দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে ইউপি নির্বাচন করেছিলেন। অল্প ভোটে হেরে যান। এর পরে সময় তিনি কারাগারে আসা যাওয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তার পক্ষে জোরালো কাজ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যুবদল নেতা সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু, জামাত নেতা মগনামা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী, বিএনপি নেতা ফায়সাল চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতৃত্বশীল ব্যক্তিরা। কখনও আওয়ামীলীগ,কখনো বিএনপি আবার কখনও জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে পালা বদলানোর প্রতিযোগিতায় ছিল ইউনুস চৌধুরী।

ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়,ইউনুস চেয়ারম্যানকে বুঝা অনেক কঠিন। সে মুহুর্তের মধ্যে রুপ বদলাতে পারে। দল পাল্টাতে একজন পারদর্শী ব্যক্তিও বটে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রায় দু’ডজন মামলা রয়েছে। মাদকদ্রব্য,অস্ত্র,ডাকাতি,হত্যা,অপহরনসহ এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাভোগও করেন। তার বিরুদ্ধে শেষ মামলাটা হলো প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন