• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

দরিয়ানগরে জুনিয়র-সিনিয়র মিলে ইয়াবা কারবার, পলাতকরা ফিরেছে এলাকায়

নিজস্ব প্রতিদেক / ১৪৬৬ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০

আরফাতুল মজিদ:

তিন মাস আগেও আত্মগোপনে ছিল কক্সবাজার দরিয়ানগরস্থ বড়ছড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি। নিজেদের গায়ে ইয়াবা ট্যাবলেটের তকমা লাগায় তারা পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। এখন তারা আবার প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরছে।

শহর থেকে একটু দূরে হওয়ায় এলাকাটি প্রায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে নেই বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এই সুযোগে সেখানে ইয়াবা কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে অনেকে ইয়াবা মামলার আসামীও। অনেকে কারাগার থেকে বের হয়ে জমজমাটভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। দৃশ্যমান কোন আয় না থাকলেও এলাকায় তারা আজ রাজার হালে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়ছড়া এলাকায় কয়েকজন শীর্ষ ইয়াবা কারবারির মধ্যে রয়েছে আবুল কাশেমের ছেলে বদিউল আলম (৩২)। বহু বছর ধরে বড়ছড়া এলাকায় অবস্থান করে রমরমা ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বদিউল আলম। এলাকায় তিনি ইয়াবা ভেন্ডার হিসেবে বেশ পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা মামলাও রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও এখন এলাকায় ফিরেছে এই ইয়াবা ভেন্ডার। বড়ছড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জয়নালও (৩৭) ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ত। এলাকায় বেশ নামডাক রয়েছে লায়লানীর ছেলে জয়নালের। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও ইয়াবার টাকায় এলাকায় আলিশান জীবন যাপন জয়নালের। জয়নালের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলাও আছে।

একই এলাকার খালেকের ছেলে কামাল (২৭), ইকবাল (৩৫), খালেকের বড় ছেলে ঈসমাইলও (৪০) ইয়াবার বড় ভেন্ডার। ঈসমাইল ৬ হাজার ৫০০ ইয়াবাসহ আটক হয়ে এখন কারাগারে রয়েছে।

কাশেম সওদাগরের ছেলে জয়নাল আবেদীন জনি (৩০) ও মায়েন (২৪) ইয়াবা কারবারে জড়িত বলে জনশ্রুতি রয়েছে। একসময় ইয়াবা ট্যাবলেট লুট করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল মায়েন। পুলিশ অনেক খুঁজছিল তাকে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় মায়েনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। সেও এখন এলাকায় ফিরে প্রকাশ্যে ঘুরছে। আব্দু সালামের ছেলে আমির হোসেন (৩৪), মো. জাফরের ছেলে সিএনজি চালক রুবেল (৩৩), আলি হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেনও (২৭) ইয়াবা কারবারে জড়িত। একই এলাকার জামাল হোসেনও বদিউল আলমের ইয়াবা মামলার পার্টনার। জামাল ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েছিল। বর্তমানে এলাকায় ফিরে আবার ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

ইয়াবা কারবার থেমে নেই আব্দুল সালাম বাইলার ছেলে জাকির হোসেন (২৩), ছৈয়দ করিম (২৭), আব্দুল লতিফ ও বর্মায়া নুরুল আলম, মো. শফির ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৫), রুমান, মৃত মো. আলীর ছেলে আনছার, মুফিজুর রহমানের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩৭), নুর আলম (২৫) ও আক্তার কামালের ছেলে হোসেনের (২৪)। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী থাকলেও নুর মোহাম্মদ ইয়াবা ভেন্ডার হিসেবে বেশ পরিচিত এলাকায়।

বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, বড়ছড়া এলাকায় অনেক ইয়াবা কারবারি রয়েছে। নতুন নতুন ইয়াবা ব্যবসায়ী যোগ হচ্ছে এই এলাকায়। সাগর পথ ও মেরিন ড্রাইভ রোড সহজ হওয়ায় ইয়াবা কারবারিরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দরিয়ানগর এলাকা বেঁচে নিয়েছে। বুঝতেও পারবে না কেউ এখানে অর্ধশত ইয়াবা কারবারি অবস্থান করে। গভীররাত হলে ইয়াবা কারবারির দৌড় বেড়ে যায়। অনেকেই দামি গাড়ি ও সিএনজি টেক্সী নিয়ে গভীররাতে এলাকা ইয়াবা মজুদও করে কৌশলে পাচার করে। এমনকি মুফিজুর রহমানের বাড়িটি ইয়াবা মজুদের কারখানা বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। মুফিজের ছেলেরা সিএনজি টেক্সীযোগে গভীররাতে ইয়াবা খালাসের বিষয়টি এলাকার অনেকেই অবগত রয়েছে।

বড়ছড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক নেতা বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যখন পুলিশ বেশি অভিযান চালাচ্ছিল তখন বড়ছড়া ও দরিয়ানগর এলাকার অনেক চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। আত্মগোপন থেকেই ইয়াবা কারবার চালিয়েছিল তারা। টেকনাফে মেজর সিনহা’র ঘটনার পর যখন পুলিশের অভিযান থেমে যায় তখন এলাকায় ফিরেছে এসব মাদক কারবারিরা। এখন তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে আর ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাটভাবে।

তিনি বলেন, বড়ছড়া এলাকায় ইয়াবা ভেন্ডার হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে বদিউল আলম, লায়লানীর ছেলে জয়নাল, কামাল, রুবেল ও নুর মোহাম্মদের। তাদের বিষয়ে পুরো এলাকাবাসী অবগত রয়েছে। ইয়াবার টাকায় তারা এখন এলাকার কিং। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথাও বলতে পারে না। এসব ভেন্ডারদের হাত ধরে অনেক ইয়াবা কারবারির জম্ম হয়েছে বড়ছড়া এলাকায়। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে কারাগারে।

এলাকার সচেতন লোকজনের দাবী- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এসব মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন