• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

কলাতলীতে রাসেলের নেতৃত্বে বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট, ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায় লাইফস্টাইল

নিজস্ব প্রতিদেক / ১৫৪০ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৯ মে, ২০২১
কলাতলীতে রাসেলের নেতৃত্বে বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট, ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায় লাইফস্টাইল

আরফাতুল মজিদ:

কক্সবাজার শহরের মধ্যম কলাতলী এলাকার রাসেল (২৮) ওরফে ইয়াবা রাসেল। সিন্ডিকেট করে ইয়াবা কারবার বেশ পুরাতন পেশা তার। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সে জড়িত। মাদক আইনে মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন জেলও কাটেন। গত আট মাস আগে কারাগার থেকে বের হয়ে ফের ইয়াবা কারবার শুরু করে। পুরো কলাতলী এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে রাসেল একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। তার রয়েছে ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকেই ইয়াবা কারবার করে যাচ্ছে নিয়মিত।

ইয়াবাসহ আটক জামালের সাথে সিন্ডিকেট প্রধান রাসেল

শনিবার (৮ মে) সকালে মধ্যম কলাতলীর তার বাড়ি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। এই ঘটনায় তার মা ও ছোটভাইকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন শামসুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০) ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২২)। তবে রাসেল রয়েছে অধরা।

রাসেলের সিন্ডিকেটের একাংশ

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফাতেমা বেগমের বড় ছেলে রাসেল সাগর পথে ইয়াবা এনে পাচার করছিল। তার রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন সদস্যকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে রাসেল সিন্ডিকেটে রয়েছে তার নিজের দুই মামাও। ইতিমধ্যে একজন ইয়াবাসহ আটকও হয়েছিল। এরমধ্যে একজন রয়েছে জামাল। জামাল শহরের আলোচিত ইয়াবা কারবারি। ইয়াবা নিয়ে আটকও হয়েছিল। রয়েছে একাধিক মামলাও। অপরজন দেলোয়ার। তাদের মাধ্যমে ইয়াবা কারবারিতে জড়িয়ে পড়ে রাসেল।

১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ আটক রাসেলের সিন্ডিকেটের সদস্য সাইফুল ইসলাম ও তার মা ফাতেমা বেগম

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে রাসেলের অন্যতম ইয়াবা যোগানদাতা সাহাব উদ্দীন। সাহাব উদ্দীনের বাড়ি টেকনাফে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারের সুবাদে সাহাব উদ্দীন বসবাস করে আসছে রাসেলের এলাকায়। মধ্যম কলাতলী, চন্দ্রিমা এলাকা ও ঝড়ছড়িকুয়া এলাকায় ১০টির অধিক জায়গাও কিনেছে সাহাব উদ্দীন। সাহাব উদ্দীনের একভাইও ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকায় আটক হন। সাহাব উদ্দিন, রাসেল ও জামাল হলো মূল ইয়াবা ট্যাবলেটের গড়ফাদার। সাগর পথে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে খালাস হয় কলাতলীর একটি নৌকার ঘাটিতে। যে ঘাটি দিয়ে ইয়াবা তুলে রাসেলের ঘরে জমা রাখা হয়। যেখান থেকে পুলিশ ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ করে। দীর্ঘদিন ধরে রাসেল এসব ইয়াবা পাচার করতে গড়ে তুলেছে একটি সিন্ডিকেট।

রাসেলের সিন্ডিকেটের সদস্য ইয়াবা কারবারি সাকিব

সিন্ডিকেটের বেশির ভাগ সদস্য অল্প বয়সী। এরমধ্যে রয়েছে দরিয়ানগর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে সাকিব, মধ্যম কলাতলী এলাকার তোহিদুল ইসলাম ও শালিক রেস্টুরেন্টের মালিক নাছিরের ছোট ভাই হেলাল খান। এই তিনজন রাসেল থেকে ইয়াবা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া তাদের সাথে আরো বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তবে রাসেল সিন্ডিকেট থেকে একটি গ্রুপ বর্তমানে আলাদা হয়ে যায় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ছে। যারা আলাদা হয়ে যায় তারাই পুলিশকে তথ্য দিয়েই ১ লাখ ২০ পিস ইয়াবা ধরিয়ে দেয় বলে শনিবার দিনভর এলাকায় গুঞ্জন চলছে।

সিন্ডিকেট প্রধান রাসেল ও তৌহিদ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাসেলের ইয়াবা সিন্ডিকেটটি দীর্ঘ দিনের। কলাতলীর নৌকা ঘাটি দিয়ে ইয়াবা খালাসের বিষয়টি অধিকাংশ লোকজন অবগত ছিল। রাসেলের সাথে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন জড়িত থাকায় ইয়াবার বিষয়ে সহজেই কেউ মুখ খুলছে না। তবে সবার জানা রাসেল একজন ইয়াবা কারবারি। হেলাল খান, সাবিক, জামাল, দেলোয়ার, সাহাব উদ্দিন, গুরা মিয়া, মিঠুন এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। রাসেলের রয়েছে ফিশিং বোটও। যে ফিশিং বোট দিয়ে নিয়মিত সাগর পথে ইয়াবা চালান এনে কলাতলী খালাস করা হয়।

রাসেলের সিন্ডিকেটের সদস্য হেলাল খান

এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, ইয়াবা রাসেলের সিন্ডিকেটে ছিল গুরা মিয়া। সম্প্রতি তারা আলাদা হয়ে যায়। তবে রাসেলের পুরো ইয়াবা কারবারির বিষয়টি জানা ছিল গুরা মিয়ার। গুরা মিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে রাসেলের বাড়ি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুরো এলাকায় প্রচার চলছে। কলাতলীতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি রাসেল সিন্ডিকেটে কারা জড়িত তাদের নামও এলাকার প্রতিটি দোকান, অলিগলিতে ও আড্ডার স্থানে আলোচন চলছে।

ইয়াবা কারবারি সাহাব উৃদ্দিন

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, রাসেল সিন্ডিকেটরা সবসময় একসাথে চলাফেরা করত। কখনো দামি রেস্টুরেন্ট,আবার কখনো আলিশান হোটেল কক্ষে, কখনো নামি-দামি বাইক নিয়ে ঘুরাফেরা কিংবা ইয়াবা সিন্ডিকেটের কারো জম্মদিনে বিশাল পার্টিতে অংশ নিতো। তাদের সাথে সখ্যতা জমাত কলাতলী ও বাহারছড়া এলাকার কিছু বড় ভাইও। যারা ইয়াবা কারবারি হিসেবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে এবং বহু বির্তকির্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন