সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
হাসপাতালে কোনো বেড খালি নেই। অক্সিজেনের তীব্র সংকটে বুক ভরে শ্বাস নিতে না পেরে মারা যাচ্ছে মানুষ। শ্মশ্মানে চিতার আগুন জ্বলছে দিন রাত। লাশ পোড়ানোর ভীড়। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছে করোনায় রোগীর সুনামি চলছে।
বলছি বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কথা। দেশটিতে গতকাল শনিবার প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা নতুন বিশ্ব রেকর্ড। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দুনিয়ার কোনও দেশে কখনও এক দিনে এত নতুন রোগী পাওয়া যায়নি। কেবল শনাক্ত নয়, মৃত্যুও কম হয়নি। ওই একই দিনে ২১০৪ জন মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে।
অক্সিজেনের সংকট এতো তীব্র যে ভারত বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে করে সিঙ্গাপুর থেকে তরল অক্সিজেন নিয়ে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও ভারত চেষ্টা চালাচ্ছে সেসব দেশ থেকে জরুরিভিত্তিতে অক্সিজেন ও অন্যান্য ওষুধ সামগ্রী আনার।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলছে, “সেকেন্ড ওয়েভে এসে ভারতে রোজ যে এই লক্ষ লক্ষ রোগী কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন, তার আসল কারণটা যে ঠিক কী তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা খুব নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না।”
পাশের দেশ ভারত সরকার যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ করোনার ঢেউ মোকাবিলা করতে তখন বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত চলাচল সীমিতের ফল পেতে শুরু করছে। সংক্রমণের হার কমেছে অনেকখানি। মৃত্যু যদিও এখনো সেইভাবে কমেনি। সরকার এরই মধ্যে তথাকথিত লকডাউন তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়েও করোনা প্রতিরোধে ন্যূনতম ব্যবস্থাপনা পরিকৌশল গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান ‘ভোটারবিহীন’ সরকার।”
আজ সারাবিশ্বের মানুষ করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে যুদ্ধ করছে। চারদিকের এমন অমানিশার মাঝেই আজ এদেশের, সকল রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
মহান ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, বর্তমানের বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা হয় এবং তা ছিল এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনের পরিণতি। প্রতিষ্টা বার্ষিকীর এই দিনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা সংসদের পক্ষে সভাপতি অন্তিক চক্রবর্তী ও সাধাঃ সম্পাদক ( ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় বিশ্বাস সংগঠনের জন্যে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বিনিয়োগ করা প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী, জেলার ছাত্র সমাজ ও গণ মানুষের প্রতি সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রথমবার করোনার প্রকটতা অজানা থাকার কারণে সম্যক প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়। কিন্তু এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় তো আর তা বলা যাবে না। গত এক বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগাম সমন্বিত বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা বা একটি কার্যকরী রোড ম্যাপ প্রণয়ন করতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
করোনা মোকাবেলায় প্রধান যে খাত- স্বাস্থ্যসেবা- সে খাতে গত ১ বছরেও সক্ষমতা বাড়েনি। বেড়েছে দুর্নীতি। এ সময় দুর্নীতির সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে এ সরকার।
করোনাভাইরাস মহামারিকালে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এক বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে যে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৯.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণে অংশই নিতে পারেনি।
স্কুল বন্ধ থাকায় ক্লাস পরীক্ষা আর মূল্যায়নের যে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটি নিয়েও নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠ সবার।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরাও চান ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে আরো আকর্ষণীয়, আনন্দদায়ক আর সবার সাধ্যের আনা হোক।
এ অবস্থায় চলমান মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে শিক্ষায় ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে মতামত আসছে। সরকারের পক্ষ থেকেও জাতীয় পাঠ্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগের কথা জানা যাচ্ছে।
গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ৫৭ ধারার মতো কালো আইনের মাধ্যমে জনগণের টুটি চেপে ধরা এগুলো সরকারের একমাত্র অলংকারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকরা দুঃসময় পার করছে। সরকার দেশীয় চা-পাট শিল্পকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে এসেছে। এদিকে সংঘটিত নারী ধর্ষণের বিচারের অপেক্ষা,লেখক হত্যা সহ বিভিন্ন ইস্যু ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
কিন্তুু উন্নয়নের মহা সড়কে চলতে থাকা বাংলাদেশর বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডের কাছে মুখ লুকিয়েছে ৭১ এর কাঙ্খিত স্বদেশ বির্ণিমানের ও শোষণহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন।
(সংবাদটি পাঠিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা সংসদের দপ্তর সম্পাদক আপন দাশ।)