• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিহত ভিসা ছাড়াই আড়াই বছর বাংলাদেশের উপকূলে নিউ জিল্যান্ডের পরিবার কক্সবাজারে ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখন্ডিত : নিউজিল্যান্ডের এক শিশু নিখোঁজ কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা!

ইয়াবাতে কোটিপতি ‘ইজিবাইক চালক’ পরিবারের কাহিনী

নিজস্ব প্রতিদেক / ৪৭২ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক:
৪ বছর আগেও তিনি ছিলেন ইজিবাইক চালক। কিছুদিন পর ইজিবাইক চালক থেকে হন সিএনজি গাড়ির ড্রাইভার। সেখান থেকে পরিচয় হয় সাতক্ষীরা থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি করতে আসা বেসরকারি এনজিও সুশীলন এর সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেনের সাথে। ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন প্রথমে সুশীলনের অফিসে থাকলেও পরে ফেরদৌস এর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাদের বাসায় উঠে। তার কিছুদিন পর অটোচালক ফেরদৌস কে কাজে লাগিয়ে দুইজনে ইয়াবার ব্যবসা শুরু করেন ।

এভাবেই চেনা হয় ফেরদৌস এর চোরাচালানের অলিগলি। শুরু করেন ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবার পাচার। মাত্র পাঁচ বছর এ মাদক বেচাকেনা করে আমূল বদলে গেছেন তিনি। টেকনাফের হোয়াইক্যং হয়েছে তার কোটি টাকার বাড়ি। কোটি কোটি টাকার জায়গা কিনেছেন টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে। কিনেছেন একাধিক গাড়িও।

ইয়াবার ছোঁয়ায় ও এনজি কর্মী আবুল হোসের আশীর্বাদে রাতারাতি ধনী বনে যায় ফেরদৌস । সাথে এনজিও কর্মী আবুল কাশেমও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় তার নাম না থাকায় প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে তাকে এলাকায় চেনে ‘ইয়াবা তুতায়া’ নামে।

ফেরদৌস একা নন, মাদকের সঙ্গে সখ্য গড়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছে তার অন্য এক ভাই ও বোন জামাইরাও। অথচ পাঁচ বছর আগেও তার ভাই জুনায়েদ অন্যের গাড়ি চালাতেন। সেই ভাইও এখন নিজস্ব গাড়ি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা। তার পিতা কলিম উল্লাহ কোটি টাকার জায়গা কিনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ি করার।

তাদের বাড়ি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের উনছিগ্রাং গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন কলিম উল্লাহ ও তার পরিবার । নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া কলিম উল্লাহ অভাব-অনটনের সংসার কাছ থেকে দেখেছেন মেজ ছেলে ও ছোট ছেলে ফেরদৌস ও জুনায়েদ । তাই চোরাচালানের অপরাধে সবার আগে যুক্ত হন তারা।

এরপর তার থেকে দীক্ষা নিয়ে অন্ধকার এ পথে পর্যায়ক্রমে পা বাড়ান ফেরদৌস, জুনায়েদ, তার বোন জামাই আজিজ, ছোট বোনের জামাই মৌলভী মাঈন। সবাই যুক্ত মাদক ব্যবসার সঙ্গে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি কুতুবদিয়া এলাকায় ৭০ হাজর ইয়াবা ছিনতাই হয়েছে যার মূল নায়ক ছিলেন ফেরদৌস। ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে অললাইন পোর্টাল নাফ টিভি ও নাফ বিডি নিউজ নামক কয়েকটি অললাইন তার বিরুদ্ধে নিউজ চাপা হলে তার নাম আলোচনায় উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেড়িয়ে আসে।

ফেরদৌস অভাবের সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাতে এখনো অটোরিকশা সিএনজি চালান। তার পিতা কলিম উল্লাহ ওরফে মালেশিয়া হালু। কলিম উল্লাহ বৃদ্ধ বয়সে অভাবের কারণেই মালেশিয়া পাড়ি দেন । সেখানে একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় বয় ছেলে হিসাবে কাজ করে। কিন্তু বয়স বেড়ে যাওয়ায় তাকে সেখান থেকে মালিক পক্ষ বের করে দেন। সেখান থেকে বের হয়ে আরেকটি রেস্তোরাঁয় কিচেনে কাজ করেন। সেখানে দুই বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে দেশে চলে আসেন।

এর পরও কুলিয়ে উঠতে না পেরে ছেলে ফেরদৌস তার মামা মুফিজের অটোরিকশা সিএনজি ভাড়ায় চলাতেন।
সে টাকা দিয়েও তাদের সংসার চলতো না। তার পিতা কলিম উল্লাহ মালেশিয়া থেকে কিছু টাকা পাঠান ছেলেকে একটা ইজিবাইক কিনে দিবে। কিন্তু টাকা অল্প হাওয়ায় ইজিবাইক ক্রয় করতে না পেরে তার ছোট চাচা রুহুল আমিন একটি ইজিবাইক কিনে দেন। ইজিবাইক চালিয়ে প্রতিদিন ৬০০টাকা রোজগার হত। কিন্তু সে টাকা দিয়ে তার সংসার চলতো না।
কিন্তু গত তিন বছরের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন অতীতের ইজিবাইক চালক ফেরদৌস।

টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প তার পিতা কলিম উল্লাহ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে । নামে-বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের। তার অর্থের উৎস কী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি সময়ে অললাইন পোর্টাল ” নাফ টিভি “ও “নাফ বিডি নিউজ ” ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগে নিউজ করেছেন।
যেটি হুবহু কিছু অংশ তুলে ধরলাম , যেখানে ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে নাফ টিভি ও নাফ বিডি নিউজের প্রতিবেদক লিখেছেন, কুতুবদিয়া পাড়া এলাকায় অটোরিকশা সিএনজি থামিয়ে ৭০হাজার ইয়াবা ছিনতাই হয়েছে তার মূলহোতা ফেরদৌস।
তার বিরুদ্ধে এসব নিউজ করলে অললাইন পোর্টাল নাফ টিভির প্রতিবেদক মাহফুর রহমান কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে ফেরদৌস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন