বিশেষ প্রতিবেদক:
আধুনিক যুগে এসেও সে যেন মধ্যযুগের সম্রাট। ‘তার এলাকায়’ ঢুকতে গেলেই নিতে হয় অনুমতি। এর ব্যত্যয় ঘটলে নেমে আসে বিপদ। তার মন জুগিয়ে চলতে না পারলে জীবন কেড়ে নিতেও পিছপা হয় না সে। এমনই এক শাসন চলছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহর আলীর পাড়া এলাকায়। নিষ্ঠুর রাজার আদলে এ এলাকা শাসন করছে ভয়ংকর কিশোর গ্যাং লিডার হেলাল উদ্দিন। সদরের ঝিলংজা এলাকা থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কাজে এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান ষাটোর্ধ বৃদ্ধ শফি আলম। তিনি একজন সবজি ব্যবসায়ী। কিন্তু শফি আলম ওই দিন এলাকায় প্রবেশে কথিত সম্রাট হেলালের পূর্ব অনুমতি নেননি।
এটাই কাল হয় তার। দোকানের সামনে হেলাল ও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে হেলাল শফি আলমের মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। এতে ষ্টেশনেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। মৃত ভেবে ফেলে রেখে গেলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। সেদিন শফি আলম প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনো হাঁটাচলা করতে পারছেন না তিনি। ভুক্তভোগীরা জানান, হেলাল বাহিনীর অত্যাচারে এলাকায় আইপিএল জুয়া, মাদক রেচাকেনা, দখলবাজি, চাঁদাবাজী, চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে। এই বাহিনীর কারণে আতংকিত কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া এলাকার সাধারণ লোকজন। তার এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কচ্ছপিয়ার শহর আলীর পাড়া এলাকার নুর আহাম্মদের ছেলে হেলাল দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ত্রাস চালিয়ে আসছেন। তার এই অপকর্মে সহযোগিতা করছেন তার’ই পরিবারের লোকজন এবং বখাটে কিছু যুবক। গত সোমবার তামাক ক্ষেতের টাকা ছিনতাই করতে এক কৃষককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে সে ও তার বাহিনী। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ওই কৃষককের উপর ক্ষিপ্ত হয় সে। পরে শহর আলীপাড়া গ্রামে একা পেয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে নিরিহ কৃষককে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও দিতে ভয় পাচ্ছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান, হেলাল খুবই বেপরোয়া প্রকৃতির ছেলে। সে প্রতিনিয়ত প্রভাব দেখিয়ে অবৈধভাবে সাধারণ লোকজনের বসতভিটা ও জায়গা সম্পতি দখল, চাঁদাদাবি এবং লুটপাট এবং মাদক ব্যবসা করে আসছে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে না পরলে মারধর করে মারাত্বকভাবে জখম করে। নারীদের শ্লীলতাহানী সহ অপহরণের ভয় দেখায়। এছাড়া হেলাল এবং তার লোকজন এলাকায় ছিনতাই চুরির ঘচনা ঘটায়। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করে। তারা হুমকি দেয় বেশি বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দেবে। বলে বেড়ায় তাদের নাকি থানা প্রশাসনের সাথে সর্ম্পক রয়েছে। প্রশাসন নাকি তার কথা মত উঠে আর বসে। তাদের কারণে চরম অত্যাচারের শিকার হচ্ছে সাধারণ লোকজন। এ অবস্থায় হেলালের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। সাধারণ লোকজনের জান-মাল, সম্পদ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেগ কামনা করছে এলাকাবাসী।
সচেতন মহল বলছেন, হেলাল ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রাথমিকভাবে বড় অপকর্ম করার সাহস ছিলনা। কিন্তু প্রভাবশালী নেতারা যখন তাদের কাজকর্ম করার জন্য প্রশ্রয় দিয়ে থাকে তখন হেলাল এবং গ্যাংয়ের সদস্যরা ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আর এ ভাবে হেলাল বাহিনী মারাত্মক অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। গ্যাংয়ের সদস্যরা যে কোনো তুচ্ছ ঘটনায় চড়াও হচ্ছে যে কারো ওপর। অনেকের কাছে এরা এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। এদের শাসন করতে গিয়ে এলাকার সম্মানিত মানুষও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে হেলালের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, সবজী ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত হেলালের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় চিহ্নত আসামীকে ধরতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যাক্তি যতই শক্তিশালী হোক তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।