• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

উপকূলের ত্রাস মগনামার চেয়ারম্যান ইউনুস আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩১৪ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪
ফাইল ছবি।

কক্সবাজারের পেকুয়া মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুসকে আটক করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে চকরিয়া থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। পেকুয়ার চাঞ্চল্যকর অধ্যক্ষ আরিফ হত্যা মামলায় আদালতে দায়েরকৃত দরখাস্তের ৫ নম্বর আসামি ইউনুস। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র মামলাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থ্যানের পর থেকে একপ্রকার পলাতক ছিলেন তিনি। যার কারণে মগনামা ইউনিয়ন জুড়ে নাগরিক সেবা বঞ্চিত মানুষ চরম দূর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল করার দাবী জানান।

এদিকে শীর্ষ এই অপরাধীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে ইউনুসকে রিমান্ডে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন অধ্যক্ষ আরিফ হত্যা মামলার বাদি।

জানতে চাইলে পেকুয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘অধ্যক্ষ আরিফ হত্যা মামলায় ইউনুছকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে কিনা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া-কুতুবদিয়া উপকূলের ত্রাস ইউনুচ অপরাধ জগতের সর্দার হলেও পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের গুটি কয়েক নেতা ও যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের শেল্টারে থাকায় এলাকার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। ইউনুচের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা ও আদালতে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা সহ আরো বহু মামলা রয়েছে। ইউনুচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত জলদূষ্য ও অবৈধ অস্ত্রধারী হিসাবে প্রশাসনের তালিকাভূক্ত দাগি অপরাধী।

জানা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেসব দলের নেতাদের ম্যানেজ করে ইউনুচ দল পাল্টায় এবং নিজের অপরাধ কর্মকান্ড আরো প্রসারিত করে। দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়ার মগনামা কুতুবদিয়া উপকুলে জলদস্যুতাসহ নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে বেপরোয়া ইউনুচ। বরাবরই এসব অপরাধের অন্যতম সহযোগী ছিলেন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। গত ৫ আগস্টের পূর্বে পেকুয়ার রাজপথে ইউনুচের নেতৃত্বে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে একাধিকবার। এসব সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পেকুয়ার ছাত্র জনতা ও বিএনপি জামাতের নেতাকর্মীদের শক্তভাবে মোকাবেল করার হুমকি দিয়েছিল। ৫ আগষ্টের পর থেকে চেয়ারম্যান ইউনুছ পলাতক থাকায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। এতে নাগরিক সেবা পেতে মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, জাতীয়তা সনদ, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নানা ধরনের সেবা পেতে চেয়ারম্যানকে দরকার হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় পলাতক ওই চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দূর্দশা লাগবের দাবী জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ইউনুছ চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের আমলে আমাদের অমানবিক নির্যাতন করেছেন। এখন তিনি পলাতক। এতে ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। দ্রুত তাকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ভোটারবিহীন নির্বাচনে ইউনুছের মতো একজন ডাকাত চেয়ারম্যান হয়েছেন, এটি মগনামাবাসীর জন্য কলংক। ৫ আগষ্টের পর থেকে তিনি পলাতক। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ। মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। শুনেছি আজ তিনি আটক হয়েছেন। আমরা ইউনুছকে সরিয়ে দ্রুত প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন