ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ভক্তকূলের মধ্যে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে। ম্যারাডোনা-মেসির আর্জেন্টিনার খেলা মানেই অর্ধেক বাংলাদেশির গায়ে জড়ায় আকাশী-নীল জার্সি। জনপ্রিয়তা ও ভক্তকূলের অভাব না থাকলেও বাণিজ্যে বাংলাদেশে পিছিয়ে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন-ভুট্টা আসে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশ থেকেও কিছু পণ্য যায় আর্জেন্টিনায়।
ফুটবল খেলায় যেমন আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা চলে না। বাণিজ্যেও বিষয়টি তেমনই হয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চার বছর আগে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আর্জেন্টিনায় এক কোটি ৮০ লাখ ডলারে পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী অর্থ বছর (২০১৮-১৯ সাল) রপ্তানি আয় হয় দুই কোটি ৪ লাখ ডলারে। কিন্তু উন্নতির এই ধারা বাধাগ্রস্ত হয় করোনাকালে। দুই বছরের ব্যবধানে ২০-২১ সালে ওই দেশে রপ্তানি নেমে এসেছে মাত্র ৬৮ লাখ ৫৪ ডলারে। এরপর গত অর্থ বছরও আর্জেন্টিনায় রপ্তানি খুব একটা বাড়েনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরাসরি পরিবহন ব্যবস্থা না থাকাসহ নানামুখী সমস্যার কারণে আর্জেন্টিনায় পণ্য রপ্তানি কমছে।
পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, ইউরোপ আমেরিকার বাইরে নতুন বাজার ধরার জন্য। সেখানে আর্জেন্টিনাও আছে। বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে এখন ভালো রপ্তানি হচ্ছে। আর্জেন্টিনায়ও রপ্তানি করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। কিন্তু নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে ওই দেশে পণ্য রপ্তানি করতে চায় না ব্যবসায়ীরা।
রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আর্জেন্টিনা বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কোনো পরিবহন নেই। ব্যাংকিং লেনদেনটাও অনেক কঠিন। এসব কারণে মূলত আর্জেন্টিনায় রপ্তানি কমছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরে আর্জেন্টিনার অবস্থান। ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশে বাংলাদেশ যেমন রপ্তানি করে। তেমনি ওই দেশ থেকেও সয়াবিন তেল ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। আর্জেন্টিনায় মূলত যেসব পণ্য রপ্তানি হয় এর মধ্যে তৈরি পোশাকই সবচেয়ে বেশি। এর বাইরে প্লাস্টিকের তৈরি রান্নাঘরের বিভিন্ন জিসিনপত্র, চামড়ার তৈরি ব্যাগ, খেলনা এবং কার্পেটও রপ্তানি করা হয়। করোনার আগে আর্জেন্টিনায় রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও এখন আবার ধারাবাহিকভাবে কমছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম চার মাসে আর্জেন্টিনায় ৫০ লাখ ৭০ হাজার ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করা হয়। এর আগে গত অর্থ বছরে (২০২১-২২) ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়। ২০-২১ অর্থ বছরে রপ্তানির পরিমাণ আরও কম ছিল। ওই বছর রপ্তানি হয় ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। অথচ করোনার আগে এর চেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি হতো আর্জেন্টিনায়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেন, করোনার পর এমনিতেই রপ্তানি কমেছে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে আর্জেন্টিনায় কমে যাওয়ার পেছনে আরও কারণ আছে। আর্জেন্টিনায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে শিপিং খরচ অনেক বেশি। ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে যত সহজে পণ্য পাঠানো যায়। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এটি খুব কঠিন। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় অনেকে আর্জেন্টিনায় পণ্য রপ্তানি করতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সেভাবে গড়ে উঠেনি। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার পাশ্ববর্তী দেশ এল সালভোদরসহ কিছু দেশ আছে, তারাও এসব দেশে পোশাক রপ্তানি করে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনায় পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, সামনের বছরগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনায় রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি অনেক বেড়েছে। সর্বশেষ গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে প্রায় ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের চার ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সয়াবিন তেল আমদানি করেছে ৫৫ কোটি ডলারের ৩ লাখ ৯০ হাজার টন। এছাড়া ১২ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের ভুট্টা, ১৫ কোটি ডলারের সয়াকেক এবং ৩০ লাখ ডলারের তুলা আমদানি করেছে বাংলাদেশ।