• শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

জামায়াত অফিসে ধর্ষণের শিকার কুকুর

নিজস্ব প্রতিদেক / ১২৯৪৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০
কুকুরের প্রতি বর্বরতা।

বিশেষ প্রতিনিধি:

এ যেন মানুষরূপি জানোয়ার। জামায়াতের অফিসের ভিতরে একটি কুকুরকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছে এক নরপশু। কুকুরকে ধর্ষণের ভিডিও ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত প্রায় ১৩ দিন আগে হাসপাতাল সড়কস্থ কক্সবাজার জেলা জামায়াতের অফিসে একটি কুকুরকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে রহমত উল্লাহ (৫০) নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার পর পরই চম্পট দেন লম্পট রহমত উল্লাহ।

মামার বাড়ি রেস্তোরার কর্মচারী ধর্ষক রহমত উল্লাহ। রেস্তোরা পেছনে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের অফিস।

এদিকে এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর পশুর প্রতি নৃশংসতায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ধর্ষকের কঠোর শাস্তি দাবী করছেন সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রহমত উল্লাহ নামে ওই ধর্ষক জেলা জামায়াত অফিস সংলগ্ন মামার বাড়ি রেস্তোরার কর্মচারী। মামার বাড়ি রেস্তোরার মালিক পেকুয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতা শহিদুল ইসলাম ও মহেশখালীর মো. মামুন। রহমত উল্লাহ ওই রেস্তোরায় থালা বাসন পরিস্কারের কাজ করেন এবং পাশাপাশি পাহারাদারের কাজও করতেন।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত কয়েকদিন আগে (১৬ জুন) জামায়াত অফিসের ভিতর একটি কুকুরকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে রহমত উল্লাহ। জামায়াত অফিসের মূল গেইট খুলে সেখানে কুকুরটি নিয়ে যান তিনি। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানাজানি হলে ধর্ষক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। ওই ধর্ষক মামার বাড়ি রেস্তোরায় কর্মচারী হিসেবে আছেন। লকডাউনে রেস্তোরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে পাহারদার হিসেবে ছিলেন তিনি।

জামায়াত অফিসের মূল দরজার সামনে এখানে ধর্ষণ করা হয় কুকুরকে।

মামার বাড়ি রেস্তোরার মালিক মো. মামুন বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। খুবই নেক্কারজনক ঘটনা। আমার মুখে আনতেও খারাপ লাগছে।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ এড়াতে গত ২৪ মার্চ থেকে রেস্তোরা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন সব কর্মচারীকে বেতন দিয়ে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে কোন কর্মচারী কোথায় কি করছে সেই বিষয়ে খবর রাখেননি তারা।

রহমত উল্লাহ বর্তমানে রেস্তোরায় কর্মরত নেই বলে মামুন দাবী করলেও স্থানীয়রা দাবী করেন, সবাইকে ছুটি দিলেও রহমত উল্লাহকে ছুটি দেওয়া হয়নি। লকডাউনে বন্ধ হওয়ার পর থেকে রহমত উল্লাহ মামার বাড়ি রেস্তোরাটি পাহারা দিতেন। তার কাছে রেস্তোরা ও জামায়াত অফিসের গেইটের চাবি ছিল। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তিনি উধাও।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রহমত উল্লাহ মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নয় দাবী করে মামুন বলেন, ‘তিনি (রহমত) ছোট বেলা থেকে বিকৃত মানসিকতার এবং অসুস্থ। মাঝেমধ্যে চিকিৎসাও করেন। রেস্তোরায় রহমত থালা-বাসন পরিস্কারের কাজ করেন। লকডাউনে বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি (রহমত) ছুটিতে চলে গেছেন।

রহমত উল্লাহ’র পৈত্রিক বাড়ি মহেশখালীর মাতারবাড়িতে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নে থাকেন।

মামার বাড়ি রেস্তোরার আরেক মালিক জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতা ও পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমিও মালিক পক্ষের একজন। কিন্তু এটি দেখাশুনা করে মামুন। এই নেক্কারজনক ঘটনা সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। রহমত উল্লাহ মামুনের নিকটাত্মীয় বলে দাবী করেন তিনি।”

কক্সবাজার জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ খবর নিয়ে যেটা করুণীয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন