• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

পরিস্থিতি থমথমে, রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের যুবকরা আত্মগোপনে!

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬৫০ বার ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি:

রোহিঙ্গা শিবিরে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুন্না গ্রুপের সদস্যদের হন্য হয়ে খুঁজছে কথিত আরসা, আল ইয়াকিন নামের সন্ত্রাসী গ্রুপ। তাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে গেছে অনেকে। হুমকির মুখে সন্ধ্যা নামলে যুবক শূন্য হয়ে যায় রেজিস্টার্ড ক্যাম্প।

জানা গেছে, র‌্যাব, পুলিশ সহ যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও ক্যাম্প পরিদর্শন করেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

শাহ আলম ও মো. আলম নামে দুই জন রোহিঙ্গা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাঁড়াশি অভিযান চলে। অনেক স্থানে ডোর টু ডোর গেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ যেসব সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন ক্যাম্পে সংঘর্ষের সাথে জড়িত তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আসেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোহিঙ্গা নেতা ভয়েসওয়ার্ল্ডকে জানান, পরিস্থিতি এখনো থমথমে। মুন্না বাহিনীর সব সদস্যদের শেষ (খুন) না করা পর্যন্ত শান্ত হচ্ছে না অন্যান্য সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো। রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের বাইরে গোপনে অবস্থান নিয়ে আছে সন্ত্রাসীরা। যেকোন সময় রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে হামলা করতে প্রস্তুত তারা।

তিনি আরও জানান, মুন্না বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের বাসিন্দা। কথিত আরসা ও আল ইয়াকিন নামের এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে মুন্না বাহিনীর সদস্যরা রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কেউ শহরের দিকে চলে গেছে, আবার কেউ মিয়ানমার সীমান্তের দিকে গেছেন। সন্ধ্যা নেমে আসলে কোন যুবক রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে থাকে না। তারা আত্মগোপনে চলে যায়।

মুন্না বাহিনীর উপর হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মুন্না ও তার বাহিনীর সদস্যরা থাব্বে (দালাল) হিসেবে চিহ্নিত। কথিত আরসা ও আল ইয়াকিন সন্ত্রাসী গ্রুপ এসব দালালদের খুন করতে উদ্যত হয়ে আছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসলে বড় ধরণের ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্না বাহিনীর মুন্না বিয়ে করেছেন রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্প থেকে। রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্প ও আশপাশের আনরেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে মুন্নার একটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে উঠেছে। এই বাহিনী পুরো ক্যাম্পজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য মিশন শুরু করে। এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরসা ও আল ইয়াকিন সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী বাহিনী। এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে থমথমে পরিস্থিতিতে অনেক নিরীহ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছুক। ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছুক এমন রোহিঙ্গার দল ভারী হচ্ছে। এমনকি ভাসানচরে যেতেও রাজি তারা। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে সরকার।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা নয়ন বলেন, দফায় দফায় যে সংঘর্ষ হচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বসেছি। পর্যালোচনা চলছে। আমরা কাজ করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন