• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গারা যাবে কোথায়?

নিজস্ব প্রতিদেক / ১১৮১ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তানভিরুল মিরাজ রিপন:

সাড়ে দশ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে উখিয়া টেকনাফের ২৭টি ক্যাম্পে৷ স্থানীয়দের সাথে মিশে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় মাদককারবারী ও মানবপাচারকারীরা রোহিঙ্গাদের মানব পাচারে, ইয়াবা পাচারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে।

২৪ আগস্ট র‌্যাবের অভিযানে ১৩ লাখ ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে দেশের সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান। চালানসহ আটক হয় দুজন রোহিঙ্গা । রোহিঙ্গাদের প্রতি স্থানীয়দের ক্ষোভ যেমন আছে,তারচেয়ে বেশি এখন স্থানীয়রা রীতিমতো গুম ও খুন আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় সাধারণ মানুষেরা বিপাকে পড়েছে রোহিঙ্গাদের কারনে। কমেছে শ্রমের বাজার মূল্য, বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামসহ আবাসনেরও।

এতে করে অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়ছে উখিয়া-টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলার বাসিন্দারা ৷সমাধানের সদিচ্ছা বাংলাদেশ সরকারের আছে, তবে বৈশ্বিকভাবে সমাধানে বিশ্বনেতাদের অনিচ্ছার ফলে অনিশ্চিত হয়ে আছে সমাধান। সকলের এখন হতাশ জিজ্ঞাসা, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে? আদৌ রোহিঙ্গারা যাবে? এ উত্তর অজানা।

দিন দিন অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। ১১ ধরনের অপরাধের সাথে তারা জড়িত। খুন, গুম, সংঘর্ষ এখন রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে নিত্যকালের বিষয়।

২৬ আগস্টে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির ঘুরে দেখি এবং তাদের ভেতরে কারা অর্থাৎ কোন বয়সীরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত সেটি জানবার চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ক্যাম্পের ভেতরে বিভিন্নভাবে ল্যাপটপের মাধ্যমে অফলাইনে পর্ন ভিডিও ও উগ্রপন্থী বক্তব্যের ভিডিও সরবরাহ করা হয়।

এতে করে তাদের ভেতর যেমন বাড়ছে ধর্ষন করবার প্রবনতা, তেমন করেই বাড়ছে উগ্র হবার প্রবনতাও । এই উগ্রতা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষমতার প্রতি একটি অস্বাভাবিক আবেদন তৈরি করেছে। বিশেষত টিকে থাকার জন্যই ৷ এতে করে রোহিঙ্গা শিবিরে প্রত্যেক দিন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ৷ এই সংঘর্ষের হার জিতের আনন্দ বা ক্ষোভ তাদের ভেতর তৈরি হওয়ার ফলে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার ছেড়ে অন্যকোথাও যাবার আগ্রহ দেখাচ্ছে না ৷

রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জেনেছি, রোহিঙ্গারা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার চলে যেতে চায়। কিন্তু তারা অন্যকোনো স্থানে স্থানান্তরিত হতে চান না ৷ তাদের দাবি মিয়ানমার সরকার তাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাক। বিশ্ববাসী সে কাজটা তাদের জন্য করুক।

বাংলাদেশ সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরিত করবে। ভাসানচরকে সেভাবে সাজানোও হয়েছে । কিন্তু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ নিয়ে একটি দাবি তারা যাবে না ৷ ভাসানচরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ৪০ রোহিঙ্গা নেতা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য গিয়েছেন ৷ জানি না তাদের অনুভূতি বা সম্মতি আসবে কি না । তবে প্রশ্ন হলো রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান আসলে কোথায়? তারা যাবেই বা কোথায়?

রোহিঙ্গারা ভাসান চরে যাক সে প্রত্যাশা অবশ্যই করি, কক্সবাজারের অনেক ক্ষয়ক্ষতি কমবে। তবে আমাদের আন্তর্জাতিক মহলকেও একটু বেশি সজাগ ও সচল করতে হবে ৷ ভারতের সাথে বন্ধুত্ব, চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিকে কাজে লাগিয়ে সমাধানকে সহজ করা যেতে পারে ৷

লেখক: সাংবাদিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন