নিজস্ব প্রতিবেদক:
“আচরন বদলাই, সুস্থ থাকি অন্যকেও সুস্থ রাখি” এই স্লোগানে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কর্মসূচি শুরু করে দেশের অন্যতম এনজিও সংগঠন কোস্ট ট্রাস্ট। আজ ১১ নভেম্বর সকাল ১১ টায় কোস্ট ট্রাস্টের আঞ্চলিক অফিসে করোনার ২য় ঢেউ মোকাবেলার কৌশল নির্ধারণ ও কোস্ট ট্রাস্টের আগামীর কার্যক্রম নিয়ে এক সমন্বয় সভা আয়োজন করে ” Climate Finance Transparency Mechanism ( CFTM) প্রকল্প।
উক্ত সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা. আলী এহসান, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সর উপ সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব নুরুল আমিনসহ আরো অনেকেই,
কোস্ট ট্রাস্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক,সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক টিম লিডার জনাব জাহাঙ্গীর আলম,হিউম্যানিটেরিয়ান রেসপন্সের প্রধান জনাব শাহিনুর ইসলাম, জেলা টিম লিডার জনাব মোঃ আরিফ উল্লাহ, প্রোগ্রাম অফিসার জনাব মং এ থেন এবং ফাইন্যান্স ও এডমিন অফিসার জনাব আবু উফা মোঃ ইব্রাহিম।
সভার শুরুতে কোস্ট ট্রাস্ট সম্পর্কে আলোকপাত করেন হিউম্যানিটারিয়ান রেসপন্সের প্রধান জনাব শাহিনুর ইসলাম, তিনি কোস্ট ট্রাস্টের উৎপত্তি, যাত্রা, ভিশন – মিশন ও বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কোস্ট ট্রাস্টের গৃহীত কার্যক্রম(মার্চ থেকে অক্টোবর) উল্লে্খ করেন। করোনার ভাইরাস মোকাবেলায় এফ টি এম প্রকল্পের সামনের পরিকল্পনাসমূহ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন জেলা টিম লিডার মোঃ আরিফ উল্লাহ।
উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্ব মডারেট করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক টিম লিডার জনাব জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দক্ষতার সাথে সকলের চাহিদা অনুযায়ী সুনিপুণভাবে সকল বিষয় সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন এবং সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা করোনার ২য় ঢেউয়ের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকে পুরুদমে কাজ শুরু করে দিয়েছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব নুরুল আমিন কোস্ট ট্রাস্টের এমন কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রামের মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের মধ্যে এই সচেতনতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে সেই সাথে উঠান বৈঠক বাড়াতে হবে। আমরা সকলেই দেশকে ভালবাসি তাই আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব আলী এহসান বলেন, এখন ধীরে ধীরে শীত বাড়ছে, তাই করোনার ঝুঁকিও বাড়বে। তিনি বলেন আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের সক্ষমতা কম, তাই আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধি পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করার পরামর্শ দেন, সকলকে সার্জিক্যাল মাস্কের পরিবর্তে কাপড়ের মাস্ক পরার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, উঠান বৈঠকে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের সংযুক্ত করলে উঠান বৈঠক আরো ফলপ্রসু হবে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী উপ পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, করোনা মোকাবেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স সবসময় প্রস্তূত। করোনা মোকাবেলার জন্য কোস্ট ট্রাস্টকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতার কথা অঙ্গীকার করেন এবং প্রয়োজনে জনবল ও অনন্যা সেবা দিতে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স প্রস্তুত। তিনি কোস্ট ট্রাস্ট এর কার্যক্রম কে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে কোন ধরনের মানবতার কাজে সহযোগিতার জন্য কক্সাবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর দরজা কোস্ট ট্রাস্ট এর জন্য উন্মুক্ত।
সমাপনী বক্তব্যে কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, বিভিন্ন কারণে আমাদের মধ্যে করোনার ভয় কম কিন্তু আগামীর সময় মোটেও শুভকর নয় যদিনা আমরা এখন থেকে সচেতন হই। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় কোস্ট দাতা সংস্থার অপেক্ষা না নিজেদের ফান্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ায়। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কোস্ট ট্রাস্ট নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেয়। তিনি বলেন, আজকের সভার পরামর্শ আমরা বিবেচনায় নিয়েছি এবং এর উপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের আগামীর পরিকল্পনা প্রস্তুত করবো। তিনি সকলের সুস্থতা কামনা করে সভা সমাপ্ত করেন।