• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

অনিয়ম-দুর্নীতিতে ছারখার বন

নিজস্ব প্রতিদেক / ৭৮৭ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

মুহাম্মদ হোসাইন:

চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে লিংকরোড বন বিটের কক্সবাজার সরকারি কলেজের পেছনের পাহাড় থেকে দিনে-রাতে মাটি কেটে পিকআপে করে কলেজের মাঠ ভরাট করার কাজ চলছিল। গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেন লিংকরোড বনবিট কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু অদৃশ্য কারণে পাহাড় কাটায় জড়িত লিয়াকত ও উসমানের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেন নি তিনি।

ওই মাসেই দক্ষিণ মহুরীপাড়ার বিসিক সংলগ্ন আরিফ সড়কের পাশে একটি বিশাল পাহাড়ে ৮/১০টি স্পটে পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায় লিংক রোড বিট কার্যালয়ের বনকর্মীরা। অভিযানে কোদাল, সাবল, বেলচাসহ বেশ কিছু পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করলেও কোন ব্যবস্থায় নেননি তিনি। উল্টো সেই পাহাড়ে দিনে-রাতে পাহাড় কেটে পুরো পাহাড়টিই সাবাড় হওয়ার পথে।

লিংকরোড বিট কার্যালয় সংলগ্ন মহুরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশে পাহাড় ও গাছ কেটে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন আবদুল্লাহর পুত্র ওয়াহিদ। বিট কার্যালয়ের পাশে বিশাল আকৃতির জারুল গাছ কেটে নিয়েছেন হেলাল। খোদ বনবিট কার্যালয়ের পাশে গাছ ও পাহাড় কেটে এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চললেও আইনগত কোন ব্যবস্থাই নেন নি তিনি।

জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চেইন্দা বনবিটের কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কাইম্যারঘোনা ষ্টেশনের পশ্চিমপাশে বিশাল পাহাড় কেটে সাবাড় করছিল মৃত ফজল আহমদের পুত্র ফরিদুল আলম চকিদার প্রকাশ ফরিদ মিয়া। সেখানে অনেক গাছও কেটে নেয়া হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেন নি বিট কর্মকর্তা আশরাফুল।

শুধু এসবই নয়, লিংকরোড বন বিটের কক্সবাজার সরকারি কলেজের পেছনে মাদ্রাসা সড়কে বনভূমি দখল করে বিশাল অট্রালিকা বানাচ্ছেন প্রবাসি জাহাঙ্গীর, চেইন্দা-লিংকরোড বন বিটের সীমানায় উঠনি এলাকায় আদর্শ মাদ্রাসা সড়কের দুই পাশে মৌলভী শামসু, সৌদি প্রবাসী মিজান, সাবুলু, চট্টগ্রামের আবু ছৈয়দ, দিদারুল আলম খোকন, আনোয়ার, মেহেদী, নুরুল ইসলাম, বাদশা, গিয়াসউদ্দিন, তাজউদ্দীন, নুর কায়েদা, আবদুল খালেক, রশিদা, মিনু, ছেনুয়ারা, রুবেলের মা, আবু, আবদুর রহমান, আবু তাহের, হউস্সাবাপের কাটায় জাকের হোসেন প্রকাশ কালাপুতু, সাইফুল অন্তত ৩০টি স্পটে চলছে পাহাড় কাটা ও পাহাড় কেটে দালান নির্মাণ।

এছাড়া সিরাজের ঘোনা এলাকায় দেদারছে চলছে পাহাড় কেটে ঘর-বাড়ি নির্মাণ। সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ বাইক্ক্যা সিরাজ ও মাহবুব আলম প্রকাশ পহরচাদ নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি চক্র বনভূমি বিক্রি করে পাহাড় কাটা ও ঘর তৈরীতে জড়িত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেই সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার।

এছাড়া চেইন্দা বনবিটের ছাদরপাড়া এলাকায় আজিজুল হক, ছৈয়দুল হক, ইদ্রিছ, হামিদ হোসন, মরিয়ম, বাদশা, সরওয়ার, নবী হোছনসহ ১০/১২টি পাকা দালান পাহাড় কেটে গড়ে উঠলেও শুধুমাত্র বাধা দিয়েই চুপ থেকেছেন বলে অভিযোগ বিট কর্মকর্তা আশরাফুলের বিরুদ্ধে। এছাড়া খোদ চেইন্দা বনবিট কার্যালয়ের পিছনের সীমানায় বড় আকাশমনি গাছ কেটে নিলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি তিনি। শুধু এসবই নয়, চেইন্দা ও লিংক রোড বন বিট এলাকায় পাহাড় কাটা, গাছ কাটা, নির্বিচারে বনভূমি দখল ও বনভূমিতে পাকা দালান নির্মাণযজ্ঞ চললেও ঘুষের বিনিময়ে চুপ থাকেন আশরাফুল। যার কারণে চেইন্দা ও লিংক রোড বন বিট এলাকা বিরাণ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

এদিকে বিট কর্মকর্তা আশরাফুলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লিংকরোড বনবিটের অনিয়ম-দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন স্পীড বোট চালক হাবিব। তিনি জ্বালানি কাঠ, চিরাই কাঠ, মাটি ও বালির গাড়ি, বনভূমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ, গাছ কাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ। এমন কোন স্পট বাকি নেই যেখানে হাবিবের পা পড়েনি। দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব এই হাবিবের। যার কারণে লিংক রোড ষ্টেশনে এক বছরের পোষ্টিং হলেও তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছেন।

এমনকি গত ২০ আগস্ট হাবিব মরিচ্যা বন বিটে বদলি হলেও তিনি এখনো বহাল থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি লিংকরোড বিটের সীমানা অতিক্রম করে ঝিলংজা ও কলাতলী বনবিট এলাকা পর্যন্ত চষে বেড়ান। সম্প্রতি ঝিলংজা বন বিট এলাকার হাজিপাড়ায় গিয়ে পিএমখালির মাটিভর্তি ডাম্পার আটকিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন গাড়ির মালিক মোস্তাকের কাছ থেকে।

পিএমখালীর ছনখোলার হাবিব উল্লাহর টমটম ও মালিপাড়ার কামাল হোসেনের ট্রলি আটকিয়ে আদায় করেছেন ১৩ হাজার টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে তিনি বিভাগীয় বন কর্মকর্তারও ধমক দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিট কর্মকর্তা আশরাফুলকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা তারেকুর রহমান ও সহকারী বন সংরক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের এসব অভিযোগ কখনো শুনেননি দাবি করে বলেন, এসব অভিযোগ আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব।

এছাড়া হাবিব এর বদলির বিষয় স্বীকার করে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন,’বদলি হলেও করোনার কারণে স্থগিত ছিল। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে এতোদিন কোন অভিযোগ কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন