দুর্ভোগ-দুর্দশায় নিমজ্জিত কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর হাজার হাজার মানুষ। পিএমখালীর প্রধান সড়কের চেরাংঘর চৌরাস্তায় চেরাংঘর বাজার। এ বাজারের পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণ পাশের চারটি রাস্তাতেই নালার ময়লা পানি ও বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে এ দুরবস্থার কারণে হাজার হাজার পথচারী ও এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা ও সংস্কারের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এতে বিপজ্জনক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
এ রাস্তা দিয়ে পিএমখালী, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন সহ আশপাশের অন্তত শতাধিক গ্রামের চলাচলে দুর্ভোগের কোনো অন্ত থাকে না। এ রোডের বেহাল অবস্থার কারণে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কষ্টের শেষ নেই। রাতের অন্ধকারে এ পথে যাতায়াত করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে চেরাংঘর আসলেই ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসী। চেরাংঘর বাজারে ছোট-বড় অন্তত তিন শত দোকান রয়েছে। এটি আশপাশের এলাকার একটি ব্যস্ততম বাজার হিসেবে পরিচিত।
চেরাংঘর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চেরাংঘর চৌরাস্তার এমন অবস্থা। রাস্তায় পানি জমে থাকে, বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। নালা না থাকায় পুরো রাস্তাটি নালা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সব সময়ই ময়লার গন্ধ নাকে লাগে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এই রাস্তায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তার এ অবস্থার জন্য ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও কম হয়। এসব দেখার কেউ নেই।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আবছার বলেন, ‘অনেক বছর ধরে এই রাস্তার করুণ অবস্থা। কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখে না। সারা বছরই কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করি। পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগের নাম চেরাংঘর চৌরাস্তা। এটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় জমে থাকা নালার উপচে পড়া পানি ও বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়কে জমে থাকা কাদা-পানিতে আশপাশের দোকানের নানা ধরনের আবর্জনা যোগ হয়ে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়কে জমে থাকতে দেখা যায় দুর্গন্ধ কাদাপানি, ময়লা-আবর্জনা, ইটের টুকরা। ছোট-বড় খানাখন্দে জর্জরিত এই রাস্তায় জমে থাকা পানি-কাদা মাড়িয়ে চলছে মোটরসাইকেল, ট্রাক, রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার, স্কুলভ্যানসহ নানা ধরনের যানবাহন। এসব যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা কাদা-পানি ছিটকে পড়ছে পথচারীদের শরীরে। ফলে বিপাকে পড়ছে পথচারীরা।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ কাশেম আলী রাস্তার এই দুরবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ভোগান্তি পোহাচ্ছি। সারা বছরই সমস্যা। বর্ষার সময় কাদাপানি-গর্ত মাড়িয়ে চলাচল তো করতেই হয়, বছরের অন্য সময়ও কাদাপানি জমে থাকে। কিন্তু সরকার থেকে আমাদের এই সমস্যার কোনো সমাধান করা হচ্ছে না। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও আমরা কাদা-পানিতে বন্দি হয়ে আছি।’ আশপাশের এলাকায় থাকা বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও চরম বেকায়দায় আছে।
স্কুল শিক্ষার্থী তামিম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ময়লা কাদা-পানিতে ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যায়। আর প্রতিদিনই জুতায় কাদা লেগে যায়। কাদার ভেতর পড়ে গিয়ে, রিকশা উল্টিয়ে অনেকে আহত হয়। রাস্তাটি হাঁটারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথেরও কোন ব্যবস্থা নেই। তাই ভোগান্তি হলেও কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে এ পথেই চলাচল করি।’
এ বিষয়ে চেরাংঘর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বলেন, ‘এই রাস্তা বেহালের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছি। তারা আশ্বস্ত করছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘পিএমখালীর মধ্যে চেরাংঘর বাজারের চৌরাস্তাটি বড় সমস্যা, এটি সংস্কার করা ইউনিয়ন পরিষদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আম্পানের একটি প্রকল্পে রাস্তাটি দেয়া হয়েছিল কিন্তু তহবিল না থাকায় তা হয়নি। কিছু ইট ফেলে সাময়িকভাবে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।’