• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

রামু বৌদ্ধবিহারে আগুন : পরিকল্পিত নাশকতা

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক: / ৬৭৪ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৪

কক্সবাজারের রামু সদরের বৌদ্ধবিহারে আগুন দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নাশকতার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই নাশকতার অন্তত ২০ মিনিটে আগে রামু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করে দূর্গম এলাকায় আগুন লাগার মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটাস্থ রাখাইন সম্প্রদায়ের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরি ‘উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারে (বড় ক্যাং) এই নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়। এতে আগুনে বিহারটির কাঠের সিঁড়ির অংশ পুড়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়নি।

ঘটনার পর থেকে শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জেলাব্যাপী নানা আলোচনা শুরু হয়। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার, উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। একইসঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ৩০টি বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার ঘটনায় পুলিশের করা ১৮টি মামলার ৯ বছরে বিচার হয়নি। ফলে শনিবার সকাল থেকে বিহারের আগুনের ঘটনা নানাভাবে বিশ্লেষণ করে প্রশাসন। ইতিমধ্যে বিহারের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও র‌্যাব।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারি পুলিশ সুপার জামিলুল হক জানান, বৌদ্ধবিহারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যেখানে মুখে মাক্স পড়ে এক যুবক বিহারের দেয়াল টপকিয়ে প্রবেশ করে আগুন দেয়ার ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আগুন দেওয়ার আগে ব্যবহার করা হয়েছে কেরোসিন। বিহারের অবস্থানরত ভান্তে এবং অন্যান্যরা জানিয়েছে প্রবেশের প্রধান দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সব কিছু বিবেচনায় এটা পূর্ব পরিকল্পিত নাশকতা বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর নাশকতার আগেই ফায়ার সার্ভিসকেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়।

ফায়ার সর্ভিসের রামু স্টেশনের ইনচার্জ সুমেন বড়ুয়া জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে একটি এয়ারটেল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় ঈদগড় বাজারে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে রওয়ানা হন তারা। গাড়িটি জোয়ারিয়ানালা অতিক্রম করার পর একই ফোন নম্বর থেকে আবারও ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় কতদূরে রয়েছেন এবং তাড়াতাড়ি আসতে বলা হয়। অবস্থান ফোনের ব্যক্তিকে জানিয়ে দ্রুত যাওয়ার হচ্ছে বলে জানানো হয়। কিন্তু ঈদগড় বাজারে পৌঁছার পর কোথাও আগুন দেখা যায়নি। এসময় নম্বরটিতে ফোন করা হলে ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে রামুর দিকে আসার পর বিহারের পক্ষে ফোনে আগুনের বিষয়টি জানানো হয়। পরে বিহারের গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বিহারটির ভিক্ষু জ্ঞানালংকার মহাথের বলেন, ‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছিল। আগুনে পোড়ার গন্ধে ঘুম ভেঙে গেলে দেখেতে পাই চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। সবাইকে ঘুম থেকে তুলে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান দরজা বন্ধ পাই। পেছনের দরজা থেকে বের হয়ে আগুন দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এসে আগুন নেভানো শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ‘শুক্রবার রাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটাস্থ রাখাইন সম্প্রদায়ের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরি উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারের (বড় ক্যাং) পুরোহিতসহ অন্যরা প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাত ২টার দিকে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এসময় বৌদ্ধ বিহারের ভেতরে অবস্থানকারিরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বৌদ্ধ বিহারটির ভেতরের একটি সিঁড়ি পুড়ে  গেছে। তবে তাৎক্ষণিক আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন