পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পাহাড় কাটার গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের পক্ষে থেকে আপত্তি তোলা হলেও পাহাড় কাটা বন্ধ করা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের জালিয়ার চাঙ এলাকায় মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে অন্তত ২০ ফুট উচ্চতার একটি পাহাড় কাটা হচ্ছে। মাটি কাটার আগেই পাহাড়টির বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত দুই হাজার গাছগাছালি কেটে নেওয়া হয়েছে। পাঁচটি ট্রাক দিয়ে পাহাড়টির মাটি বিভিন্ন জনের বসত বাড়িতে নিয়ে ফেলা হচ্ছে। পাহাড়টির আশেপাশে আরো অসংখ্য পাহাড় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আনছার বলেন, পাহাড়ি এ জনপদের সবচেয়ে বড় কবরস্থানটি ওই পাহাড়ে অবস্থিত। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের বাঁধা তোয়াক্কা না করে পাহাড়টি কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে একশো বছর পুরোনো অসংখ্য করব হুমকিতে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম পাহাড় কাটায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় শিক্ষক মোহাম্মদ রহমান বলেন, জালিয়ার চাঙ, গর্জনিয়া পাড়া, পোড়া দিয়াসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের দশ হাজার মানুষের একমাত্র কবরস্থান এটি। সময়ের সাথে এটির ব্যবহার বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য যেখানে এটির আয়তন বাড়ানো দরকার, সেখানে কবরস্থান বেদখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা কর্ণপাত করছে না।
এব্যাপারে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়টি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। গৃহহীনদের বাসস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এ পাহাড়ের জমিতে ২৮ টি ঘর নির্মাণ করা হবে। তাই ইউএনও’র নির্দেশে পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। পাহাড়ের ওপরে তো আর ঘর নির্মাণ করা যাবে না।
পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ আল জিনাত বলেন, খাস জায়গাটি জঙ্গল শ্রেণীভুক্ত, পাহাড় নয়। ঘর নির্মাণের উপযুক্ত করতে এটি সমতল করা হচ্ছে। আমি সরেজমিনে এর পরিদর্শন করেছি।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা বলেন, জায়গাটি কবরস্থান নয়। তবে, কবরস্থানের পাশ্ববর্তী। কবরস্থানের বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে আমাদের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে।
এদিকে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক বলেন, জায়গাটি আমিও সরেজমিনে দেখে এসেছি। এটি ২০ উচ্চতার একটি পাহাড়। তবে, পাহাড়টি বনবিভাগের মালিকানাধীন নয়।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।