• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

সাগরে মাদকের চালান লুট নিয়ে ১০ জনকে হত্যা

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক / ৩০৩ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩
নাজিরারটেক থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহ।

কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলে ট্রলার থেকে ১০ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে পুলিশ চারটি বিষয় মাথায় রাখছে। পুলিশের পাঁচটি দল একযোগে এই তদন্ত চালাচ্ছে।

সম্ভাব্য চারটি বিষয় হলো- নিহতরা জলদস্যু হতে পারে, তাই ক্ষুব্ধ জেলেরা তাদের হত্যা করেছে। নিহতরা জেলে হয়ে থাকলে ডাকাতরা তাদের হত্যা করেছে। জলদস্যুদের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ হত্যাযজ্ঞ। মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের চালানের লুট নিয়ে বিরোধ। সর্বশেষ কারণে এমন হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে দাবি করছেন মহেশখালী উপজেলার অধিকাংশ জেলে ও সাধারণ মানুষ।

তারা বলছেন, ট্রলারের মালিক নিহত সামশু মাঝি এবং আরেক নিহত নুরুল কবির ট্রলার ডাকাত। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ডাকাতির কোনো তথ্য না থাকলেও মাসে কয়েকবার সাগরে যেতেন তারা। এলাকায় প্রচার রয়েছে, এক প্রভাবশালী পরিবারের মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা চালান বহন করত এই দুজনের নেতৃত্বে একটি চক্র। আর এই ইয়াবা লুট করতেই চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। এর জন্য অনেকগুলো প্রশ্নও সামনে এসেছে।

আত্মীয় হলেও করিম সিকদারকে কেন দায়ী করছে সামশু মাঝির পরিবার:

নিহতদের পরিবারের পক্ষে কারণ উল্লেখ না করলেও এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি নিহত সামশু মাঝির স্ত্রী ও মা এ হত্যার পেছনে পুলিশের রিমান্ডে থাকা করিম সিকদার মাঝিকেই দায়ী করছেন। অথচ সামশু মাঝি ও করিম সিকদার পরস্পর আত্মীয়ও।

ট্রলার মালিক মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ারছড়া এলাকার ছনখোলা পাড়ার মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে সামশুল আলম প্রকাশ সামশু মাঝির স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানিয়েছেন, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার স্বামীর নেতৃত্বে ট্রলারযোগে সাগরে যান ১১ জন। স্বামীর সঙ্গে ফোনে সর্বশেষ কথা বলেন ৯ এপ্রিল সকালে। এরপর আর যোগাযোগ করতে পারেননি। তবে ১১ এপ্রিল সাগর থেকে ফেরা ৬ জন ট্রলার ডাকাতির অভিযোগে ট্রলারের সবাইকে হত্যার তথ্য জানিয়েছিলেন।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী সামশু মাঝির স্ত্রী রোকেয়া বেগম এজাহারে উল্লেখ করেছেন, শত্রুতার জেরে তার স্বামীর ট্রলারের মাছ ও জাল লুট করার চেষ্টাকালে বাধা দেওয়ায় বাইট্টা কামাল, আনোয়ার হোসেন, বাবুল মাঝি ও করিম সিকদারের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।

কিন্তু করিম সিকদারসহ এজাহারে উল্লেখ থাকা মানুষের সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধ কোথায়- এমন প্রশ্ন করা হলে পরিষ্কার কোনো উত্তর দেননি তিনি।

মহেশখালীর একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সামশু মাঝি ও করিম সিকদার একে অপরের আত্মীয়। একই কথা বলেছেন সামশু মাঝির মা সোনা খাতুনও। তিনি জানিয়েছেন, করিম সিকদার তার বেয়াই।

এ হিসেবে সামশু মাঝি ও করিম সিকদার একে অপরের তালই। কিন্তু ১১ এপ্রিল সাগর থেকে ফেরা ছয়জনের দেওয়া তথ্যমতে, সাগরে ডাকাতিকালে সামশু মাঝিদের ট্রলারের হিমঘরে আটকে হত্যার ঘটনায় যে ৭ ট্রলার ছিল তার একটিতে ছিলেন এই করিম সিকদার।

১১ এপ্রিল সাগর থেকে ফিরে এ তথ্য দেওয়া ছয়জন জানিয়েছিলেন, গভীর সাগরে ৯ এপ্রিল ট্রলারে ডাকাতি করার অভিযোগে মাতারবাড়ী এলাকার বাইট্টা কামাল, একই এলাকার নুর হোসাইন বহদ্দারের মালিকানাধীন দুটি ট্রলার, করিম সিকদার, আবছার মাঝি এবং বাবুল মাঝির ট্রলারসহ আরও সাতটি ট্রলার সামশু মাঝির ট্রলার ধাওয়া করে।

নিহত সামশু মাঝির ট্রলারের নিখোঁজ মুসা কোথায়:

হোয়ানকের ছনখোলা এলাকার আলী আহমেদ হায়দারের ছেলে মোহাম্মদ মুসা জীবিত না মৃত তার কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। মাতারবাড়ী, হোয়ানক, মোহরাকাটার কয়েক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানিয়েছেন, ১০ মরদেহ উদ্ধারে থাকা সামশু মাঝি ও নুরুল কবির জেলেদের কাছে আতঙ্কের নাম। অত্যন্ত সাহসী এই দুজন একসময়ের দুর্দান্ত ট্রলার ডাকাত। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কয়েক বছর ধরে তাদের নেতৃত্বে সাগরে ডাকাতি বন্ধ থাকে। তবে তারা ট্রলারে জেলে সেজে মাসে কয়েকবার সাগরে যান আর ২-৩ দিন পর ফিরে আসেন। সব সময় সঙ্গে থাকেন মুসা। এলাকায় প্রচার রয়েছে সামশু মাঝি ও নুরুল কবির মহেশখালীর এক প্রভাবশালী পরিবারের মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা চালান বহন করে থাকেন। এরপর থেকে সামশু মাঝি ও নুরুল কবিরের জীবনে পরিবর্তন দেখা যায়। বদলে গেছে ঘর, পোশাকসহ আর্থিক অবস্থাও।

৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাগরে গিয়েছিলেন সামশু মাঝি। ২৩ এপ্রিল উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে তার মরদেহও। ২৫ এপ্রিল মহেশখালী থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষের কংকালটিও ট্রলারের নিখোঁজ জেলেদের একজন বলে ধারণা করছেন পুলিশ। তবে ওই ট্রলারে থাকা মুসা প্রকৃত অর্থে কোথায়- এ নিয়ে রয়েছে রহস্য। হোয়ানকের ছনখোলা এলাকার কয়েকজন জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে মুসার দেখা মেলেনি।

আত্মসমর্পণ করা সাগরের ডাকাতদের নাম যেভাবে শোনা যাচ্ছে:

১০ মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর নানাভাবে আলোচনায় আসছে এর আগে আত্মসমর্পণ করা ডাকাতদের অনেকের নাম। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল সাগর থেকে ফিরে প্রথম তথ্যদাতা ছয়জনের মধ্যে একজন রয়েছেন- যার বাবা আত্মসমর্পণকারীদের একজন। এ ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন ছামিরাঘোনা এলাকার আবু জাফরের ছেলে নজরুল। আবু জাফরই আলোচিত ডাকাত ও আত্মসমর্পণকারী।

মহেশখালীর একাধিক লোকজন জানিয়েছেন, সাগরে সামশু মাঝির ট্রলারে হামলা করা সাত ট্রলারে ছিলেন সোনাদিয়া এলাকার আলোচিত ডাকাত সুমন, মঞ্জুর ও মোনাফ। তিনজনই আত্মসমর্পণকারী। শুধু তাই নয়, পুলিশের রিমান্ডে থাকা বাইট্টা কামাল বহুল আলোচিত সার পাচারকারীও।

সাগরের ডাকাত হত্যা বলে প্রচারে মরিয়া একটি চক্র:

গত ১১ এপ্রিলের পর থেকে সামশু মাঝির নেতৃত্বে ট্রলার ডাকাতি করতে গিয়ে এদের হত্যার কথা নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাগরে সুনির্দিষ্ট কোনো ট্রলারে ডাকাতির কোনো তথ্য পুলিশের কাছে কেউ জানায়নি।

সামশু মাঝির স্ত্রী রোকেয়া জানিয়েছেন, বাইট্টা কামাল, তার ভাই ও আত্মীয়স্বজন, করিম সিকদাররা মিলে তার স্বামীসহ সবাইকে ডাকাত বলে প্রমাণ করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

২৩ এপ্রিল গুরা মিয়া নামে এক ব্যক্তির একটি ট্রলার সাগরে ভাসমান থাকা ট্রলারটি নাজিরারটেক উপকূলে নিয়ে আসে। আর ওই ট্রলারের হিমঘর থেকে হাত-পা বাঁধা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এর মধ্যে পুলিশ তিনজনকে এবং র‌্যাব দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন