• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিহত ভিসা ছাড়াই আড়াই বছর বাংলাদেশের উপকূলে নিউ জিল্যান্ডের পরিবার কক্সবাজারে ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখন্ডিত : নিউজিল্যান্ডের এক শিশু নিখোঁজ কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা!

চারপাশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প : নিরাপত্তাসহ নানা সংকটে চাকমাপল্লী

নিজস্ব প্রতিদেক / ১২৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
মংচিচা চাকমা। এ বছর পা দিলো ৮১ তে। জীবনের সূর্যাস্ত মুহুর্তে এসে বড্ড কষ্টে দিনাতিপাত করছে চাকমা জনগোষ্ঠীর এই বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য। তার জন্ম, জীবন যৌবন কেটেছে এই পাহাড়ে। আর পাহাড়কেই ভালোবেসে পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতে রয়ে যান এখানে। কিন্তু সময় তার প্রতিকূলে গড়াতে থাকে। যে জীবনকে ধারণের জন্য এই পাহাড় সেই পাহাড় তার কাছে এখন ভয়ের কারণ। এই বুঝি শেষ হয়ে এলো।

পরিবার নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং পুটিবনিয়া চাকমাপল্লীতে বসবাস করেন মংচিচা চাকমা। যেখানে বসবাস আরো ২৮টি নৃগোষ্ঠি পরিবারের। কিন্তু কাঁটাতারের ভেতর তারা এখন আর ভাল নেই। খাদ্য, পানি, পয়ঃনিস্কাশন, নিরাপত্তার অভাব সহ নানা সংকটে হুমকির মুখে এই পল্লী।

চাকমা তরুণ মংলামং। পড়াশোনা করেন টেকনাফের মইনুদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভয়ে রাতে তারা রাস্তাঘাটে বের হতে পারেন না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পল্লীতে গাড়ি ঢুকাতে পারে না। নানা ধরণের অনুমতির ঝক্কিঝামেলায় হয়রানি পোহাতে হয়।

মংলামং বলেন, বর্তমানে এই পল্লীতে ২৮ টি পরিবার রয়েছে। নানা সংকটের কারণে অনেক পরিবার হোয়াইক্যংয়ের হরিখোলা চাকমাপল্লীর দিকে চলে যাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর এই চাকমাপল্লীর চারপাশে গড়ে উঠে ২২ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্প। রোহিঙ্গা ক্যাম্প গড়ে তুলতে গিয়ে চাকমাদের বাঁশ বাগান, ফসল ফলানোর জমি, পাহাড় সবকিছুই বিলীন হয়ে গেছে।

চাকমাপল্লীর জ্যেষ্ঠ সদস্য অংতাচিং চাকমা জানিয়েছেন, এক সময় পল্লীর সামনের নদীতে ব্লক বসিয়ে বছরজুড়ে চাষ করতেন তারা। আর সেই চাষের ফসল বিক্রির জন্য উনচিপ্রাংয়ে বাজারও বসতো। কিন্তু এখন চাষাবাদের সেই জমিতে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বসতি। অন্যদিকে দখল হয়ে পানি চলাচল নেইও নদীতে। দূষণের শিকার হয়ে নদীটিও এখন অস্থিত্ব সংকটে।

তাছাড়া এক সময় জুম চাষ করলেও এখন বনে জুমচাষও বন্ধ। সবদিকে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপার্জনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে যায় চাকমা নারী মাছু চাকমার বাড়িটি। প্রশাসন এবং এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে পুড়ে যাওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাড়িগুলো পূণরায় নির্মাণ করে দেওয়া হলেও মাছু চাকমার বাড়িটি নির্মাণ করে দেয়নি। বছর ধরে ক্যাম্প ইনচার্জ ও সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এক টুকরো টিনও দেওয়া হয়নি তাকে। মাছু চাকমা এখন স্বামী সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে কোনরকম পলিথিন মোড়িয়ে দিন যাপন করছেন।

তিনি জানান, এখন ভিটের আঙিনায় গাছপালা রোপন বা চাষাবাদ করলে সেগুলোও লুট করে নিয়ে যায় রোহিঙ্গারা। বাড়িতে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী থাকায় কোথাও গেলে সন্ধ্যে নামার আগেই ফিরতে হয় তাকে। রোহিঙ্গাদের ভয়ে উপজাতী নারীরা বনে চাষাবাদ তো দূরের কথা ঠিকমত বাড়ি থেকে বের হতে পারে না। দিনদিন সেখানে নিরাপত্তা সংকট বাড়ছে বলে জানান মাছুর মতো চাকমাপল্লীর আরো অনেক বাসিন্দা।

রোহিঙ্গারা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প হওয়ার আগে এই চাকমাপল্লীতে শিখন স্কুল ছিলো। কিন্তু ক্যাম্প হওয়ার পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এখন তাদের শিশুরা পড়াশোনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ে তারা বাড়ি থেকে শিশুদেরও একা কোথাও যেতে দেয় না।

চাকমা পল্লীর নেতা নিচামং চাকমা এক বুক কষ্ট আর আক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, অন্যান্য এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠি যথেষ্ট সহযোগিতা পেলেও তারা ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে হওয়া স্বত্বেও সহায়তা চোখেও দেখেন না। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কোন খোঁজ খবর নেয়না। দায়িত্বশীলদের বাঁধার কারণেই এসব সংস্থার লোকজন চাকমাপল্লীতে ঢুকে না বলে অভিযোগ এই নেতার।

এক সময় এই পল্লীতে ৩৫ পরিবারের বসতি ছিল। কিন্তু নানা সংকটের মুখোমুখি হয়ে এখন ২৮ পরিবারে এসে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দুই পরিবার নামমাত্র মূল্যে ভিটে বিক্রি করে হোয়াইক্যংয়ের হরিখোলা চাকমাপল্লীতে চলে গেছেন। চাকমাদের দাবী, রোহিঙ্গাদের বসতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জীবন-জীবিকার খোঁজে তারা উদ্ভাস্ত হয়ে যাবেন। তাই সংকট উত্তোরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী এখানে বসবাসরত জনগোষ্ঠীটির। সূত্র-টিটিএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন