• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে ১৫ কটেজে ফের রমরমা পতিতা ও ইয়াবা কারবার, অভিযানে নামছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিদেক / ৯১৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

সিরাজুল ইসলাম:

কক্সবাজারের কটেজ জোনে পর্যটন ব্যবসার আড়ালে যৌনব্যবসা ও ইয়াবা সেবনকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কটেজে রুম ভাড়া দিয়ে মুক্তিপণ আদায়, মানবপাচার, যৌনব্যবসা ও ইয়াবা সেবন, দিনে দুপুরে জুয়ার আসর বসানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ হচ্ছে এই কটেজ জোনের বেশ কয়েকটি আবাসিক কটেজে। শহরের লাইটস্থ ২০টির মতো কটেজে যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে।

হসব কটেজে দৈনিক হারে অনেক দিন ধরে চলছে টোকেন দিয়ে দেহ ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসা। কিন্তু সর্বশেষ জেলা পুলিশের তৎপরতায় বন্ধ হয়েছিল। তবে পুলিশের গণবদলীর সুযোগে আবারও রমরমা ব্যবসা গড়ে উঠেছে কটেজগুলোতে। দেহ ব্যবসার পাশাপাশি টাকা বেশি হলে একই সাথে সুবিধা থাকে মাদকদ্রব্যেরও।

এসব কটেজগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বছরে ব্যবধানে বেশ কয়েকবার অভিযান চালাতে দেখা যায়। অভিযান যতক্ষণ চলে, শুধুই সেই সময়ের জন্য বন্ধ থাকে অবৈধ ব্যবসা। অভিযান শেষ হতে না হতেই ফের শুরু হয় আগের মতোই নারী আর ইয়াবা সেবনের আড্ডাস্থল। আরনির্ভয়ে এসব ব্যবসা চালিয়ে যেতে তারা প্রতিনিয়ত আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিচ্ছে। প্রশাসনের সোর্স থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদেরও ব্যবহার করছে তাদের ব্যবসা সামাল দিতে।

এদিকে গত ৬ মাস আগেও সদর মডেল থানা পুলিশের নেতৃত্বে ৩০টি কটেজে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৭৩ জনকে আটক করেছিলেন। আটকের পর যাচাই-বাচাই শেষে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে পুলিশ।

স্থানীয়দের তথ্যমতে হোটেল মোটেল জোনে গড়ে ওঠা এসব গেস্টহাউজের বেশিরভাগ ভাড়ায় পরিচালিত হয়। অপরাধীরা মাসিক চুক্তিতে এককালীন ভাড়া নিয়ে সেখানে গড়ে তুলছে ইয়াবার মজুদ। পর্যটন ব্যবসার আড়ালে নিরাপদে ইয়াবার মজুদ তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে দেওয়া হচ্ছে। মোটা অঙ্কের টাকায় আবাসিক গেস্টহাউজ ভাড়া নিয়ে মাদকের এসব আখড়া তৈরি করা হয়। যার ফলে অপহরণ, মানবপাচার, পতিতা ও ইয়াবাসহ অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে রয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটন জোনের আলোচিত একমাত্র কটেজ জোন খ্যাত পতিতা ও মানবপাচারের জোনের এখনো ২০টির মতো কটেজের মালিক-ম্যানেজার মিলে চালিয়ে যাচ্ছে কটেজে রুম ভাড়া দিয়ে মানবপাচার, পতিতা, ইয়াবা ব্যবসা, দিনে দুপুরে জুয়ার আসর বসানো থেকে শুরু করে চলছে ইয়াবা সেবনের আড্ডাস্থল।

একাধিকবার মামলা হলেও যেসব কটেজগুলো অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো, নিউ ঢাকার বাড়ির কটেজের ভাড়াটিয়া মালিক ঈদগাও জব্বর, নাঈমা রিসোর্ট, বেলা ভূমির মালিক মহেশখালীর আসিফ, পুরান ঢাকার বাড়ির মালিক শাহিন প্রঃ পান শাহিন ও তার ম্যানেজার মোঃ সেলিম, প্র. মোসেলিম, পতিতা ব্যবসার আইডল বিয়াই, আলোচিত সী টাউন কটেজের মালিক মহেশখালীর সিরাজ ও তার ম্যানেজার জামাল, আমির ড্রিম কটেজের মালিক বার্মাইয়া আমান উল্লাহও তার ম্যানেজার আব্বাস সহ ২০টির মতো কটেজে সক্রিভাবে চলছে এসব অবৈধ ব্যবসা।

জনৈক নেতার পক্ষ থেকে কটেজজোনের পতিতার ডেরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে ঈদগাঁও এলাকার আইমান। তিনি বর্তমানে কলাতলীতে বসবাস করে।

সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সেলিম উদ্দিন বলেন, কটেজ জোনের বেশ কয়েকটি কটেজে অপকর্মের কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। মানবপাচার-ইয়াবা ও পতিতা ব্যবসায় অভিযুক্ত কটেজগুলোর ব্যপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক আইনের উর্ধ্বে নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন