নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাকালীন কক্সবাজারে নিয়োগ পাওয়া সেবিকারা (নার্স) বেতন পাচ্ছে না ৪ মাস ধরে। করোনা সংকটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করেও চরম অর্থাভাবে রয়েছে তারা।
জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য ২০০০ চিকিৎসক ও ৫০৫৪ নার্স নিয়োগ দেন। তাদের বেতন-ভাতা সংকট না হওয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দিয়েছেন। গত ১৩ মে থেকে কক্সবাজারে যোগ দেয় নার্সরা।
নিয়োগের পর থেকে তারা নিজের জীবনের মায়া ছেড়ে অন্যদের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়। কিন্তু তারাই ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও বেতন বোনাস কিছুই পাননি।
নার্সদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, রোগীদের মুখে হাসি ফুটলে আমরা তৃপ্ত। চাকুরীতে যেহেতু যোগদান করেছি বেতন-ভাতা একদিন হবে। সেই আশায় আছি। তাই বেতনের দিকে না তাকিয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এতে মৃত্যু হলেও কোন দুঃখ নেই।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে আইসিও এইচডিও রেডজোন ইয়োলো জোন ও আইসোলেশনসহ সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন করোনা রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া হাসপাতালে অন্যান্য বিভাগ মিলিয়ে ৪০০-৪৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে।
কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করছেন নার্সরা। তারা কখনো এ রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক করে দিচ্ছেন কিংবা ওই রোগীর পাল্স, অক্সিজেন সেচুরেশন মেপে নোট লিখছেন। আবার ছুটে যাচ্ছেন অন্য কোন রোগীর কাছে স্যালাইন বা ইনজেকশন পুশ করতে।
কোন রোগী খারাপ হয়ে গেলে সাথে সাথে চিকিৎসককে অবহিত করছেন। তারা সকলেই পরিবারের বাকী সদস্যদের কাছ থেকে আলাদা থাকেন।
নাসরিন নামের এক নার্স (ছদ্মনাম) জানান, যোগদানের পর থেকে এখনও বেতন ভাতা পায়নি। আমাদের সাথে নিয়োগ হওয়া দেশের অন্যান্য স্থানে নার্সরা বেতন পেলেও আমরা পাইনি এখনো। যোগদানের পর থেকে এখনো বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের খরচ চালিয়ে যাচ্ছি।