• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

কক্সবাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২০০ অবৈধ ট্যুরিস্ট জিপ : চক্রে জিম্মি পর্যটকরা

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৯০ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১
কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যটক ভাড়া নিতে সড়ক দখল রাখা হয় জীপ গুলো।

বিশেষ প্রতিবেদক
ক্ষমতাসীন শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে একটি চক্রের নেতৃত্বে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সমস্ত পর্যটন অঞ্চলে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে দুই শতাধিক অবৈধ ট্যুরিস্ট জিপ। এগুলো স্থানীয়দের কাছে চান্দের গাড়ি হিসেবেও পরিচিত। রামুর স্থানীয় দুই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে এসব গাড়ি। নামকাওয়াস্তে একটি সমিতি গঠন করে নিজেদের সভাপতি-সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে তারা ছড়ি ঘোরাচ্ছেন শতাধিক যান শ্রমিক ও পর্যটকদের ওপর। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ফলে পর্যটক হয়রানির তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সব অনুষঙ্গ। রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের মতো ভয়াবহ অভিযোগও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলে এসব গাড়ি। গাড়িপ্রতি চারশো টাকা মাসোয়ারা দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক পথ ব্যবহার অঘোষিতভাবে বৈধ করে নিয়েছে চক্রটি। কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে মেরিনড্রাইভ সড়ক হয়ে কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানি, পাটুয়ারটেক, টেকনাফ জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত এবং মহাসড়কে রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি, গর্জনিয়া, ডুলাহাজারা ও বান্দরবান পর্যন্ত বিচরণ করছে আইনগতভাবে বাজেয়াপ্ত এসব যন্ত্রযান। যদিও এধরনের গাড়িগুলো ’৯০ দশকের দিকে কক্সবাজারের কলাতলী বালুচরের ওপর দিয়ে টেকনাফ পর্যন্ত পর্যটক ও যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করত। কিন্তু এখন সেসব গাড়ি এখন উঠে এসেছে সড়কের ওপর। ফলে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত ঘটছেও তাই। গেল মাসে টেকনাফের শামলাপুর এলাকায় এধরনের একটি ট্যুরিস্ট জিপের ধাক্কায় ১০ পথচারী আহত হয়। ওই ঘটনায় গাড়িটি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরো জানা যায়, বছর বিশেক আগে কক্সবাজারের যানবাহন শ্রমিকদের সংগঠন কার, মাইক্রোবাস মালিক-চালক সমিতির অধীনে এই গাড়িগুলো চলত। কিন্তু গত ১০/১২ বছর আগে উক্ত শ্রমিক সংগঠন থেকে বের হয়ে যায় তারা। পরে শ্রমিকলীগের সুগন্ধা ইউনিটের নেতাকর্মীরা তাদের নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে নতুন করে ট্যুরিস্ট জিপ গাড়ির লাইন চালু করে। গঠন করেছে ট্যুরিস্ট জিপ মালিক-চালক সমিতি নামে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িগুলোর কোনো ধরনের ফিটনেস নেই। কারণ এসব গাড়ি সরকারি বিভিন্ন সংস্থা হতে বাজেয়াপ্ত ঘোষণার পর নিলামে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে অল্পমূল্যে ক্রয় করে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সড়কে নামিয়েছে কতিপয় দুর্বৃত্ত। রুটপারমিট, লাইসেন্স, ইন্স্যুরেন্স কোনো কিছু না থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে কীভাবে চলছে এসব গাড়ি প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। অধিকাংশ ড্রাইভারদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। বখাটে ও মাদকাসক্ত এক শ্রেণির যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে এসব গাড়ির স্টিয়ারিং। পান থেকে চুন খসলেই গোলক বাঁধিয়ে ফেলে পর্যটকদের সঙ্গে। চাহিদামতো টাকা না দিলে সবাই একযোগে জড়ো হয়ে পর্যটকদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেন প্রয়োজনের দ্বিগুণ অর্থ। সড়কেও অনেকটাই বেপরোয়া থাকে এসব গাড়ির চালক ও তাদের গতিবিধি। ফলে মাদক পাচারসহ যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা।

২০১৯ সালের শুরুতে সদরের পিএমখালী এলাকার যুবক আরিফ মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় এধরনের একটি ট্যুরিস্ট জিপ রামুর চাকমারকুল মাদ্রাসা গেটসংলগ্ন মহাসড়কে পিষে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে বিচার চাইতে গেলে কথিত এই কর্তৃপক্ষ গাড়িটি তাদের নয় বলে ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করে। নাম্বার না থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার গাড়িটিকে চিহ্নিত করতেও ব্যর্থ হয়। ফলে ঘটনাটি হারিয়ে যায় অন্ধকারে।

অভিযোগ রয়েছে— গাড়িতে সর্বদা পর্যটক থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের তল্লাশি কিংবা নজরদারি করার প্রয়োজন মনে করে না। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও মাদকাসক্ত পর্যটকদের মাঝে ইয়াবা ও আইসসহ ভয়ংকর সব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এসব গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে। গাড়িগুলো রাখার জন্য কোনো পার্কিং নেই। কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ডলফিন মোড় পর্যন্ত অলিতে-গলিতে যেখানে-সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এসব গাড়ি। এভাবে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে পথচারী ও পর্যটকদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজটও। এ ব্যাপারে প্রশাসনও অনেকটাই নির্বিকার। গাড়িগুলো অবৈধ জানা সত্ত্বেও নেয়া হয়নি কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা। বন্ধে তৎপর নয় তারাও।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন