নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। চিহ্নিত পাহাড়খেকোরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে প্রকাশ্যে দিনে রাতে মাটি বিক্রি করে আসলেও বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা-উপজেলা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকায় বিশাল পাহাড় কেটে দিনে-রাতে ডাম্পার দিয়ে মাটি বিক্রি করছেন খুরুশকুলের তেতৈয়ার হেলাল উদ্দিন, মনিউল হক, আবছার, কায়ছার, মামুন, ও কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার নাছির উদ্দিন রুনোর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট।
এছাড়া তেতৈয়া, আদর্শগ্রাম, ঘোনাপাড়া, রুহুল্লার ডেইল, ডেইলপাড়া, মেহেদীপাড়া, নতুন ঘোনাপাড়া, ফকিরের দোকান সহ বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটটি ১০/১২ টি ডাম্পার নিয়ে দেদারসে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে। পাহাড়ের মাটি নিচু জমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক মামলা থাকলেও বর্তমানে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটছে বলে অভিযোগ। ফলে তাদের বিরুদ্ধে এখন আর মামলা হচ্ছে না। যার কারণে পাহাড় কাটা বাড়ছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের পিএমখালী রেঞ্জের খুরুশকুল বন বিটের বিট কর্মকর্তা মাসুম মাদবর বলেন, ‘অনেকেই রাতে পাহাড় কাটছে। খবর পেলেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না।’
পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘হাতেগোনা ৭/৮ জন মানুষের হাতে পুরো খুরুশকুল ইউনিয়নের পাহাড় শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাহাড় কর্তনে জড়িত মাত্র কয়েকজন অপরাধীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকারি প্রশাসন। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে এসব অপরাধ কমতে বাধ্য। কিন্তু কেন পাহাড় কাটা থামানো যাচ্ছে না তা প্রশ্ন তৈরী করেছে।’ পাহাড় কর্তনকারী সিন্ডিকেট সদস্য মনিউল হকের বক্তব্যের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।