• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

পেকুয়ার টৈটংয়ে পেঁপের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে কলা বাগান

ফারেকুল ইসলাম: / ৪১৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সাগর কলার চাষ। বাড়ির পাশের পতিত জমি, পুকুরের পাড়, এমনকি ফসলি জমিতেও অনেকেই চাষ করছেন কলা। বাজারে চাহিদা থাকায় ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় বাড়ছে কলা চাষ। ইতিমধ্যে অনেকে কলা চাষ করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। তারমধ্যে একজন মনজুর আলম (৫৫)। পেঁপে বাগানের ক্ষতি পুষিয়ে তিনি এখন কলা চাষে বেশ লাভবান হয়েছেন। বাড়িয়েছে কলা বাগানও।

কলাচাষি মনজুর আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলা চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কলাগাছের চারা রোপণের অল্পদিনের মধ্যেই বেড়ে ওঠে এবং দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

কলাচাষি মনজুর বলেন, টৈটং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ছনখোলার জুম এলাকায় তিন বছর আগে ১ একর জমিতে পেঁপে বাগান শুরু করি। এক বছর না যেতেই প্রায় পেঁপে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতি গুনতে হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা । এই ক্ষতির মাঝেই সাগর কলার চাষ শুরু করি। প্রথমে ৫০ শতক জমিতে কলার চারা রোপন করি প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে। এতে বছরের মাথায় লাভ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত। এরপর পাশের আরো একটি ৫০ শতক জমিতে কলা চাষ করি। প্রায় ১০০ শতক জমিতে কলার চারা, সার ও শ্রমিক বাবদ বছরে খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বছরে আয় হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছর কলা চাষে লাভ এখন প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি। মনজুর একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

তিনি বলেন- বছরে দুই বার কলার কাঁদি বিক্রি করা যায়। প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কলার কাঁদি বিক্রি হয়। পাইকারি দামে প্রতি কাঁদি ৩৫০ টাকায় বিক্রি করি। কলার কাঁদি ছাড়াও চারা বিক্রি করা হয় প্রতি পিচ ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। বছরে একবার চারা রোপণ করা হলে তা তিন বছর ভালোভাবে ফলন দিতে পারে যা অন্য কোনো ফসলের ক্ষেত্রে সম্ভব না।

মনজুর আলম বলেন, ‘আমার পেঁপে চাষ করে যে ক্ষতি হয়েছে; কলা চাষ করে তা পুষিয়ে উঠেছি। প্রায় আড়াই বছর ধরে কলা চাষ করি। তাছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে খরচ কম।’

মনজুরের এই কলা পাইকারি দামে কিনে নেন স্থানীয় হাজী বাজারের নেজাম সওদাগর। তারমধ্যমে পেকুয়া বাজার, আরবশাহা, নাপুরা, প্রেম বাজার, সরলিয়া বাজার ও সবুজ বাজারসহ পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারের চাহিদা পূরণ করছে।

মনজুরের কলা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন- বর্তমানে এখানকার অনেকেই কলা চাষে ঝুঁকছে। চাষিরা যেখানে জায়গা পাচ্ছে কলা চাষ করছেন। কলা চাষে কোনো লোকসান না হওয়ায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তাঁদের। অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লোকসানের সম্ভবনা থাকে।

পেকুয়া উপজেলার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ছৈয়দ আলম বলেন- মনজুর আলমসহ যারা কলা চাষ করেন তাদের বাগান নিয়মিত পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। সঠিক পরামর্শে কলা চাষে লাভবান হচ্ছে মনজুর। তারমতো অনেকেই এখন কলা চাষ শুরু করেছে। কলাতে লাভজনক হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। কলাচাষির সঙ্গে কৃষি কার্যালয় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন