কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা পুরাতন জাদিরাম বৌদ্ধ মন্দিরের পাহাড়ে পরিত্যক্ত ঘরে টর্চার সেল স্থাপন করে আগত পর্যটকদের ছিনতাই, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৪ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫ এর সদস্যরা।
র্যাব জানান- সাম্প্রতিক সময়ে বৈদ্যঘোনা জাদিরাম পাহাড়ের উপর পরিত্যক্ত ঘরে টর্চার সেল স্থাপন করে একটি ডাকাত চক্র বিভিন্ন পর্যটক ও নিরীহ সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে বেদম প্রহারের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় ও মাদক সেবনের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এমন খবরের সত্যতা যাচাই ও ডাকাত চক্রটি গ্রেফতারপূর্বক র্যাব-১৫ এর একটি গোয়েন্দা দল ব্যাপক তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৈদ্যঘোনা এসএ ক্যাং জাদিরাম পাহাড়ের উপর একটি ডাকাত দল ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর রাতে র্যাব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যগণ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ দিক-বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে চারজনকে আটক করা হয়। এসময় ডাকাত দলের হেফাজতে থাকা ১ (এক) টি কিরিচ, ৩টি ছুরি, ২টি প্লাষ্টিকের পাইপের লাঠি, ১টি কালো রশি এবং ৩টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শহরের ঘোনার পাড়া এলাকার বান্টু দাশের ছেলে উজ্জ্বল দাশ (২৮), মৃত বিমল দের ছেলে উৎপল দে (২৯), মৃত দুলাল ধরের ছেলে বিধান ধর (৩০) ও কাজল রুদ্রের ছেলে অরুর রুদ্র (২২)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের নিরীহ মানুষকে টার্গেট করে সুযোগ বুঝে তাদের কাছ থেকে মোবাইল, টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করতো গ্রেফতারকৃত চক্রটি। এছাড়াও ভিকটিমদের বিভিন্ন সময় বৈদ্যঘোনা জাদিরাম পাহাড়ের উপর পরিত্যক্ত ঘরে টর্চার সেল আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে বিশাল অংকের মুক্তিপণ আদায় করতো বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।