কক্সবাজারের চকরিয়া, উখিয়া ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা মা-মেয়েসহ পৃথক ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সহোদর দুই শিশুও রয়েছেন। সোমবার (৭ আগষ্ট) বিকেলে এঘটনা ঘটে। একইদিন দুপুরে মহেশখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোর নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ৩ ও ৫ বয়সী দুই শিশুসন্তান। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার বিকালে বরইতলী ইউনিয়নে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আনোয়ার হোসেনের ঘরের দেয়ালে পাহাড় ধসে তার দুই শিশুসন্তান চাপা পড়ে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। মরদেহ দুটি তাদের বাড়িতে রয়েছে।
একইদিন উখিয়ারর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৯ নং ক্যাম্পের এ/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে জান্নাত আরা ও তার মেয়ে মাহিম আক্তার নিহত হন। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহত জান্নাত আরার স্বামী আনোয়ার ইসলাম।
উখিয়া ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কমান্ডিং অফিসার মো. আমির জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উখিয়ার পানবাজার এলাকার ৯ নং ক্যাম্পের এ/৬ ব্লকে রোহিঙ্গা আনোয়ার ইসলামের বাসার শেডের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। খবর পেয়ে পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মাটির নিচ থেকে জান্নাত আরা ও তার শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, নিহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্প এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইয়াছিন মামুন (১৬) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় উপজেলার মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়াছিন মামুন মহেশখালী পৌরসভার কলেজ পাড়া এলাকার রফিকের ছেলে। সে লিডারশীপ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের খরচ যোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি টমটম চালায় শিক্ষার্থী ইয়াছিন মামুন। দুপুরে টমটম গাড়িতে চার্জ দিতে গেলে সেখানেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) তাজ উদ্দীন বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু হয়েছে শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।