রামু উপজেলার ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (পেশকার) হীরা পাল এর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় সরাসরি এসিল্যান্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুসের টাকা আদায় করেন হীরা পাল। সম্প্রতি হীরা পালের এরকম একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনা ফাঁস হলেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রামু ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (পেশকার) হীরা পাল চাকুরির যোগদানের পর থেকে রামু ভূমি অফিসে। রামুতে এসিল্যান্ড এর নাম ভাঙ্গিয়ে ঘুষ নেন অফিস সহকারী হীরা পাল। বিনা মূল্যে সেবা প্রদানের কথা থাকলেও রামু উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুস ছাড়া মিলে না কোন প্রকার সেবা। খতিয়ান সৃজন, সংশোধন, নামজারি, মিস মমলাসহ প্রতিদিনকার সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে নানা অযুহাতে আদায় করেন লাখ লাখ টাকা। এসব ঘুসের টাকা আদায়ের জন্য হীরা পাল নিজ উদ্যোগে নিয়োগ দিয়েছেন টিপু বড়ুয়া নামে এক উম্মেদার। এই টিপু বড়ুয়ার মাধ্যমেই অধিকাংশ সেবা গ্রহিতার কাছ থেকে ঘুসের টাকা আদায় করেন হীরা পাল । দালাল কে লালন পালন করনে হিরা পাল।দালালেরা সরাসরি হিরা পালের সাথে যোগাযোগ করলে দেখিয়ে দেন টিপু বড়ুয়ার কাছে যান।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রামু উপজেলা ভূমি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, অফিসে লিখা আছে আপনি সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছেন। অফিসের সব দেয়াল ও পিলারে সাঁজানো রয়েছে এসব সতর্কবাণী। অফিসকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এমন উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবচিত্র ঠিক উল্টো।
অবাক করা ব্যাপার হলো, ঘুষসহ সব অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেন অফিস সহকারী হীরা পাল নিজেই। নিজেই কাজের ধরন ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষের হার নির্ধারণ করে দেন। পদ অনুযায়ী ঘুষের টাকার ভাগ কে কত পাবে সেটাও নির্ধারণ হয় তার সিদ্ধান্তে। হীরা পালের অবৈধ আয়ের আরও একটি অন্যতম উৎস হলো মোবাইল কোর্টের জরিমানার টাকা আত্মসাৎ করা।
সূত্র জানায়- মোবাইল কোর্টে এসিল্যান্ড কর্তৃক যেসব জরিমানা করা হয়, সে সব জরিমানা আদায়ের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নির্ধারিত জরিমানার ৩ থেকে ৪ গুন টাকা আদায় করেন এই দুর্নীতিবাজ হীরা পাল। অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও সম্পূর্ন টাকার রশিদ প্রদান না করে অর্ধেকেরও কম টাকা আদায়ের রশিদ প্রদান করা হয় অভিযুক্তদের কাছ থেকে।
সম্পূর্ন পরিশোধকৃত টাকার রশিদ কেন দেয়া হয়নি জানতে চাইলে হীরা পাল অকপটেই স্বীকার করেন- “বাকী টাকা এসিল্যান্ড স্যার নিয়েছে’। এরকম একাধিক তথ্য প্রমান গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে।
সুত্র আরো জানায়, সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে একটি খতিয়ান সংশোধনের নামে ১ হজার থেকে ১০ হাজার টাকা নেন তিনি। নামজারি খতিয়ানের জন্য নেয়া হয় ১০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে হীরা পাল আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক এবং কক্সবাজারের সাবেক এমপি কমলের আস্থাভাজন। যার কারনে এতোদিন অফিসের কেউ তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেনি। জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে রামু উপজেলা প্রশাসন মিঠাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ড্রাম ট্রাককে বালি তোলার অপরাধে জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উপজেলা ভূমি অফিসে। গাড়িটির মালিক আনোয়ার কলঘর এলাকার বাসিন্দা। এই গাড়িটি ছাড়িয়ে আনতে নানা চেষ্টা করে আসছিলেন। পরে হীরা পালের কথামত তার দাবীকৃত ৩৫ হাজার টাকা হীরা পালের হাতে দেন। কিন্তু হীরা পাল জরিমানা আদায় বাবদ রশিদ দেন ২০ হাজার টাকার।
বিষয়টি গাড়ির মালিক জানতে চাইলে হীরা পাল উত্তর দেন- “বাকি ১৫ হাজার টাকা এসিল্যান্ড স্যার নিয়েছে’। যদি বেশি কথা বলো গাড়ির জন্য জরিমানা আরো দ্বিগুণ করা হবে। এবং গাড়ী রেখে যেতে হবে।এই কথা বলে গাড়ির মালিককে ভয়ভীতি প্রদান করেন হীরা পাল। ২/৩ মাস পূর্বে রশিদ নগর ইউনিয়ন এর পানিরছড়া এলাকার রাশেদ নামে এক ব্যক্তির একটি ড্রাম ট্রাক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উপজেলা ভূমি অফিসে। পরে গাড়িটি ছাড়িয়ে আনতে হীরা পালকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরকম অসংখ্য ভুক্তভোগীর অডিও রেকর্ড ভিডিও বক্তব্য গণমাধ্যম কর্মীদেন হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
এসব অপকর্মের বিষয়ে জানতে রামু উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (পেশকার) হীরা পালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরকম কোন ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এসিল্যান্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে হীরা পাল অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানতে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল এর মুঠোফোনে অসংখ্যবার ফোন করা হলেও তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।