বিশেষ প্রতিবেদন
আবুল কালাম ওরফে বড় দা। কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা। গত দু’বছরে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে বেশ আলোচিত। গোয়েন্দা সংস্থা ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি তালিকায়ও গ্যাং লিডার হিসেবে তার নাম রয়েছে শীর্ষে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা ও ইয়াবা লুটের ঘটনায় তার নাম বেশ পুরাতন কক্সবাজারে।
ইয়াবা কারবারের সূত্র ধরে কক্সবাজার শহর ও বাস টার্মিনাল এলাকায় তার রয়েছে দাপট। বলতে গেলে এক ধরণের ত্রাস এই আবুল কালাম। ইয়াবা ত্রাসের সূত্র ধরে শতাধিক যুবক রয়েছে আবুল কালামের নেতৃত্বে। এরমধ্যে বেশির ভাগ যুবক বাস টার্মিনাল কেন্দ্রিক। রয়েছে টেকপাড়া ও বাহারছড়া কেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী ইয়াবা ও অপহরণ সিন্ডিকেট।
ইয়াবা কারবার ও কিশোরদের নিয়ে সিন্ডিকেটের সূত্র ধরে গত দু’বছর আগেই কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে নাম উঠে তার। কিশোর গ্যাং লিডারের খ্যাতি হিসেবে এই আবুল কালাম এলাকায় ও সিন্ডিকেটের কাছে “বড় দা” হিসেবে বেশ পরিচিত। তবে টেকনাফে সিনহা হত্যাকান্ডের কয়েক মাস আগে থেকেই আত্মগোপনে ছিল এই বড় দা। এরিমধ্যে জেলও কেটেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে জম্ম দিচ্ছে নানান অপর্কম। ইতিমধ্যে একটি হোটেল থেকে টেকনাফের দুই যুবককে অপহরণের পর মুক্তিপণও আদায় করেছে বড় দা ও তার সিন্ডিকেট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইয়াবার স্বর্গরাজ্য দ্বিতীয় টেকনাফ হিসেবে কক্সবাজার বাস টার্মিনালস্থ পূর্ব লাহার পাড়া, পশ্চিম লাহার পাড়া ও ইসলামাবাদ। কক্সবাজার সদরের আলোচিত বেশির ভাগ ইয়াবা ব্যবসায়ির বসবাস অত্র এলাকায় হওয়ায় এলাকার প্রায় পরিবারে সদস্যরা জড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়। সম্প্রতি মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শিথিল হওয়ায় কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক ব্যবসায়ি ও সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি জমজমাটভাবে চলছে মরণনেশা ইয়াবা ব্যবসা। স্থবিরতা কাটিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
আবুল কালাম ওরফে বড়’দা টেকনাফের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড ইসলামাবাদ এলাকার অঘোষিত বাদশা ! যাকে সকলে বড়’দা নামেই চিনে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আবুল কালাম প্রকাশ বড়’দা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার মৃত নুর আহাম্মদ প্রকাশ শিয়াইল্লার পুত্র। সে বিগত ৬ থেকে ৭ বছর আগে ইয়াবা ব্যবসার টাকার জন্য ঝগড়ার এক পর্যায়ে আপন সম্মন্ধিকে খুন করে এক কাপড়ে চলে আসেন কক্সবাজার। কক্সবাজারে এসেই বদলে যায় তার চলাফেরা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ।
আবুল কালাম কক্সবাজার আসার পর ভবঘুরে থাকতে থাকতে পরিচয় হয় তৎ সময়কার ঠুকাই প্রকৃতির কিশোর গ্যং এর সদস্যদের সাথে। ঠুকাইদের সাথে মিশে সে একসময় টার্মিনাল, কলাতলিসহ শহরের বিভিন্ন স্পটে ছিনতাই, চুরি সহ নানা অপরাধে জড়িয়ে যায়। তৎসময় চুরি ছিনতাইয়ের অপরাধের সাথে সাথে শহরের ও টার্মিনাল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এক সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে টেকনাফ থেকে আগত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ইয়াবার চালান লুট ও যাদের কাছে ইয়াবা পাওয়া যেতোনা তাদেরকে ইসলামাবাদ এর ভিতরে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে বেধে নির্যাতন এবং মুক্তিপন আদায় করত। এমন ঘটনা রয়েছে বহু।
দুয়েক বছর ইয়াবা ছিনতাই ও অপহরণ করে আয় করলেও কক্সবাজার ও রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয়ে বনে যান বড় মানের ইয়াবা ব্যবসায়ী। টার্মিনাল এলাকায় জনশ্রুতি আছে টেকনাফের ছেলে হওয়াতে খুব অল্প সময়ে বড় মাপের ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়ে যায় এই বড়’দা।
আবুল কালাম প্রকাশ বড়’দা বেশ কয়েকবার ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে গেলেও ইয়াবার কালো টাকার প্রভাবে জামিনে বের হয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যখন সচল ছিল কক্সবাজার সদর মডেল থানার একজন প্রভাবশালী সোর্স এর মাধ্যমে সম্প্রতি বিদায়ী কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছিল গভীর সখ্যতা।
গভীররাত পর্যন্ত পুলিশের টহল পার্টির সাথেও বিচরণও ছিল এই বড় দা’র। সেই সুবাদে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে ইসলামাবাদে একপ্রকার প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করত। কক্সবাজার পুলিশের সাথে সখ্যতার কারনে দীর্ঘ সময় আরামে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে গেলেও এই বছরের প্রথমের দিকে রাজধানী ঢাকায় ইয়াবা বিক্রি করতে গেলে ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাবাসে ছিল কিছু দিন। কারাবাস থেকে বের হয়েও ছিল আত্মগোপনেও।
আবুল কালাম ৬ থেকে ৭ বছর আগে এক কাপড়ে কক্সবাজারে আসলেও তার এখন অনেক সম্পদ, ইসলামাবাদে জমি কিনে করেছে বাড়ি। রয়েছে গাড়িও! বাড়ি ভিটা ছাড়াও অনেক জমির মালিক সে, এ ছাড়াও ইসলামাদসহ কক্সবাজার শহর জোড়ে গড়ে তুলেছে বিশাল এক সম্রাজ্য। ইসলামাবাদে বসেই চালাই তার সেই সম্রাজ্য, ইসলামাদে বানিয়েছে অনেক বিশ্বস্ত পরিবার যে পরিবার গুলাতে জমা রাখা হয় তার ইয়াবার চালান এবং তাদের কে দিয়ে পাচার করা হয় সেই ইয়াবা।