কক্সবাজারের উখিয়ায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহর একান্ত সহকারী ও অর্থ সমন্বয়ক এরশাদ নোমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান।
এর আগে রবিবার রাতে উপজেলার কুতুপালং থেকে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এরশাদ নোমান চৌধুরীর বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ জানান, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজারসংলগ্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাবের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের আক্রমণে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদী নিহত হন। আহত হন র্যাব সদস্য কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়া। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাব নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী হাফেজ নুর মোহাম্মদকে গত ২১ জুলাই এবং রহিমুল্লাহ প্রকাশ মুছাকে ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নোমান ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বরের ঘটনায় অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। সে জানিয়েছে, আমেরিকা প্রবাসী বাবার মাধ্যমে আরসা প্রধান আতাউল্লাহর সঙ্গে তার পরিচয়। পরে আরসার হয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে কাজ করার ফলস্বরূপ আতাউল্লাহ তাকে তার একান্ত সহকারী ও সার্বক্ষণিক অস্ত্রধারী বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ ছাড়াও হুন্ডির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরসার জন্য প্রেরিত অর্থের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রাপ্ত অর্থ আরসার বিভিন্ন ক্যাম্প কমান্ডারদের মাঝে পৌঁছে দেয় বলেও সে স্বীকার করেছে।
নোমানকে উখিয়া থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র্যাব অধিনায়ক।