• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

জেলা জজের সীল-স্বাক্ষর নকল করে আসামীর জামিন নিতেন হাইকোর্ট থেকে!

নিজস্ব প্রতিদেক / ৮৬৯ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ সহ একাধিক বিচারক, নকল খানার প্রধান, জেলা প্রশাসক, জেল সুপার, মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সিল নকল-স্বাক্ষর করে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছেন এক প্রতারক। জেলা জজের ভূয়া সীল-স্বাক্ষর তৈরী করে হাইকোর্ট থেকে আসামীর পর্যন্ত জামিন নিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসা প্রতারণা সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির নজরে আসে। আইনজীবী সমিতির দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার কক্সবাজার আদালত এলাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলার ২০ নাম্বার কক্ষে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতারক মইন উদ্দিনকে আটক করা হয়। মইন ওই কক্ষে বসে প্রতারণার যাবতীয় কাজ করতেন।

অভিযানে প্রতারকের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের ২৩ টি সীল মোহর ও মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ের একাধিক জাল ডকুমেন্ট। এরপর প্রতারক মইনের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মসজিদ মার্কেটের নিচ তলার কম্পিউটার দোকান হাজী এন্টারপ্রাইজেও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও জাল ডকুমেন্ট পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত কক্ষ দুটি সীলগালা করে দেন।

আদালতের কাছে প্রতারক মইন নিজের অপরাধ স্বীকার করলে আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদ- দেন। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায় তার সহযোগী কম্পিউটার অপারেটর মো. শফি। প্রতারক মইনের বাড়ি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নে।

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিসি রায়হান কায়সার।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ভিজিল্যান্স টিম ও টাউট দালাল নির্মুল কমিটির সদস্য অ্যাড. মো. ফয়সাল বলেন, প্রতারক মইন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে আদালত এলাকায় প্রতারণা করে যাচ্ছেন। জেলা ও দায়রা জজ, নকল খানার প্রধান, জেল সুপার, ডিসিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সীল মোহর ও স্বাক্ষর নকল করেন তিনি।

এমনকি জেলা ও দায়রা জজের সীল-স্বাক্ষর নকল করে ভূয়া ডকুমেন্ট তৈরী করে হাইকোর্ট থেকে আসামীর জামিন নিয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ভূয়া জামিন কপি দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাও করেছে। জামিন ফর্মে ভূয়া সাইন দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মইন নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিত। কিন্তু তিনি আইনজীবী বা আইনজীবী সহকারী কোনটাই নয়। সম্প্রতি তার প্রতারণার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করলে মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। মইনের মত টাউটদের আইনের আওতায় আনতে আইনজীবী সমিতি কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন