• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিহত ভিসা ছাড়াই আড়াই বছর বাংলাদেশের উপকূলে নিউ জিল্যান্ডের পরিবার কক্সবাজারে ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখন্ডিত : নিউজিল্যান্ডের এক শিশু নিখোঁজ কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা!

চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ নিয়ে দুইভাইকে হত্যা করেছিল ওসি প্রদীপ

নিজস্ব প্রতিদেক / ৩০৩ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২২
টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ গ্যাং। ফাইল ছবি।

বিশেষ প্রতিবেদক:
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এরিমধ্যে টেকনাফেই ১৬১ জনকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। মহেশখালীতে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বন্দুকযুদ্ধের নামে অনেক মানুষকে হত্যা করেছেন।

কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ ও মহেশখালীতে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, মোটা অংকের চাঁদা না পেয়ে অথবা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওসি প্রদীপ এসব মানুষকে হত্যা করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা খুবই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর। বন্দুকযুদ্ধের নামে একই পরিবারের তিন ভাই, দুই ভাই, বাবা-ছেলে, ভায়রা-ভগ্নিপতিকে একসঙ্গে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা বেশ আলোচনায় ছিল।

একটি হচ্ছে পূর্ববিরোধের জের ধরে আমানুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক (৩৭) ও আজাদুল ইসলাম আজাদ (২৩) নামে দুই ভাইকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে ধরে টেকনাফে এনে কথিত বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে হত্যা করেছিলেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

নিহতদের মধ্যে আজাদুল ইসলাম আজাদ ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে বাহরাইন থেকে দেশে এসেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কারাগারে গেলে দুই বছর পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে নিহতদের পরিবার।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহারে নিহতদের ছোট বোন রিনাত সুলতানা শাহীন উল্লেখ করেছিলেন, ছোট ভাই আজাদুল ইসলাম আজাদ পাঁচ বছর বাহরাইনে কমর্রত ছিলেন। পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের জুন বা জুলাই মাসে তিনি বিদেশ থেকে ফেরেন। বড় ভাই আমানুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক (৩৭) দেশে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতেন। আজাদ দেশে আসার খবর পান টেকনাফ থানার ওসির দায়িত্বে আছেন প্রদীপ কুমার দাশ।

২০১৮ সালের ১৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চন্দনাইশের কাঞ্চননগর রৌশন হাট ফকিরপাড়ার সামনে রাস্তা থেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক দল লোক দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। পরে ১৫ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই দিন রাত ১টার দিকে তাদের মায়ের কাছে ফোন করে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জুলাই সকাল ৭টায় প্রদীপ কুমার দাশ বাদীর মায়ের মোবাইলে কল করে ফারুক ও আজাদের মরদেহ চিহ্নিত করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাদের মরদেহ নিয়ে আসে। দুই ভাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন বলে জানানো হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে দায়িত্বে থাকাকালে প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে দুই ভাই ফারুক ও আজাদের মামলা সংক্রান্ত কারণে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে দুই ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

প্রদীপ কুমার দাশের কথিত বন্দুকযুদ্ধের আরেকটি চাঞ্চল্য ঘটনা ইউপি সদস্য উখিয়ার বখতিয়ার উদ্দীনের মৃত্যু। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার মাত্র এক সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটে। এটি ছিল ওসি প্রদীপ কুমার দাশের শেষ ‘বন্দুকযুদ্ধ’। বখতিয়ার উদ্দীনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফে নিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছিল। তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়ি থেকে ৫১ লাখ টাকা লুট করেছিল ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও উখিয়া থানার তৎকালীন ওসি মর্জিনা আকতার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিহত ইউপি সদস্যের ছেলে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দীন বলেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছিল ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তার টার্গেট ছিল বাবাকে হত্যা করে টাকা লুট করা; সেটি তিনি করেছেন।

হেলাল উদ্দীন বলেন, ওসি প্রদীপ একজন দানব। তার হাতে খুন হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। সর্বশেষ আমার বাবা বখতিয়ার উদ্দীন মেম্বারকে ওসি প্রদীপ হত্যা করেন। আমরা বিশ্বাস করি আমার বাবা নির্দোষ ছিলেন। তাই তাকে নির্মমভাবে হত্যার অভিশাপ পড়েছে ওসি প্রদীপের ওপর। তার জ্বলন্ত প্রমাণ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরেক নির্দোষ ব্যক্তি সিনহাকে হত্যা করে ফেঁসে গেছেন প্রদীপসহ ও তার সহযোগীরা।
একইভাবে টেকনাফের তিন সহোদর, দুই সহোদর, বাবা-ছেলে ও ভায়রা-ভগ্নিপতিকে একসঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেছেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার সহযোগীরা। স্বামীকে হত্যার পর স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে থানায় আটকে ধর্ষণের ঘটনাও আছে বেশ কয়েকটি। সে সময় প্রদীপ কুমার দাশের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন