আজিম নিহাদ ও আরফাতুল মজিদ
দীর্ঘ সময় ভবঘুরে ছিলেন আব্দুল হান্নান সাউদ। প্রায় চার বছর আগে নানান তালবাহনার মাধ্যমে কক্সবাজার বদর মোকাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই পাল্টে যায় জীবন।
দৃশ্যমান কোন ব্যবসা নেই। তবুও হঠাৎ বিদ্যুৎ গতিতে উত্থানের পেছনে একমাত্র অবদান হিসেবে পাওয়া গেছে ‘বদর মোকাম মসজিদের দানবাক্স’। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে হান্নানের দানবাক্স লুটের কাহিনী।
জানা গেছে, মরহুম নুরুল হুদার নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় পরিচালিত হয়েছিল বদর মোকাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। প্রায় চার বছর আগে বদরমোকাম মসিজদের নতুন পরিচালনার কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন রফিকুল হুদা চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুল হান্নান সাউদ।
রফিকুল হুদা সহ কমিটির অন্যান্যদের শুরুতেই নিষ্ক্রিয় করে দেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান সাউদ। শুরু করেন দানবাক্স লুট। ধীরে ধীরে দানবাক্সের টাকায় গড়ে তুলেন রাজকীয় জীবন। দানবাক্সের টাকায় পূরণ করেছেন নিজের শখও। এমনকি দানবাক্সের টাকায় জলসারও আয়োজন করেন নিয়মিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিচালনা কমিটির দু’জন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক নিজের ইচ্ছায়। কারও কোন মতামত গ্রহণ করা হয় না। ব্যাংক থেকে যখন ইচ্ছা তখন টাকা তুলে তছনছ করেছেন। কাউকে কোন হিসাব দেন না। বিরোধীতা স্বত্বেও অনেক অপ্রয়োজনীয় খাতে টাকা খরচ করে যাচ্ছেন।

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে মসজিদের চারটি দানবাক্স খুলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও পুরো জেলায় ৭০ থেকে ৮০টি দানবাক্স আছে এই মসজিদের। সেই দানবাক্সগুলোও মাস তিনেক পর পর খোলা হয়। দানবাক্স থেকে প্রতি বছর সর্বনিম্ন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আয় হয় বদরমোকাম মসজিদের। কিন্তু সেই টাকার পুরোটা এখন মসজিদের উন্নয়ন, সংস্কার বা আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার হয় না। অধিকাংশ লোপাট করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান সাউদ। মসজিদের জন্য কেনা গাড়িসহ সবকিছু ব্যবহার করেন নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী পাল্টান ইমাম-খতিবও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদরমোকাম এলাকার একজন মুরুব্বি বলেন, হান্নান অনেকটা ভবঘুরে ছিল। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার জীবন পাল্টে যায়। তার সব অর্জনের মূলে একমাত্র অবদান মসজিদের দানবাক্সের।
দান বাক্সের টাকায় জীবনের শ্রেষ্ঠ তিনটি শখ পূরণ করেছেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান সাউদ। নিজে থাকার জন্য অত্যাধুনিক কাঠের বাড়ি, খামার বাড়ি ও নতুন মডেলের গাড়ির মালিক হয়েছে হান্নান।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য এই বিষয়ে ভয়েসওয়ার্ল্ডের সাথে কথা বলেছেন। তার দেয়া তথ্যমতে, দেড় বছর আগে রামুর পাতাবাড়ি এলাকায় মসজিদের টাকায় ৪ কানি জমি কিনেন হান্নান। এতে কারও মতামত নেয়া হয়নি। কয়েকজন বিরোধীতা করতে চাইলে উল্টো হুমকি দেন। জমি কেনার সময় খরচ করেন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। জমির মূল্য ধরা হয়েছিল কয়েকগুণ বেশি। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন সেই হিসাব এখনো পর্যন্ত কাউকে দেননি।
পাতাবাড়ির ৪ কানি জমিতে খামার বাড়ি গড়ে তুলেছেন হান্নান। মসজিদের ২৫/৩০ লাখ টাকা খরচ করে ওই খামার বাড়িতে আলিশান কাঠের বাংলো নির্মাণ এবং মাছের প্রজেক্ট করেছেন তিনি। অর্ধকোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করলেও মসজিদের বিন্দুমাত্র আয় নেই এই প্রকল্প থেকে।
একজন কর্মচারী জানান, ওই খামার বাড়ি দেখাশোনা করার জন্য ৪ জন স্টাফ রাখা হয়েছে সেখানে। তাদের বেতন দেওয়া হয় বদরমোকাম মসজিদের ফান্ড থেকে।
খামারবাড়ি মসজিদের দানবাক্সের টাকায় কেনা হলেও হান্নান ওই এলাকায় পরিচয় দেয় নিজের খামার বাড়ি হিসেবে।

পাতাবাড়ির ওই খামার বাড়ির আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওনি (হান্নান) সিএনজি নিয়ে প্রায় যান সেখানে। যাওয়ার সময় বিভিন্ন প্রকার ফল ও অন্যান্য খাবার নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ছাগল জবাই করে পার্টি হয়। পার্টিতে বিভিন্ন লোকজন নিয়ে যান। এই খামারবাড়িকে তারা হান্নানের খামারবাড়ি হিসেবেই জানে।
একজন সদস্য বলেন, কোন আয়ের সুযোগ নেই। অথচ খামারবাড়িতে অর্ধকোটি টাকারও বেশি খরচ করা হয়েছে। মসজিদের টাকায় কেনা হলেও আদৌ ওই জমি কার নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে সেটা কেউ জানে না।
পাতাবাড়ি এলাকার খামারবাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, ওই জমির বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছুই জানি না এবং আমাকে জানানো হয়নি। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য চেকে আমার কাছ থেকে কোন সময় স্বাক্ষরও নেওয়া হয় না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দানবাক্স লুটের টাকায় বদরমোকাম মসজিদের পাশে সরকারি খাস জমিতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে কাঠের অত্যাধুনিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন। প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়েছিল ওই জমিতে। এক পর্যায়ে কাঠের বাড়িটি সিলগালা করেছিল। পরে অনেক দেনদরবার করে ‘ঘুষের’ বিনিময়ে সিলগালামুক্ত করে বাড়িটি। ওই বাড়িতে প্রতিনিয়ত জলসা বসে। জলসায় শহরের অনেক কথিত ভিআইপিরা যোগ দেন।
কাঠের বাড়ির বিষয়ে একজন সদস্য বলেন, হান্নানের দৃশ্যমান কোন ব্যবসা নেই। কোরাল রিফ প্লাজায় একটি দোকান ছিল। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে লোকসানের কারণে সেই দোকানটি বিক্রি করে দেন। হঠাৎ কিভাবে এত টাকা হল? আমার জানামতে কোন সময় আয়কর দিয়েছে বলেও মনে হয় না।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের দানবাক্সের টাকা মেরে কাঠের বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
হান্নান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মসজিদের ফান্ড থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে একটি সিএনজি ক্রয় করেন। ওই সিএনজি সম্পূর্ণ নিজের কাজে ব্যবহার করেন তিনি। অথচ তেল খরচ ছাড়া প্রতিমাসে মসজিদের ফান্ড থেকে ১২ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয় ড্রাইভারকে।
একজন কর্মচারী জানান, হান্নানের সন্তান কক্সবাজার বিয়াম ফাউন্ডেশন স্কুলে পড়ে। তাদেরকে স্কুলে আনা-নেওয়া করা হয় এই সিএনজি নিয়ে। হান্নানের বাসার জন্য বাজার করা, পরিবারের সদস্যদের বেড়াতে যাওয়া সহ নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় ওই সিএনজি।
পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সিএনজির কিসের প্রয়োজন? সিএনজি প্রয়োজন হবে এমন কোন কাজ নেই বদরমোকাম মসজিদে। শুধুমাত্র নিজের কাজে ব্যবহার করার জন্য সিএনজি কেনা হয়েছে।
বদরমোকাম মসজিদে প্রায় ১০ জন স্টাফ আছে। তাদের মধ্যে ৩/৪ জন স্টাফকে নিজের ব্যক্তিগত ও পরিবারের কাজে ব্যবহার করেন হান্নান। হান্নানের সার্বক্ষণিক সহযোগী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন মো. আলম। তার বেতন ১২ হাজার টাকা।
হান্নানের বাড়ির ছাগল দেখাশোনা করা, বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়া করা, বাসার কাপড় ধোলাই করা, বাড়ি পরিস্কারসহ অধিকাংশ কাজ করেন আলম। আলমের পাশাপাশি আলমগীরসহ আরও কয়েকজন হান্নানের ব্যক্তিগত ও পরিবারিক কাজ করে সময় পার করেন।
পাতাবাড়ির খামারে নিয়োজিত স্টাফরাও হান্নানের ব্যক্তিগত সেবায় ব্যস্ত থাকেন।
বদর মোকাম মসজিদের স্টাফ মো. আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বদরমোকাম মসজিদের শৌচাগারের দু’তলায় দানবাক্সের টাকায় আলিশান ডিজাইনের ব্যক্তিগত অফিস করেছেন হান্নান। ওই অফিস তৈরী করতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনে সহ যাবতীয় কাজে খরচ করেছেন প্রায় ২৫ লাখ টাকা। কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ সহ ভিআইপি সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই অফিস হান্নানের পাশাপাশি ব্যবহার করেন তার আপন ছোট ভাই আদনান। অথচ এই অফিস থেকে এক টাকাও ভাড়া পান না বদরমোকাম।
একজন সদস্য জানান, এক সময় দু’তলায় রুম তিনটি ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে ৯ হাজার টাকা আয় হতো। কিন্তু এখন কোন আয় হয় না। অথচ অফিসটি প্রস্তুত করতে খরচ করা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এই অফিসে বসে জমির দালালি করেন তার ছোট ভাই আদনান।
জানা গেছে, কয়েক লাখ টাকা খরচ করে বদরমোকাম মসজিদের ওযু খানার ২য় তলায় মৌলভীরা থাকার জন্য ৫টি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু হান্নান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ওই কক্ষগুলো ভেঙে মসজিদ পরিচালনা কমিটির জন্য আলিশান অফিস তৈরী করেন। খরচ করেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখায় অফিসে কমিটির কেউ যান না। সেই সুবাধে পুরো অফিসই নিজে ব্যবহার করেন হান্নান।
বদরমোকাম মসজিদে প্রতি বছর দানবাক্স থেকে সর্বনি¤œ প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আয় হয়। এই মসজিদের নামে প্রায় ১৪ টি ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে। অথচ বর্তমানে সব একাউন্ট মিলে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকার বেশি থাকবে না। সাধারণ সম্পাদক নিজের ইচ্ছেমত টাকা তছনছ করে বেড়ান।
জানা গেছে, চার বছর আগে তৎকালীন বদরমোকাম মসজিদ পরিচালনা কমিটি এক কোটি টাকা বুঝিয়ে দেন বর্তমান কমিটিকে। ওই টাকাগুলো ছিল ব্যাংকে। পরবর্তীতে মসজিদের আধুনিকায়নে বেশকিছু টাকা খরচ করা হলেও গত দুই বছরে ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা থাকার কথা। কিন্তু কার্যত টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করায় এখন ব্যাংক অনেকটা শূন্য।
কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে দানবাক্সের টাকা কমিটির সবার সামনে খোলা হলেও গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দানবাক্স খোলার সময় কমিটির কাউকে রাখা হয় না। বদরমোকাম মসজিদের উত্তরপাশে গড়ে তোলা নিজের কাঠের প্রাসাদে নিয়ে খোলা হয় দানবাক্স। দানবাক্সে কত টাকা হয়, টাকাগুলো কোথায় যায় সেই হিসাব কাউকে দেওয়া হয় না। দানবাক্স লুটে হান্নানকে সহযোগিতা করেন মসজিদের হিসাবরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত নুরুল হক চকোরী, পরিচালনা কমিটির সদস্য জসিম ও হান্নানের ভাই আদনান।
বদরমোকাম মসজিদের জনপ্রিয় ইমাম ইউনুচ ফরাজীর উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন হান্নান। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পরই একটি ইস্যুতে ইউনুচ ফরাজীকে চাকরিচ্যূত করেন। এরপর খতিব নুরুল কাদের হান্নানের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে নিজ থেকেই চাকরি ছেড়ে দেন। একটি ব্যক্তিগত ইস্যুতে সহকারী মোয়াজ্জিম শাহাদাতকেও চাকরিচ্যূত করেন তিনি।
বর্তমানে খতিব এবং ইমাম পদে নিয়োগ দিয়েছেন হান্নানের আপন ভগ্নিপতি সৌদি ফেরত আব্দুল খালেক নিজামীকে।
মৌলভী শাহাদাত হোসেন তাকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি তাকে মারধরের বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। আল্লাহর কাছে বিচার দেন।
যেন রাজা তিনি। হান্নান মসজিদে আসার সঙ্গে সঙ্গে দু’জন স্টাফ হাজির হয়। মসজিদে প্রবেশের পূর্বে জুতা পা থেকে জুতা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই স্টাফ জুতাগুলো ভেতরে নিয়ে যান। দ্রুত প্রথম কাতারে জায়গা করে দেন। যতক্ষণ মসজিদে থাকেন ততক্ষণ তার আশপাশে সবাইকে উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যথায় আশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি।
স্টাফদের গালি দেওয়ার বিষয়টি দেখেননি এমন কোন নিয়মিত মুসুল্লি নেই। কিন্তু কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না। প্রায় সময় মসজিদের ভেতর স্টাফদের মা-বাবা তুলে গালি দেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক হলেও হান্নান নিয়মিত মুসুল্লি নয়।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেও হান্নান জঘন্য চরিত্রহীন একজন ব্যক্তি। ইনানীর জনৈক জসিম নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে অবৈধ মেলামেশার সময় ধরা পড়ে হান্নান। ওই ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জের ধরে কমিটি থেকে প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর পিএস আব্দুল্লাহ’র এর সাথে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। পিএস ফোন ধরলেও সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এত স্বনামধন্য মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হয়েও নিয়মিত জলসার আয়োজন করে হান্নান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদরমোকাম এলাকার একজন সচেতন ব্যক্তি ভয়েসওয়ার্ল্ডকে জানান, অতীতে মসজিদ পরিচালনার জন্য কোন ধরণের বাহন প্রয়োজন ছিল না। এখনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার জন্য দানবাক্সের টাকায় সিএনজি কিনেছেন। মসজিদের আয়ের নামে জমি কিনেছেন। কিন্তু জমিতে নিজের ব্যক্তিগত খামার বাড়ি গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, হান্নানের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। নিজের বাড়িতে বিদ্যুৎ এবং পানি ব্যবহার করেন বদরমোকাম মসজিদ থেকে।
মসজিদে ধারণ ক্ষমতার বেশি এসি বসানো হয়েছে। একযোগে সব এসি ছাড়া হলে যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার কথাও হয়েছিল। কিন্তু কর্ণপাত করেননি সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, ৫ বছর আগে হান্নানের কিছুই ছিল না। কিন্তু এখন দুই কোটি টাকা খরচ করে কাঠের বাড়ি, ২৫ লাখ টাকা দামের কার কিনেছেন। সবকিছু করেছেন মসজিদের দানবাক্সের টাকায়।
বদর মোকাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, আড়াই বছর ধরে আমি অসুস্থ। হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে সময় চলে যায়। তাই কমিটির বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে পারি না।
পাতাবাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই জমির বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছুই জানি না এবং আমাকে কিছু জানাইওনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য চেকে আমার কাছ থেকে কোন সময় স্বাক্ষর নেওয়া হয়না। চেকে স্বাক্ষর না নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে অনেকবার কথা কাটাকাটিও হয়েছিল। এখন আর খবর নিইনা।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আবদুল হান্নান সাউদ বলেন, আমি একজন মানুষ। আমার ভুল হতেই পারে। তবে আমার জানামতে টাকা পয়সা সব ঠিক আছে।
এক পর্যায়ে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি এখানকার স্থানীয়। এখানে আমার উপর কারও রাজত্ব করার সুযোগ নেই। কেউ আমার বিরুদ্ধে নিউজ বা অন্যকোন ভাবে হেয় করলে তাকেও আমি দেখে নেব।
বদর মোকাম মসজিদের দানবাক্সে বিশ্বাসের জায়গা থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি প্রত্যেক ধর্মের মানুষ দান করেন। কিন্তু বিশ্বাসে লুটপাট চালান হান্নানের মত মুখোশধারী ব্যক্তিরা। হান্নানের মত রাক্ষসের হাত থেকে মসজিদের দানবাক্সকে রক্ষা করার দাবী জানিয়ে মুসুল্লীরা বলেন, দ্রুত মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার। অন্যথায় এই মসজিদের ঐতিহ্য ও সুনাম নষ্ট করে দেবে চক্রটি। তাদের অপকর্ম দেখে অনেক মুসুল্লী মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবী করেন।