ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান ১১ বার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন। দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর বিদায় সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে তিনি টেকনাফ ছাড়েন। কিন্তু তার সংবর্ধনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ মাদক কারবারিকে অতিথি করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অতিথি করায় জেলার সর্বত্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) রাতে টেকনাফ থানার হল রুমে ওসি হাফিজুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে টেকনাফ থানা। এতে উখিয়া-টেকনাফের (সার্কেল) এএসপি শাকিল আহমেদ প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তার পাশে মঞ্চে বসেছিলেন মাদক কারবারি ও ইয়াবা মামলার আসামি সাংবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন এবং হৃীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলি। মাদক নির্মূলের করণীয় নিয়ে নূর হোসেন ও রাশেদ আলি বক্তব্য দেন। ওসি হাফিজুরেরও প্রশংসা করেন তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন চিহ্নিত ও আলোচিত মাদক কারবারি উপস্থিত ছিলেন। এমন অনুষ্ঠানে তাদের আমন্ত্রণ জানানোয় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনার মধ্যদিয়ে অন্য মাদক কারবারিরা উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সিভিল সোসাইটিজ ফোরামের কক্সবাজারের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো মাদক কারবারিকে অতিথি করার অর্থ, মাদক কারবারিদের উৎসাহ দেওয়া। অভিযোগ করে তিনি বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদক কারবারিরা নির্বিঘ্নে মাদকের কারবার চালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ও মোবাইল ফোনে কোনো কথা বলা যাবে না উল্লেখ করে ফোনের লাইন কেটে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উখিয়া-টেকনাফের এএসপি (সার্কেল) শাকিল আহমেদ।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, এমন অনুষ্ঠানে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অতিথি করা জঘন্য। বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে। সূত্র-যুগান্তর।