সিরাজুল ইসলাম:
অবশেষে খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া সওদাগরপাড়া থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের পরিচয় মিলেছে। ওই ব্যক্তির নাম মো. ইউনুছ (৩৮)। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক। ইউনুছ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮ ব্লক (সি-ওয়ান) এর বাসিন্দা লাল মিয়ার ছেলে।
লাশ উদ্ধার হওয়ার ৯ দিন পর পুলিশ লাশের পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইয়াবা পাচারকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩০ আগস্ট কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল তেতৈয়া সওদাগরপাড়া এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পুলিশ লাশ সনাক্তের জন্য বিভিন্ন থানায় চিঠি প্রেরণ করে।
ওই ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর ভয়েসওয়ার্ল্ড ২৪.কম এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে আনা হয়। সংবাদে ছবিও ছাপানো হয়। নিহতের স্বজনরা লাশের পরনের কাপড় ও আলামত দেখে ইউনুছকে সনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগষ্ট (শুক্রবার) সকালে বাসা থেকে বের হন ইউনুছ। ওইদিন থেকে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অনলাইনে ছবি দেখে তার লাশ সনাক্ত করে।
সূত্রে জানা গেছে, নিহত রোহিঙ্গা ইউনুছ উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প (৮ই ব্লক সি ওয়ান) এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রীর নাম সৈকত আরা। তাদের পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
পরিচয় সনাক্তের পাশাপাশি খুনের প্রাথমিক রহস্যও উদঘাটন হয়েছে বলে দাবী পুলিশের। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবী, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক ইউনুছ একজন মাদক কারবারী। তিনি পাশের ইউনিয়ন পিএমখালীতে ইয়াবার চালান নিয়ে এসেছিলেন। চালান লেনদেনের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুনের পর তার লাশ খুরুশকুলে ফেলে যায় বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) থীতংকর দাশ বলেন, নিহত রোহিঙ্গা ইউনুছের পরিচয় পেতে কক্সবাজারের ৮টি থানাসহ মোট ১৯টি থানায় অনুসন্ধান পত্র পাঠানো হয়। পরে ১০দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এই অজ্ঞাত লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। তার রোহিঙ্গা আইডি ও পরিবারের সকল তথ্য পাওয়া গেছে।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে থীতংকর বলেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের দুই দিন পর ৩০ আগস্ট নিহত হন ইউনুছ। স্বজনরা নিহতের পরনে থাকা কাপড়ের আগের তোলা একটি ছবিও দেন।
নিহত রোহিঙ্গা ইউনুছকে ইয়াবা পাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করা হয়েছে, ইয়াবার চালান লুট হয়েছে কিনা তা জানতে অধিকতর তদন্ত চলছে। শিঘ্রীই খুনের আসল রহস্য বের হবে ভয়েসওয়ার্ল্ড ২৪.কম কে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের দেয়া খবরের ভিত্তিতে খুরুশকুল তৈতেয়া সওদাগর পাড়ার এলাকায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই আরিফ উল্লাহ। তিনি এলাকাবাসীর সাথে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছিলেন।
একই দিনে ময়না তদন্ত শেষে লাশটি দাফন সম্পন্ন করেন। সেই সাথে অজ্ঞাতনামা আসামী করে এসআই আরিফ উল্লাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন ৩১ আগস্ট। যার মামলা নং ৪৮-৩১/৮/২০২০ ইং।
যেখান থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছিল ওই এলাকার স্থানীয়রা দাবী করেন, এই ব্যক্তি ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকতে পারে। না হয় উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প থেকে পিএমখালী-খুরুশকুল কেন আসবে? রোহিঙ্গা ইউনুছের সাথে এই এলাকার যাদের যোগাযোগ রয়েছে তারাই তাকে হত্যা করেছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসুম খানঁ বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া লাশের ৯দিন পর পরিচয় মেলেছে। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক। তার মৃত্যুর রহস্যও পাওয়া গেছে। হত্যায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।