• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

দরিয়ানগর সৈকতে উপজাতি তরুণী গণধর্ষণের শিকার

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬১৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ছবি: প্রতীকি।

বিশেষ প্রতিবেদক

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতের প্যারাসেইলিং পয়েন্টে এক উপজাতি তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক মাস আগে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কতিপয় সমাজনেতারা বিষয়টি কৌশলে ধামাচাপা দেন। বিষয়টি প্রকাশ না পেতে ঘটনায় জড়িত চার যুবককে ধর্ষণের প্রায় ৫ দিন পর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধরও করেছে কয়েকজন সমাজনেতা।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে সাগরতীরের পাশে উপজাতি তরুণী গণধর্ষণের বিষয়ে সর্বত্রে তোলপাড় ও গুঞ্জুন চলছে। তবে ভুক্তভোগিরা নিজ ও পরিবারের মান-সম্মানের ভয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করছে না। কিন্তু তারা অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং পয়েন্ট। প্রায় এক মাস আগে এক উপজাতি তরুণী তার একবন্ধুকে নিয়ে দরিয়ানগর সৈকতের প্যারাসেইলিং পয়েন্টে নামেন বিকালের দিকে। সন্ধ্যায় তারা সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে রাস্তার দিকে রওনা দেন। ওই সময় দরিয়ানগরস্থ বড়ছড়া এলাকার কিছু যুবক তাদের পথ গতিরোধ করে সাগরতীরে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগি যুবক বলেন, প্রায় ৭ জন যুবক মাগরিফের সময় আমাদের দুইজনকে আটকে প্যারাসেইলিং পয়েন্টের অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এক পর্যায়ে তিনজন আমাকে আটকে রাখে, অপর চারজন আমার উপজাতি বান্ধবীকে গণধর্ষণ করে। প্রায় ৩০ মিনিট তারা আমাদের আটকে রাখে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে আমাদের দু’জনের কাছ থেকে প্রায় নগদ ১৬ হাজার টাকা কেড়েও নেন। বিষয়টি প্যারাসেইলিং পয়েন্টের অনেক দোকানদার ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা দেখেছিল। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে তারা আমাদের ছেড়ে দিলে আমরা চলে আসি।

তিনি বলেন, উপজাতি তরুণীটি আমার বান্ধবী। তার বাড়ি বান্দরবানে হলেও কক্সবাজার কলাতলীর দিকে থাকেন। কিন্তু আমাদের সাথে যা ঘটেছে তা কোন দিনও কাম্য করিনি। সমাজের কাছে নিজের ও পরিবারের সম্মান চিন্তা করে অভিযোগও দায়ের করতে পারছি না। কোথাও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রকাশ্যে হতেও পারছি না।
এদিকে ঘটনার ৫ দিন পর কলাতলী এলাকার এখলাস নামে এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগিরা দরিয়ানগরস্থ বড়ছড়ার কতিপয় সমাজ নেতাদের সাথে এবিষয়ে স্বশরীরে গিয়ে কথা বলেন এবং ঘটনায় জড়িত চারজন যুবককে সমাজ নেতারা ব্যাপক মারধরও করেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কলাতলী এলাকার এখলাস বলেন, ভুক্তভোগি ছেলেটি প্রায় ৩ বছর ধরে আমার পরিচিত। বিষয়টি আমাকে বললে, আমি ওই এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বলি। কথা বলার পর এই ছেলে ও তার উপজাতি বান্ধবীসহ ঘটনাস্থল প্যারাসেইলিং পয়েন্ট যায়। সেখানে ঘটনায় জড়িত চারজন যুবককে ব্যাপক মারধর করা হয় প্রকাশ্যে। ওই উপজাতি তরুণীর কাছ থেকে ক্ষমাও চান তারা। তাদের সাড়ে ৯ হাজার টাকা ফেরত দেন।
এদিকে ঘটনায় জড়িত দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকার চারজন যুবককে ব্যাপক মারধরের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংগ্রহে রয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় ওই চার যুবককে লাঠি দিয়ে মারধর করছে বড়ছড়া এলাকার মো. ঈসমাইল ও রেজাউল করিম। পায়ে ধরে ভুক্তভোগি তরুণীর কাছ থেকে ক্ষমাও চাইতে বলেন তারা। ওই চার যুবকরা হলেন, বড়ছড়া এলাকার জামাল, মো. আমির হোসেন, মো. শফিক ও মো. ইসলাম।
ঘটনার বিষয়ে ঈসমাইল বলেন, কলাতলী এলাকার এখলাসের মাধ্যমে ভুক্তভোগিরা আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা এটি সমাধানের চেষ্টা করেছি। গণধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে, ধর্ষণের বিষয়ে জানেন না বলে উত্তর দেন ঈসমাইল। তাহলে কেন ওই চার যুবককে এভাবে পিটানো হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আবার মোবাইল করা হলে তিনি নিজেকে ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় রেজাউল করিমের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিচারের সময় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, যারা বিচার করেছে তাদের আত্মীয়-স্বজন ওই চারজন যুবক। যার কারণে ঘটনাটি প্রকাশ না হতে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখে না পড়তে জড়িত মুল চারজনকে লাঠি দিয়ে পিটানো হয়েছে অনেক। তাদের পিটানোর সময় ওই উপজাতি তরুণী ক্ষোভে অনেক গাল-মন্দও করেন। ঘটনার দিন কি কি হয়েছিল সব বলেছে ওই তরুণ-তরুণী। মুলত ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করায় তাদের ইচ্ছা মতো পিটানো হয়েছে।

এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, যদি ঘটনা সঠিক হয় তাহলে খুবই খারাপ হয়েছে। আর এখনো পর্যন্ত এবিষয়ে কেউ অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। যদি ভুক্তভোগিরা থানা বরাবরে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাহলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।

তিনি বলেন, ধর্ষণের বিচার সমাজের লোকজন করার নিয়ম নেই। যদি কেউ মারধর বা বিচার করে তাকে, তাহলে ঠিক করেনি। ভুক্তভোগিরা চাইলে যারা বিচার করেছে তাদেরও আসামী করতে পারে।

বিষয়টি অবগত করা হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ ঘটনাটি খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন