কক্সবাজারের টেকনাফে একটি মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে ৯ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে র্যাব-১৫।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার নর্দমা থেকে ঐ মাদ্রাসার ছাত্রী নিহত ফারিহা আক্তার জেরিন (৯) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জেরিন হ্নীলা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড মৌলভী বাজারের ছানা উল্লাহ এর মেয়ে।
এঘটনায় আটক একই মাদ্রাসার ছাত্র মোহাম্মদ ইরফান (২৪), মাদ্রাসাটির ভাইস-প্রিন্সিপাল মুফতি আলী আহমেদের ছেলে।
রাত ৯ টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৫ এর উপ অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল ইসলাম বলেন, ” বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত জেরিন কে প্রলোভন দিয়ে কৌশলে মাদ্রাসার ২২নং কক্ষে নিয়ে আসে ইরফান। বাবার ব্যবহৃত কক্ষ হওয়ায় সেখানে ধর্ষণের ফাঁদ পাতে সে। পরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করার পর রক্তক্ষরণের কারণে ইরফান বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জেরিনকে হত্যা করে নর্দমায় ফেলে দেয়।”
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বিষয়টি ইরফান স্বীকার করে জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ” তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ছাড়াও হত্যাকান্ডের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ”
তিনি আরো বলেন, ” ঘটনার দিন রাতেই হত্যা কান্ডকে অপহরণ বলে সাজাতে নিহতের মায়ের কাছে মুঠোফোনে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে। এর ভিত্তিতে নিহতের পরিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ জানায়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীকে আটক সহ মূল রহস্য উদঘাটন করে র্যাব।”
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং আটক ইরফানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে নিহত জেরিন এর এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেরিনের মা জেসমিন আক্তার বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। কন্যা হত্যার বিচার দাবী করে তিনি বলেন, ” আমি এখনো মেনে নিতে পারছিনা আমার আদরের জেরিন আর নেই, খুনির ফাসি চাই। “