ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় চলছে নীরব চাঁদাবাজি। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন একটি সিন্ডিকেট। সন্ধ্যায় ছোট বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। তবে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে নারাজ এসব ব্যবসায়ীরা।
জানাযায়, পর্যটন কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে আদায়কৃত এসব চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে হাতেগোনা কয়েকজনের তৈরি করা সিন্ডিকেট সদস্যরা। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সৈকতের বালিয়াড়ি ও সুগন্ধা সড়কের দুপাশের হকারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। ছোট-বড় এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০-১০০ টাকা হারে দৈনিক চাঁদা আদায় করা হয়। প্রায় ২শতাধিক ভ্রাম্যমান এসব দোকান থেকে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা চাঁদার টাকা আদায় করেন এই অসাধু সিন্ডিকেট।
চাঁদার টাকা তোলার দায়িত্বে রয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্য শাহিন নামের এক যুবক। অতীব গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রতিদিন এসব চাঁদার টাকা তোলা হয়। সৈকতের এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ে ব্যবসায়ীদের কেউই সহজে তা স্বীকার করতে রাজি নয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নীরব চাঁদাবাজির শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় নানা অপকর্মে আলোচিত নুরুল হুদা ওরফে গুরা মিয়া, বাহারছড়া এলাকার জালাল ও জয়নাল। তাদের নেতৃত্বে প্রতি সন্ধ্যায় টাকা তুলেন শাহিন।
সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রতিনিয়ত চাঁদার টাকা আদায়ের সময় ধারণকৃত একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে থাকলেও এসব বিষয় অস্বীকার করেন সিন্ডিকেট প্রধান গুরা মিয়া ও শাহিন।
তারা বলেন, আমরা কোন টাকা আদায় করি না। এক পর্যায়ে তারা বলেন- যদিও এসব টাকা চারজন পাহারাদার এবং পৌরসভার ময়লা পরিষ্কারের জন্য আদায় করা হয় বলে জানান।
তবে ইতিপূর্বে এমন টাকা আদায়ের খবর পেয়ে পর্যটন সেলের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার মাসুম বিল্লাহ এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান গুরা মিয়াসহ কয়েকজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকা তোলার বিষয়টি স্বীকার করে পরবর্তী আর কোন প্রকার টাকা তুলবে না মর্মে মৌখিক অঙ্গিকার করে বলে জানা যায়। কিন্তুু কিছুদিন যেতে না-যেতেই পূণরায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের এই চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি গরীব মানুষ। বীচে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন মতে চলি। দৈনিক কিছু টাকা নেয় সত্য কিন্তু কারা এ টাকা নেয় আমি বলতে পারবো না। কারন তারা সুগন্ধা পয়েন্টে খুবই প্রভাবশালী। জানতে পারলে আমাকে এখানে ব্যবসা করতে দিবে না আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সুফিয়ান বলেন, টাকা তোলার বিষয়টি আমি অবগত নই; তবে আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।