আরফাতুল মজিদ:
কক্সবাজারের পিএমখালী ছনখোলা পশ্চিম পাড়ায় প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলেও এখনো আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্টরা। রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে গত ৭ মাসে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে সেখানে চলছে স্থাপনা নির্মাণের কাজও।
বন বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের চোখ এড়াতে নির্মাণ কাজের সামনে দেওয়া হয়েছে বিশাল কয়েকটি পলিথিনও। বন বিভাগের মালিকানাধীন পাহাড় ও গাছ কেটে সাবাড়ের পর এখন স্থাপনা নির্মাণ করলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি গত ৭ মাসে।
তবে বন বিভাগ বলছে, গত ১০ দিন আগে নির্মিত স্থাপনাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। জায়গাটি বনবিভাগের কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গত ১০ দিনে কোনো ব্যবস্থা বা জমির বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারেনি কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জের দীঘিরঘোনা বিটের আওতায় পড়েছে ছনখোলার পশ্চিম পাড়া এলাকাটি। সেখানে প্রায় সব’টি পাহাড় বনবিভাগের আওতাধীন। পশ্চিম পাড়া রাস্তার পাশে পাহাড়ের একটি অংশ গত ৭ মাস আগে কাটা হয়। পাহাড়ের মাটি গুলো কেটে সামনের কিছু নিচু জমিও ভরাট করা হয়েছে ইতিমধ্যে।
পাহাড়ের সাথে কেটে নেওয়া হয়েছে গাছও। ইতিমধ্যে পাহাড় কাটা শেষ করেই চারপাশে ইটের বাউন্ডারি দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের স্থাপনা। পাহাড় কেটে বিশাল জায়গা জুড়ে সমতল করে চলছে নির্মাণ করা কাজ। নির্মাণ কাজের সামনে বিশাল পলিথিন দিয়েও ঢেকে দেওয়া হয়। আইয়ুব নামে একব্যক্তি বনবিভাগের জমিটি ক্রয় করে বর্তমানে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় এক সমাজ নেতা বলেন, আইয়ুব যেখানে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ করছে এটি বন বিভাগের পাহাড়। এর আশপাশে গত তিন বছরে অনেকেই পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। প্রতিটি জায়গায় বন বিভাগের লোকজন বাঁধা দিয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে। কিন্তু আইয়ুব নামের ওই ব্যক্তি গত ৭ মাস আগে পাহাড় কাটা শুরু করেছিল।
ইতিমধ্যে পাহাড় কাটা শেষ করে ইটের স্থাপনা নির্মাণ করছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বন বিভাগ। বন বিভাগের লোকজন তার স্থাপনাটি পরিদর্শন করে চলে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। বন বিভাগের লোকজন চলে যাওয়ার পরপরেই দৌড় শুরু হয় আইয়ুবের। এমনকি বেশ কয়েকবার আইয়ুব পিএমখালী রেঞ্জ অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন বলেও এলাকায় প্রচার করছে আইয়ুব।
এবিষয়ে মুঠোফোনে আইয়ুব বলেন, জায়গাটি আমি কয়েক মাস আগে ক্রয় করেছি স্থানীয় একব্যক্তির কাছ থেকে। স্ট্যাম্পমূলে জমিটি ক্রয় করার আগেই পাহাড় কাটা হয়েছিল। আমি কোনো পাহাড় কাটিনি। এটি বনবিভাগের জমি নয়, খাস হিসেবে ক্রয় করেছি। তবে এক পর্যায়ে বনবিভাগ ও খাস দু’টাই মিলে ক্রয় করেছে বলে জানান।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জের দিঘীরঘোনার বিট কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে গত ১০ দিন আগে নির্মিত স্থাপনাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে আইয়ুব নামের ওই ব্যক্তির দাবী, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। কয়েকদিনের মধ্যে জমিটি নির্ধারণ করা হবে, এটি বন বিভাগের নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। যদি বন বিভাগের জমি হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, এই রেঞ্জে আমি নতুন যোগ দিয়েছি। আমি যোগদানের আগেই হয়ত পাহাড় কাটা হয়েছিল। তবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে ছনখোলার পশ্চিম পাড়ায় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। জনবল সংকটের কারণে এখনো জায়গাটি বনবিভাগের কিনা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ে ম্যাপ করে জমিটি নির্ধারণ করা হবে। যদি বনের জমি হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।