• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করতে কতটা প্রস্তুত?

নিজস্ব প্রতিদেক / ৯৮৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মো. পারভেজ মাহমুদ নিলয়:

উদ্ভুত করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ‘অনলাইনে শিক্ষা-কার্যক্রম ‘৷ বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে আজও দ্রুত গতির ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক পাওয়া দুষ্কর । কাগজে কলমে ৩জি কিংবা ৪জির আবেগ ও সুললিত কন্ঠের বিজ্ঞাপন থাকলেও ,বাস্তবে ফোন ঠিক ভাবে কথা বলার নেটওয়ার্কই থাকে না। খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের অনেক জায়গায় ৩জি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

গ্রামাঞ্চলে মানুষদের নেটওয়ার্ক পেতে ঘরের বাইরে রাস্তায় গিয়ে বসতে হয়। এখন রাস্তায় চেয়ার-টেবিল পেতে বই,খাতা, কলম নিয়ে পড়াশোনা করতে বসা তো সম্ভব নয়। তবে ঐতো মানুষ বান্ধব শিক্ষা না হলে জোর করে গেলো, পড়, খাও এ রীতি থাকবেই। তাই অসম্ভবের দেশে সম্ভব বলাটা উন্নত শিক্ষাগ্রহিতা হিসেবে তকমা পাওয়া যায়।

দেশের বহু শিক্ষার্থীর কাছে এখনো নেই স্মার্টফোন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বল্প আয় করে এমন পরিবারের শিক্ষার্থীরা বা তাদের বাবা-মা ব্যবহার করেন মুঠোফোন । এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা যাদের কাছে এসব সুবিধা নেই অনলাইন ক্লাস করার,তাদের কি হবে?তাদের শিক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিবে?

শহরের স্কুল-কলেজ এর শিক্ষার্থীরা কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা না হয় সম্পূর্ণ রূপে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারলো।কিন্তু এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা,তাদের কি ব্যবস্থা হবে ?বাংলাদেশ এর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এই গ্রামাঞ্চল কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসে। যারা এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে তারা কিভাবে অংশগ্রহণ করবে এই শিক্ষা কার্যক্রমে?

শিক্ষার মূল লক্ষ্যই তো হলো সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই যে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে অনলাইনে ক্লাস করে, পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার শেষ করে ফেলছে সেখানে একি শিক্ষাবর্ষের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অংশ পিছিয়ে পড়ছে।

অনলাইন ক্লাস গুলো করার জন্য মাসে মাসে মোটা টাকা দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়া কিংবা প্রতিদিন এর ক্লাস এর জন্য ভুড়ি ভুড়ি ডাটা প্যাকেজ কেনার আর্থিক সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই, করোনার কারণে যা আরো কমেছে।

আমাদের দেশে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এর আরেকটি প্রধান অন্তরায় হলো শিক্ষকদের অনভিজ্ঞতা।দেশের বহু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাই এখনো প্রযুক্তিজ্ঞান এ স্বয়ংসম্পূর্ণ না।কিভাবে একটি অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে তাঁদের সীমাবদ্ধতা আছে৷

এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী এই অনলাইন ক্লাস কে থোরাই কেয়ার করছে। ক্লাস এর সময় অডিও-ভিডিও বন্ধ করে অন্য কাজ করছে, শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তে ক্লাস এ জয়েন করছে।
আদতে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম যেন দেশের শিক্ষাব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটাই হলো আমরা ঠিক কতটা প্রস্তুত এই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা কে গ্ৰহণ বা আপন করে নিতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্যান্য সকল গবেষণায় এটা স্পষ্ট যে সহসাই এই কোভিড-১৯ ভাইরাস পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছে না। এখনো কোনো ভ্যাকসিন সম্পূর্ণরূপে সফল হয় নি।আর সফল হওয়ার পরও কবে নাগাদ বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য হয়তো আরো অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু তাতে শিক্ষাদান বন্ধ থাকলে তো পিছিয়ে পড়বে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মই। তাই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে শতভাগ অনলাইন শিক্ষা। দেশের প্রতিটি ঘরের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন অনলাইন শিক্ষার সুফল ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।যতদিন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারছি না ততদিন বলতে পারবো না অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে জন্য আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

সকল সীমাবদ্ধতা দ্রুত সমাধান, ক্লাস পর্যবেক্ষণ, তদারকি, কমদামে ইন্টারনেট সেবা, স্মার্টফোন ব্যবস্থা, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হলেই তবে আমরা অনলাইনে পাঠদান গ্রহন করতে পারব। অন্যথায় সব অন্তঃসারশূন্য।

লেখক- শিক্ষার্থী, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন